somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবাক কান্ড আওয়ামীলীগে যুদ্ধাপরাধী ???

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভারতের সহযোগীতায় স্বাধীনতার পথে গেলেও অন্য একটি অংশ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেননি। সে সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। আওয়ামী লীগের ভিতর থাকা কথিত যুদ্ধাপরাধীর প্রথম তালিকঃ-

মালেক মন্ত্রী সভায় আওয়ামী লীগ যোগ দিয়েছিলঃ-
১৯৭০ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর তৈরি মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

বর্তমান আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সংসদে বলেছেন ১৯৭০ সালে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ৪৩ জন এমএনএ স্বাধীনতা বিরোধী ছিলঃ-
গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০ ইং তারিখে আওয়ামী লীগ সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল তারকা চিহ্নিত (১১৫ নং) প্রশ্নের মাধ্যমে জিজ্ঞেস করেন, “এটা সত্য কিনা যে, ১৯৭০ সালে তৎকালীন জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ৭১ এ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য কতিপয় সদস্যদের সদস্য পদ স্বাধীন বাংলাদেশে গণপরিষদ গঠনকালে বাতিল করা হয়েছিল। উত্তর হাঁ হলে বাতিলকৃত সদস্যদের নাম ও নির্বাচনী এলাকার নাম কি?”

জবাবে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, “হ্যাঁ, ময়নমনসিংহ থেকে নুরুল আমিন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে মেজর রাজা ত্রিবিদ রায় তদানীন্তন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ ১৯৭২-এর ৪ অনুচ্ছেদ কার্যকরি হওয়ার ফলে তারা বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য নন। তারা ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর তারিখে একটি বিদেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাই তারা কখনই বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য ছিলেন না।

এছাড়া গণপরিষদ সদস্যদের মধ্য হতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হতে মোট ৪৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হচ্ছে- মোঃ হাবিবুর রহমান, সৈয়দ হোসেন মনসুর, মোঃ আব্দুল গফ্ফার, আবুল কালাম ফয়জুল হক, এবিএম নুরুল ইসলাম, আজমাদ হোসেন খান, মোঃ নুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, মোঃ ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, একেএম মাহাবুবুল ইসলাম, মোঃ সাঈদ, মোশাররফ হোসেন, আক্তারুজ্জামান, সৈয়দ বদরুজ্জামান, ডাঃ আবুল হাশেম, অধ্যাপক শামসুল হক, মোঃ আবদুল বারেক, ডাঃ আজহার উদ্দিন আহমেদ, গোলাম আহাদ চৌধুরী, এ হাদী তালুকদার, আদিল উদ্দিন আহমেদ এডভোকেট, মুজিবুর রহমান তালুকদার, শামসুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আব্দুল মালেক, ডাঃ আবু সোলায়মান মন্ডল, ডাঃ জাহিদুর রহমান, তাহেরুল ইসলাম খান, রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ, মোঃ আব্দুস সালাম, কেবিএম আবু হেনা, জহুরুল হক, মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রহমান খান, কাজী হেদায়েত হোসেন, আব্দুল হাকিম মাস্টার, মোঃ সাজেদ আলী মিয়া, মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, ডাঃ কাজী সিরাজউদ্দিন আহমেদ, গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ হাশেম, এম. সাখাওয়াতুল্লাহ এডভোকেট, মীর্জা আবু মনসুর এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী।”

টিক্কা খাঁর তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ৮৮ জন এমএনএ স্বাধীনতা বিরোধী ছিলঃ-
বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রীর সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৭০ সালে নির্বাচিত ১৬৭ জন এমএনএ থেকে ৪৩ জনই ছিল ঘাতক-দালাল-যুদ্ধাপরাধী। আবার তৎকালীন টিক্কা খাঁ সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ৮৮ জন এমএনএ টিক্কা খাঁর আনুগত্য স্বীকার করে সরাসরি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তার মধ্যে সাজেদা চৌধুরীও ছিল। এই ৮৮জনের আসন ছাড়া বাকী গুলো শূণ্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচন করা হয়েছিল।

অর্থাৎ বর্তমান আইনমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ৪৩ জন এমএনএ প্রমাণিত ঘাতক-দালাল-যুদ্ধাপরাধী। আবার টিক্কা খাঁর দলিল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ৮৮ জন এমএনএ ছিল ঘাতক-দালাল-যুদ্ধাপরাধী।

প্রাদেশিক আসনের আওয়ামী লীগের অনেক এমপিএ স্বাধীনতা বিরোধী ছিলঃ-
শুধু এমএনএ মাঝে স্বাধীনতা বিরোধী ছিল তা নয়, আওয়ামী লীগের অনেক এমপিএ স্বাধীনতা বিরোধী-ঘাতক-দালাল ছিল। যেমন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মুজিবুর রহমান তালুকদার (পটুয়াখালী, তিনি বর্তমানেও আওয়ামী লীগের সাংসদ), মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী (যশোর), হাবিবুর রহমান খান (খুলনা), মো. হাবিবুর রহমান (বগুড়া), জহির উদ্দিন (ঢাকা), লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)।

দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় উপরোক্ত নেতাদের স্বাধীনতা বিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নেননি, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতাও করেছিল।

বর্তমান আ্ওয়ামী লীগ নেতা অনেকের আত্মীয়স্বজন স্বাধীনতা বিরোধী ছিলঃ-
আওয়ামী লীগের আত্মীয়স্বজনের মাঝেও যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা কম নয়। যেমন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের বেয়াই মুসা-বিন শমসের, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজমের বাবা মীর্জা কাশেম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের শ্বশুর বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও উনার পিতা ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা খন্দকার নুরুল হোসেন নুরু মিয়া। আরো অনেকের নাম পরে আসবে।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী ছিল ও আছেঃ--
১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম জামালপুরের সরিষাবাড়ির রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তিনি দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আরেক মন্ত্রী এ কে ফায়জুল হক দালাল আইনে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

সকল দল ও মতে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলঃ-
১৩ নভেম্বর ২০০৭ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, “এখনকার পত্রিকা পড়লে মনে হবে, শুধু মুসলিম লীগ, জামায়াত বা নেজামে ইসলামীর লোকেরাই পাকিস্থানের দালাল ছিল। বস্তুত সব শ্রেণী ও গোষ্ঠীর মধ্যেই পাকিস্থানের সহযোগী ছিল। আবদুল হক তাঁর কমিউনিষ্ট পার্টির নামের সঙ্গে বাংলাদেশ হওয়ার পরও ‘পূর্ব পাকিস্থানই’ রেখে দেন। অত্যন্ত ‘প্রগতিশীল’ বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ পাকিস্থানিদের সহযোগীতা করেছেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত না হলে, আর বছরখানেক টিক্কা খাঁরা বাংলাদেশ দখল করে রাখতে পারলে অনেক শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিকে আজ মানুষ ভিন্ন পরিচয়ে জানত।” কবির চৌধুরী ও তার ভাই মুনির চৌধুরী সহ তাদের পুরো পরিবার স্বাধীনতা বিরোধী ছিল। চীনপন্থী কমিউনিষ্ট দল ও বুদ্ধিজীবিরা শুধু স্বাধীনতা বিরোধী ছিল তা নয় দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বাংলাদেশের বিপক্ষে সশস্ত্র যুদ্ধও করে চলেছিল। কিন্তু তারা কেউ আজ অপরাধী নয়! কেন আজ তারা অপরাধী নয়? তারা কি আজ আওয়ামী লীগ করে বলে? আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে?

সুত্রঃ পুস্পিতা, সোনার বাংলাদেশ ব্লগ।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুভেচ্ছা জানালেন নাকি ডিলের কথা মনে করিয়ে দিলেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠির বাংলা

হোয়াইট হাউস
ওয়াশিংটন
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মহামান্য তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
ঢাকা।

প্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভের জন্য অভিনন্দন জানাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র | ডঃ এম এ আলী

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৩

গানের লিংক - Click This Link
(গানটিতে মাইকেল জ্যাকসনের 'বিট ইট' গানের একটি পিস ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি, সবার ভালো লাগবে।)



অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেদুইন: আরবের বালুর বুকে লেখা ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮


বালুর ঢেউ যেখানে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে
সেখানে জন্ম নেয় মানুষ
যাদের ঘর ছিল দিগন্ত
আর ছাদ ছিল নক্ষত্রভরা রাত।

তারা বেদুইন
মরুর সন্তান, বাতাসের সাথী
তৃষ্ণার মাঝেও যাদের হৃদয়
অতিথির জন্য ঝরাতো মধুর হাসি।

খেজুরগাছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

CONTROL YOUR TONGUE...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪


১. অনেকদিন আগে আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, “ঘুষকে ঘুষ বলা যাবে না, বলতে হবে স্পিড মানি”। গতকাল বিএনপি’র সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১



আলহামদুলিল্লাহ প্রথম রোজা ডান!
সন্ধ্যায় এলোমেলো খাবার খাওয়ার কারণে ইফতারের পর শরীরটা আমার খারাপ লেগেছে। আই ফিল ব্যাড। শরবতে এত চিনি দিয়েছে যে, মনে হয়েছে রসোগোল্লার সিরা। এলোমেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×