আমার প্রিয় পোস্ট

নিজেরে হারায়ে খুজি..... bohurupi.mohajon@gmail.com

মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব)

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৭

শেয়ারঃ
0 2 1

আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকদের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা আছে যে দেশের উন্নয়নে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিদের বিনিয়োগের একটা বড় অবদান আছে। অন্ততঃ তাদের কথা-বার্তাতে তাই মনে হয়। বিদেশী প্রভুদের ও এমনটাই উপদেশ। তাই যখনই কোন সরকার প্রধান বিদেশে যান তখন সেখানকার বিনিয়োগকারীদের নানান ভাবে হাতে পায়ে ধরে বলে আসেন যে এখানে যেন একটু বিনিয়োগ করে; সে যে ধরণের বিনিয়োগই হোক না কেন। আর কোন বিদেশী বিনিয়োগকারী যদি খালি দেশে আসে তাহলেই সেরেছে, কোথায় রেখে কোথায় বসাই এমন অবস্থা। বিদেশী কোম্পানি গুলোও সুযোগ বুঝে নানান আব্দার জুড়ে দেয়....এটা দিতে হবে, ওটা করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

মানি যে বিদেশী বিনিয়োগ একটা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে যদি তা ঠিক ভাবে ঠিক জায়গায় ব্যবহৃত হয়। তাই বলে যে কোন বিদেশী বিনিয়োগকেই চোখবুজে খাতির করতে হবে!! এটা কোন ধরণের যুক্তি যে আমাদের দেশীয় কোম্পানি গুলো যেখানে ভাল করছে সেখানে শুধু শুধু অন্যায়ভাবে বেশী সুবিধা দিয়ে বিদেশীদের আনতে হবে!

আসুন একটি চিত্রকল্পের মাধ্যমে দেখি অপরিকল্পীত বিদেশী বিনিয়োগ আমাদের কি উপকার করছে!!!!!

আমরা বিভিন্নধরণের কিছু মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিকে নিয়ে একটি হাইপোথেটিক্যাল সিনারিও দাড় করাই। এখানে আমারা গ্যাস সেক্টর নিয়ে আলোচনা করব।

১. ধরি আমাদের বাপেক্স এর একটি আবিস্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র আমরা বিদেশী কোন এনার্জি কোম্পানিকে নাম মাত্র মূল্যে দিয়ে দিলাম এবং গ্যাস ক্ষেত্রটিতে ১০০ টাকার গ্যাস মওজুদ আছে। এখানে সরকারের অংশ থাকে মাত্র ৬ শতাংশ (আসলেই)। তাই ইজারাবাবদ প্রাপ্ত অর্থের জন্য আরও ৪ শতাংশ বাদ দেই। তাহলে প্রথমেই আমরা বিদেশী মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিকে ৯০ টাকা দিয়ে দিলাম প্রকৃত কোন লাভ ছাড়াই।

২. এনার্জি কোম্পানিটি গ্যাস তুলে তা সরকারের কাছেই বিক্রি করবে কেননা গ্যাস রপ্তানি করা যায় না। এক্ষেত্রে আমাদের মোটামুটি আর্ন্তজাতিক মূল্যেই গ্যাস কিনতে হয়। ধরি উৎপাদনের পর ৯০ টাকার গ্যাসের দাম ১৫০ টাকা। তাহলে আমাদের মোট খরচ হচ্ছে ৯০ + ১৫০ = ২৪০ টাকা।

৩. বিদেশী এনার্জি কোম্পানির কাছ থেকে কেনা গ্যাস দিয়ে এবার বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ধরি গ্যাসের দাম বাদে অন্যান্য মোট উৎপাদন খরচ ৫০ টাকা। তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাবদ লাগছে ২০০ টাকা। এ বিদ্যুৎ আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা প্রকৃত খরচের চেয়ে কম দামে সরকারের কাছ থেকে কিনি। মানে সরকার এখানে ভর্তুকি দিচ্ছে। আমাদের মত বিদেশী মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও কিন্তু এ সুবিধা পাচ্ছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের দেশীয় কোম্পানি গুলোর চাইতেও অনেক কম দামে বিদ্যুৎ পায় । ধরি ২০০ টাকার বিদ্যুৎ তারা কিনছে ১০০ টাকায়। প্রকৃত ভর্তুকির পরিমান যদিও আরও বেশী হয়ে থাকে; প্লাস নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের আব্দারও করে এবং পায়ও অনেকে। এখানে বিদ্যুৎ বাবদ বিদেশী কোম্পানিগুলোর পেছনে খরচ হচ্ছে ১০০ টাকা।

এখন মোট খরচ দাড়ালো ৯০+১৫০+১০০=৩৪০...!

৪. আরও আছে! বিদ্যুৎ বা গ্যাস দিয়ে যে পণ্য উৎপাদন হবে, যেমন সার বা অন্য কিছু , তাও আমাদের এখানেই বেচবে এবং আর্ন্তজাতিক দামেই বেচবে। ধরি উৎপাদিত পণ্যের বা সারের দাম ২০০ টাকা। এখন দেখি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো পোষর জন্য আমাদের মোট কত টাকা খরচ হল? বেশি না..... ৯০+১৫০+১০০+২০০=৫৪০ টাকা।

এর বদলে আমরা কি পেলাম? আর্ন্তজাতিক দামে কেনা ২০০ টাকার সার বা অন্য কোন পণ্য। এটা কিন্তু আমরা সহজেই এই দামে আমদানি করতে পারতাম, ধরি পরিবহণ খরচ ২০ টাকা, তাহলে আমদানি করতে খরচ পড়তো ২২০ টাকা। আমাদের বেশি খরচ হচ্ছে ৫৪০ - ২২০ = ৩২০ টাকা।

আর মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি আনার সুফল কি? কোন বাড়তি লাভ ছাড়াই ৫৪০ টাকার দেনা!! এ টাকা আমরা গার্মেন্টেসে সুই ফুটিয়ে, আমাদের ধানী জমিতে চিংড়ি চাষ করে শোধ দেব।

বি:দ্র: আগে বাপেক্স আমাদের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৯০ ভাগ উৎপাদন করতো। আর এখন তা ৫৬ ভাগে নেমে এসেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমে যাবে। তখন আমাদের নিজেদের সম্পদ ব্যবহার করার জন্যও বিদেশী কোম্পানি গুলোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।

আমার হিসাবের এসাম্পশনগুলো যতটা সম্ভব বাস্তবতার কাছাকাছি রাখতে চেষ্টা করেছি। প্রকৃত ডেটা পাওয়া গেলে আরও ভালভাবে হিসাবটি করা যেত। তবে এটা বাস্তবের অনেকটাই কাছাকাছি।

প্রকৃত ডেটা লুকায়ে রাখে....।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সারাদিন  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: লেখাটা কি বেশী কটমটে হয়ে গেল নাকি?

২. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৮
দিনমজুর বলেছেন:

কিছু জায়গায় দ্বিমত থাকলেও- গ্যাস সেক্টরে বিনিয়োগের যে হিসাবটি তুলে ধরেছেন- সেটি খুব চমতকার হয়েছে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

আশা করি- আমার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে পোস্ট গুলো পড়বেন এবং মতামত দিবেন.......

অর্থনীতির সহজ পাঠঃ বিষয়- বিদেশি বিনিয়োগ
Click This Link

সিরিয়াস পোস্টঃ বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্পর্কিত চাপাবাজি
Click This Link

মোবাইলের একটা কল মানে...........
Click This Link
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: দ্বিমত গুলো জানালে খুব খুশি হতাম। হয়তো আমার ও কিছু ভুল ভ্রান্তি আছে, থাকতেই পারে। সেটা জানলে শুধরে নেয়া যেতো...

৩. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:০১
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: @দিন মজুর, আপনার লেখা গুলো অবশ্যই সময় করে পড়বো। ধন্যবাদ।
৪. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:২২
দিনমজুর বলেছেন:
মানি যে বিদেশী বিনিয়োগ একটা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে যদি তা ঠিক ভাবে ঠিক জায়গায় ব্যবহৃত হয়। ..........

আসুন একটি চিত্রকল্পের মাধ্যমে দেখি অপরিকল্পীত বিদেশী বিনিয়োগ আমাদের কি উপকার করছে!!!!! ........

একয় জায়গায় দ্বিমত আছে.....

আমার পোস্টগুলো পড়লে- আমার অবস্থান বুঝতে পারবেন।


ঠিক জায়গায় ব্যবহৃত হলে বা পরিকল্পিত বিনিয়োগ কিভাবে দেশীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে??? একটু ব্যাখ্যা করবেন কি???


০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:১৭

লেখক বলেছেন: আপনার লেখাগুলো পড়লাম। ভাল হয়েছে। আসলে ইকনোমিক ভ্যালু এডেড বিষয়টা বেশ খটমটে। সবার বুঝার সুবিধার্থে বেশি ডিটেইলসে যাওয়া হয় নি।
আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সেক্টরে অপরিকল্পীত বিনিয়োগের ফলাফল সবাইকে বুঝানো। আমি আবারও বলছি অপরিকল্পীত বিনিয়োগ। এক্ষেত্রে আমার নিজস্ব অবস্থান আছে। এটা কারও দ্বারা প্রভাবিত নয়। আপনার ও যে নিজস্ব একটা অবস্থান আছে তা দেখে ভাল লাগল।
যদি সময় হয় অবশ্যই আমি আমার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করব। পড়বেন আশা করছি।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:১৯

লেখক বলেছেন: আপনার লেখাগুলো পড়লাম। ভাল হয়েছে। আসলে ইকনোমিক ভ্যালু এডেড বিষয়টা বেশ খটমটে। সবার বুঝার সুবিধার্থে বেশি ডিটেইলসে যাওয়া হয় নি।
আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সেক্টরে অপরিকল্পীত বিনিয়োগের ফলাফল সবাইকে বুঝানো। আমি আবারও বলছি অপরিকল্পীত বিনিয়োগ। এক্ষেত্রে আমার নিজস্ব অবস্থান আছে। এটা কারও দ্বারা প্রভাবিত নয়। আপনার ও যে নিজস্ব একটা অবস্থান আছে তা দেখে ভাল লাগল।
যদি সময় হয় অবশ্যই আমি আমার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করব। পড়বেন আশা করছি।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে এবিষয়ে আরও আলোচনার ইচ্ছা আছে।

৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৫০
মদনবাবু বলেছেন: মহাজন আর একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা দরকার আছিলো ।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:০১

লেখক বলেছেন: বিস্তারিত অবশ্যই দেয়া হবে, ধীরে বন্ধু ধীরে

৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৩৮
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: মদনবাবু, শইটা ভালা না। এই লেখাডাও লেখছি শইল খারাপ লইয়াই। আর আপনেরা মনে হয় আমার লেখাডার মূল উদ্দেশ্যডা নিয়া কনফিউশনে আছেন। আমি শুধু মাত্র বিদেশী বিনিয়োগের অপরিকল্পীত ব্যবহাররেই হাইলাইট করতে চাইছি।
আগের কথা গুলা শুধু মাত্র লেখাডারে একটু ভূমিকা দেওনের লাইগা বলা। ওগুলা নিয়া বিস্তারিত আলোচনা আমার উদ্দেশ্য ছিলনা। যাউকগা, আল্লাহ চাহে তো পরবর্তীতে এবিষয় নিয়া লিখব।
৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:১৫
দিগন্ত বলেছেন: ভাল লেখা, দিনমজুরের লেখা গুলোও ভাল।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৮. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮
দিনমজুর বলেছেন:
আমার পোস্টে আপনার মন্তব্যের জবাবে আমি যে মন্তব্য দিয়েছি- সেটা এখানেও তুলে দিচ্ছিঃ

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
লেখক বলেছেন:
বহুরূপী মহাজান,

সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট এর মর্মার্থ বুঝলাম না।

পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি তৃতীয় বিশ্বের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে- শোষণ করছে- এখন আমাদের করণীয় কি? তারা ফিটেস্ট, তাই আমাদের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে- এটা বলে চুপচাপ বসে থাকবো?? এটা ঠিক- আমাদের সংগ্রাম করতে হবে, কিন্তু কিভাবে?

বিদেশী অর্থনীতি যেমন নিজ স্বার্থে আমাদের ব্যবহার করতে পারে তেমনি আমরাও পারি। কিন্তু সেটা করতে জানতে হবে। ===>> মানতে পারলাম না। বিদেশী অর্থনীতি আমাদের যেভাবে ব্যবহার করতে পারে- আমরা চাইলেও ওদের ব্যবহার করতে পারবো না- এটা সম্ভবই নয়!!!!!!!!!

আপনি যেকথা বললেন - সেটাই কিন্তু নব্য উদার অর্থনীতিবিদদের প্রচারণা।

বাজার খুলে দেয়ার জন্য তারা এসব প্রচারণা চালায়- অবাধ প্রতিযোগিতার কথা বলে- অথচ এটা বুঝে না যে- জোয়ান মর্দের সাথে বুড়া বা শিশুর দৌড় প্রতিযোগিতার মতই হাস্যকর হচ্ছে- সাম্রাজ্যবাদী জায়ান্টদের সাথে তৃতীয় বিশ্বের ভঙ্গুর-দুর্বল অর্থনীতির প্রতিযোগিতা!!!


বিশ্বব্যংক-আইএমএফ এর ঋণের উদ্দেশ্যই হয় যদি ব্যবসা, এবং সাম্রাজ্যবাদীদের বাজার তৈরি করা- তাদের ঋণ নিয়ে যদি কেউ কখনও উন্নত হতে না পারে- তবে কি করে সেই অর্থনীতিকে বেইস করে টিকে থাকার কথা আমরা ভাবতে পারি- বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে তেমনি করে- কিভাবে আমরা ভাবতে পারি- আমাদের উন্নয়নের কথা?????


অন্যদের ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভুলে দরকার- খুবই দরকার- নিজেদের যা কিছু আছে- তাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেস্টা করা- এবং আমাদের দেশটিতে কম কিছু কিন্তু নেই।

এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে কিন্তু বর্তমান ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো!!!
সেখানেও কিন্তু তাদের বিদেশী অর্থনীতির প্রভুত্ব প্রথমেই বন্ধ করতে হয়েছে!!!!
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৭

লেখক বলেছেন: আপনাকে প্রথমে আমার অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে দেই। আমি কিন্তু কোনদিক থেকেই বিদেশী অর্থনীতির প্রভুত্ববাদে বিশ্বাস করি না।

এবং আমি কোন ভাবেই মুক্তবাজার অর্থনীতিকেও অন্ধভাবে সমর্থন করিনা।

কিন্তু এখানে আমাদের বাস্তবতা মানতে হবে। তাহল বর্তমান বিশ্বে মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। বিশেষ করে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে। তাই আমরা চাই বা না চাই সেটা এখনও বড় কোন বিষয় নয়।

তাই যে বিষয়টা আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না এবং যেটা আপনার অস্তিত্ব নির্ধারণ করে সেটাকে উপেক্ষা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হোতে পারেনা। আমরা যদি এখন সে রকম কথা বলি তাহলে আমাদের অর্থনীতির দুর্গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

আপনি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর কথা বললেন। তাদের সাথে আমাদের কোনভাবেই তুলনা চলতে পারেনা। লাতিন আমেরিকায় একসাথে অনেকগুলো সমমনাদেশ অনেক বছরের স্ট্রাগলের পর এখন মার্কিন আধিপত্যবাদ হতে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি সফল হতে পেরেছে কি?

অন্যদিকে তাদের সম্পদ ও আমাদের চাইতে অনেক বেশি এবং জনসংখ্যা আমাদের চাইতে অনেকগুন কম। সেখানে বাংলাদেশের মত একটা ছোট দেশে এত বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে খুবই সীমিত সম্পদ নিয়ে আপনি মুক্তবাজার ব্যবস্থা ছাড়া কিভাবে টিকে থাকবেন। আমরা অবশ্যই উন্নত জীবনের স্বপ্নদেখব এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করে যাব; কিন্তু সে স্বপ্ন দেখতে গিয়ে যদি আমাদের অস্তিত্বের সংকট পড়ে যায় তাহলে সে স্বপ্ন না দেখাই ভাল। বর্তমানে আমাদের দেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি দেখেও কি আপনি বুঝতে পারছেন না যে এখন আমরা কতটা অসহায় অবস্থায় আছি? আমাদের অর্থনীতির অবস্থা কতটা নাজুক?

কয়দিন আগে শুধুমাত্র ভ

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে প্রথমে আমার অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে দেই। আমি কিন্তু কোনদিক থেকেই বিদেশী অর্থনীতির প্রভুত্ববাদে বিশ্বাস করি না।

এবং আমি কোন ভাবেই মুক্তবাজার অর্থনীতিকেও অন্ধভাবে সমর্থন করিনা।

কিন্তু এখানে আমাদের বাস্তবতা মানতে হবে। তাহল বর্তমান বিশ্বে মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। বিশেষ করে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে। তাই আমরা চাই বা না চাই সেটা এখনও বড় কোন বিষয় নয়।

তাই যে বিষয়টা আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না এবং যেটা আপনার অস্তিত্ব নির্ধারণ করে সেটাকে উপেক্ষা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হোতে পারেনা। আমরা যদি এখন সে রকম কথা বলি তাহলে আমাদের অর্থনীতির দুর্গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

আপনি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর কথা বললেন। তাদের সাথে আমাদের কোনভাবেই তুলনা চলতে পারেনা। লাতিন আমেরিকায় একসাথে অনেকগুলো সমমনাদেশ অনেক বছরের স্ট্রাগলের পর এখন মার্কিন আধিপত্যবাদ হতে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এখনো পুরোপুরি সফল হতে পেরেছে কি?

অন্যদিকে তাদের সম্পদ ও আমাদের চাইতে অনেক বেশি এবং জনসংখ্যা আমাদের চাইতে অনেকগুন কম। সেখানে বাংলাদেশের মত একটা ছোট দেশে এত বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে খুবই সীমিত সম্পদ নিয়ে আপনি মুক্তবাজার ব্যবস্থা ছাড়া কিভাবে টিকে থাকবেন। আমরা অবশ্যই উন্নত জীবনের স্বপ্নদেখব এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করে যাব; কিন্তু সে স্বপ্ন দেখতে গিয়ে যদি আমাদের অস্তিত্বের সংকট পড়ে যায় তাহলে সে স্বপ্ন না দেখাই ভাল। বর্তমানে আমাদের দেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি দেখেও কি আপনি বুঝতে পারছেন না যে এখন আমরা কতটা অসহায় অবস্থায় আছি? আমাদের অর্থনীতির অবস্থা কতটা নাজুক?

কয়দিন আগে শুধুমাত্র ভারত চাল রপ্তানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার ফলে দেখেন দেশের মূল্যস্ফিতি কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে! তারওপর প্রতিবছর বন্যা ও নানা প্রকৃতি দুর্যোগের কারণে যে ফসল হানি হয় তা সহ্য করার মত ক্ষমতাও আমাদের অর্থনীতির নিই। তাই আমদানি করা না গেলে ভাবুন তো এখন দ্রব্যমূল্য কোথায় গিয়ে দাড়াতো?

মানি আপনি বলবেন যে কিছু খারাপ লোকের কারণে এ অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে গেছে। কিন্তু আমি বলবো কিছু খারাপ লোক নয়. অনেকগুলো খারাপ লোকের কারণে এবং এরাই এখন এসব নিয়ন্ত্রণ করছে। আর বাস্তব হল এরা আমাদের দেশে আছে এবং ভবিষ্যতেও তারা থাকবে, রাতারাতি দেশের সবমানুষ ভালোমানুষ হয়ে যাবেনা। তারপরও আপনি মূল কারণ হিসাবে বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে অস্বীকার করতে পারবেন না। যে কারণেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ুক সেটা এখানে আলোচনা করে কুলাবেনা।

আমিও চাই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, আমিও চাই আমাদের যেন খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভর না করতে হয়। কিন্তু বাস্তব বলে এখন সে আশা সুদূর পরাহত।

এ অবস্থায় আমি জানতে চাই আপনি কি একটি আবদ্ধ অর্থনীতি চান?

যদি তাই চান তাহলে সেটা করে আপনি কিভাবে এই নাজুক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখবেন।

সময় হলো না বলে আমি এখানে কিছু সাধারণ বিষয়ে কথা বললাম, তথ্য উপাত্ত দিয়ে আপনাকে ব্যাখ্যা করতে পারলে ভালো হত। ভবিষ্যতে সময় হলে তা করার আশা রাখছি।

মনে রাখবেন, কিছু কথা শুনতে খুব ভাল লাগে কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তা খাটেনা। আপনি যে দেশের স্বপ্ন দেখেন আমিও তার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বাস্তব জ্ঞান আমাকে বলে এখন কি সম্ভব আর কি সম্ভব না। তাই স্বপ্ন দেখি নিজেদের সেভাবে গড়ে তোলার যাতে আমরা আমাদের দেশকে আমাদের স্বপ্নের মত করে সাজাতে পারি। তাই আসুন, সে চেষ্টাটা আগে করি।

আপনি আমাকে শুধু কিছু প্রশ্ন করে গেছেন, কিন্তু ব্যাখ্যা করেননি বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে আপনার মতে কিভাবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। সবাই ভালো হয়ে যাবো, অনেক পরিশ্রম করবো, কেউ দুর্নীতিবাজ থাকবেনা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি কথা শুনতে ভাল কিন্তু এখনইতো আপনি সেসব পাচ্ছেন না। সেসব অর্জনের জন্য বর্তমানে প্রেক্ষাপটে আপনার মতে কি করা সম্ভব তা আমাকে বলেন।

আপনার লেখায় একটু যোগ করতে চাই। আপনি উৎপাদনের হাতিয়ার হিসাবে সংগঠনকে বাদ দিয়ে গেছেন। আজকের দিনে কিন্তু উৎপাদনের অন্যতম উপাদান হচ্ছে সংগঠন।

আর একটা কথা, আমরা সবাই যে অর্থনীতি পড়ি তা কিন্তু ধনতান্ত্রীক অর্থব্যবস্থা। এবং এর একটি নতুন রূপ হচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতি।

আমার কথা শুনে এটা মনে করবেন না যে আমি মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক বা অনুরাগী।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একে এড়ানোর আপাতত কোন উপায় আমাদের হাতে নেই। এখনই যদি এড়াতে যাই তাহলে আমাদেরই মরতে হবে।

বুদ্ধিমান কিন্তু দুর্বল অবস্থায় প্রতিরোধ করতে যায় না। আগে শক্তি সঞ্চয় করে তার পর প্রতিরোধ করে, তার আগে না। তাই আগে শক্তি সঞ্চয় করুন।

৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৬
দিনমজুর বলেছেন:
আমার পোস্টে করা কমেন্ট গুলো এখানে তুলে দিচ্ছিঃ

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১২
লেখক বলেছেন:
বহুরূপী মহাজান,

প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ এমন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিতে আলোচনা চালিয়ে নেয়ার জন্য। ধন্যবাদ এজন্য যে, আমরা বেশিরভাগইএ ধরণের বিষয়ে মাথা ঘামাই না- অথচ- প্রায় আমরা সকলেই একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি!!

যাহোক, মূল আলোচনায় প্রবেশ করি। আপনার আলোচনা পড়ে যতখানি বুঝতে পেরেছি- সেটা হলো- আপনি বলতে চেয়েছেন-
১। আপনি বর্তমান পুঁজিবাদী-মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক নন,
২। আমাদের বর্তমান বাস্তবতা হলো- সম্পদের অপ্রতুলতা ও জনসংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমরা অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ,
৩। এই বাস্তবতায় আমাদের মুক্তবাজার অর্থনীতিকে না মেনে কোন উপায় নেই।
৪। দুর্বল অবস্থায় প্রতিরোধ করা যায় না। আগে শক্তি সঞ্চয় করে তারপর প্রতিরোধ করতে হবে, তার আগে না। তাই আগে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।

এখানে আমার অবস্থানটি আপনার সাথে শুধু ১ নং পয়েন্টটিতে অনুরূপ। অন্যান্য বিষয়ে আমি যেকারণে দ্বিমত করি সেগুলো হচ্ছেঃ.............

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৬
লেখক বলেছেন:
প্রথমত, সম্পদের দিক থেকে নিজেদের দরিদ্র মনে করি না। আমাদের মত মাটি, পানি ও আবহাওয়া- এমন সমন্বয় দুনিয়ার অল্প দেশেই আছে!!!
সুন্দরবন ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর- এ দুটিও অনন্য সম্পদ।
মাটির নিচের সম্পদও মোটামুটি বলা চলে।
তাহলে- কেন নিজেদের দরিদ্র মনে করবো??? এটা প্রচারণা ভিন্ন কিছুই নয়। শ্রেফ প্রচারণা!!!!

জনসংখ্যাও কোন সমস্যা নয়। জনসংখ্যাই তো বরং সম্পদ হতে পারে!!!

আমাদের এই মাটি- ২০ কোটি মানুষের অন্নসংস্থান করতে পারবে- খাদ্য আমদানি তো দূরের কথা!!!!
আপনি আমাদের মোট কৃষিজমির হিসাব নেন- প্রতি হেক্টরে গড়ে উতপাদনের সাথে তার গুন করেন- মোট উতপাদন পাবেন- আর, হিসাব করেন- প্রতি মানুষের কনজাম্পশান- সেটার সাথে গুন করেন- টোটাল জনসংখ্যা- তাহলে বুঝতে পারবেন- প্রকৃত চিত্র!!!!!


সবই- হলো একটা প্রচারণা ছাড়া কিছুই না!!!!!


প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা আপনি বলেছেন- এটাও অনেকেই বলেন- অথচ এটা কেউ উল্লেখ করেন যা- আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই এমন- দুর্যোগ পরবর্তি ফলন দুর্যোগকেন্দ্রিক ক্ষতি অনেকাংশে কাটিয়ে তুলে। মনে রাখবেন, এই বাংলাদেশেই আমরা ১৯৯৫-৯৬ সালে বন্যার পরও- বাম্পার ফলন পেয়েছিলাম!!!!!!!

ফলে সমস্যা কোন জায়গায়????

সমস্যার মূল আমার এই পোস্টে উল্লেখ করেছি- সাম্রাজ্যবাদী অর্থনীতি- আমাদের দেশে তাদের ওয়ার্ল্ড ব্যংক, আইএমএফ, ডব্লিওটিও এর চাপে কৃষি খাতের বারোটা বাজাতে চলেছি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নে- কৃষিতে সরকার উচ্চ ভর্তুকি দেয়- আর আমাদের সরকারগুলোকে- এসব সংস্থা ভর্তুকি বন্ধ করতে বাধ্য করে।

আমাদের কৃষি খরচ এমন বেড়ে গেছে- কৃষক সেই খরচ তুলে আনটে পারে না- প্রাপ্তি/ব্যয়ের অনুপাতের একটি তুলনামূলক চিত্র আপনাকে দেখালে কিছুটা পরিস্কার হতে পারে- ১৯৮১-৮২ সালে বোরো(এলটি) তে যা ছিলো ১.২২, ২০০৫-০৬ এ তা ০.৭০, বোরো(এম) তে ১৯৮১-৮২ সালে যা ছিলো ১.৪৪, ২০০৫-০৬ এ তা ০.৮৯ ; আউশ(উফশী) তে ১৯৮১-৮২ সালে যা ছিলো ১.২৮ ২০০৫-০৬ এ তা ০.৮১। এরকম প্রতি ক্ষেত্রেই এই অনুপাত নিম্নগামি- মানে কৃষক যে ব্যয় করে তা সে তুলে আনতে পারেনা- তার মানে সে আর দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে- সে নিঃস্ব হয়ে- শহরে পাড়ি জমাচ্ছে!!! (বিচিত্র- আমার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি শ্রম দেয়- তারপর লস দিয়ে উতপাদন করে আমার মুখে খাবারটা তুলে দেয়- আর আমরা মানে আমাদের সরকারগুলো তাদের সার, তাদের সেচ, তাদের বীজ- এসবে সুযোগ-সুবিধাগুলো দিনদিন কমিয়ে দেই!!!!)

এই খরচ বৃদ্ধির কারণ কি?????
বিশ্বব্যংক ও আইএমএফ এর প্রেসক্রাইবড কৃষি উদারিকরণের কথা কি আমরা ভুলবো????
আশির দশকের গোড়ায় তাদের চাপিয়ে দেয়া স্যাপ (কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসুচি) এর কথা কি আমরা ভুলবো??? কি ছিলো সেই স্যাপ কর্মসুচিতে?
->কৃষিখাতে বিশেষ করে সারে ভর্তুকি হ্রাস/ প্রত্যাহার, সার সরবরাহ- ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ,
-> আশির দশকের শেষ নাগাদ বেসরকারিভাবে সেচ যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,
->১৯৯৫ সালে বেসরকারি খাতে চালসহ খাদ্যশস্য আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,
->বিএডিসি এর মাধ্যমে সার আমদানি, বিক্রয় ও বিতরণ এবং সেচ কার্যক্রম ও বীজ বিতরণের দায়িত্ব ক্রমান্বয়ে সংকোচন,
->১৯৯২ সালে জাতীয় বীজনীতি প্রবর্তন করে তাতে বীজ উতপাদন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়........ প্রভৃতি পদক্ষেপগুলো নেয়া হয় স্যাপ এর আওতায়।

এমন অসংখ্য ঘটনা আছে- মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রভাবে আমরা আজ এই দারিদ্রের চেহারা পেয়েছি!!!

আর একটা ঘটনা বলি- যে সময় আমরা বাম্পার ফলনও পেলাম- সে বছরেও কিন্তু কৃষক ন্যায্য দাম পায় নি!!!!
১৯৯৬-৯৭ সালে বোরো (এলটি) তে প্রাপ্তি/ব্যয় অনুপাত ছিলো ০.৬৫ এবং বোরো(এম) তে অনুপাত ০.৯৮। অর্থাত তখনও কৃষকের অবস্থা ফিরে নি!!!!


এতেই বুঝেন- দারিদ্রের রুট অন্যত্র!!!!
সেটা মোটেও সম্পদের ঘাটতি বা জনসংখ্যার আধিক্য নয়!!!!!!!!!


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৮
লেখক বলেছেন:
অথচ এটা কেউ উল্লেখ করেন যা-
============>

অথচ এটা কেউ উল্লেখ করেন না-

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
দিনমজুর বলেছেন:
সেকারণেই আপনার এ কথার সাথে কোনমতেই একমত হতে পারি না যে,
.................>
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একে এড়ানোর আপাতত কোন উপায় আমাদের হাতে নেই। এখনই যদি এড়াতে যাই তাহলে আমাদেরই মরতে হবে।
----------------->

কেননা, ওদের খপ্পরে পড়ে আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে চলেছি- বাঁচার একমাত্র উপায় সাম্রাজ্যবাদীদের এড়ানো!!!!!!!!!!

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:২৮
দিনমজুর বলেছেন:
যে বিষয়টা আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না এবং যেটা আপনার অস্তিত্ব নির্ধারণ করে সেটাকে উপেক্ষা করাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হোতে পারেনা। আমরা যদি এখন সে রকম কথা বলি তাহলে আমাদের অর্থনীতির দুর্গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
------------------>
অর্থনীতির দুর্গতির যে কথা বলছেন- সেটা আমি তো দেখছি - একমাত্র সেই তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতির অবদান!!!!!!

এবং দুনিয়ার কোন দেশই সাম্রাজ্যবাদীদের সাহায্য নিয়ে- প্রেসক্রিপশন মেনে উন্নত হতে পেরেছে সে নজির নেই!!!!!!!!!!!!

আপনি এশিয়ার এমার্জিং টাইগারদের কথা বলবেন?? পোস্টেই কিছু কথা বলেছি।
থাইল্যাণ্ডের রাজধানী ব্যংকক আর কিছু পর্যটন নগরীতে গেলে তার চাকচিক্যে আপনার চোখ ধাধিয়ে যেতে পারে- কিন্তু মনে রাখবেন- এখন থাইল্যাণ্ডের গ্রামীন জনগোষ্ঠীর ৪৩ শতাংশ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে।
ইন্দোনেশিয়া ১৯৮৫ সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা থেকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সোনার মেডেল পায় (এখনও আমাদের স্কুলের অনেক পাঠ্য বইয়েই এশিয়ার খাদ্য চেপ্টারে ইন্দোনেশিয়ার নাম জ্বলজ্বল করে!!!)- অথচ- এই ইন্দোনেশিয়ার আজকের অবস্থান কি??
১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়া সবচেয়ে বড় খাদ্য সাহায্যপ্রাপ্ত দেশ হিসাবে বিবেচিত!!!! ২০০১ সালে জাকার্তায় দিনে ১৫০০০ লোক চাকরি হারায়!!!!!!!! ১৯৯৯ সালে সেখানে ক্ষুধার্তের সংখ্যা ছিলো ৮০০ মিলিয়ন- মিলেনিয়াম টার্গেট ছিলো ২০১৫ সাল নাগাদ তা অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আসা- অথচ- আজ সে সংখ্যা ৮৪২ মিলিয়ন!!!!

কেন এমন হলো?????
আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা কি ছিলো??
খুব সহজেই বুঝতে পারার কথা- কিভাবে তৃতীয় বিশ্ব মরে!!!!!!!!!


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৯
দিনমজুর বলেছেন:
এখন আপনি আপনার পোস্টে বলেছেন- পরিকল্পিত বিনিয়োগের কথা!!!
বলেছেন- ওদের অর্নীতিকে আমাদের স্বার্থে ব্যবহারের কথা!!!!!!!!

এটা দিবাস্বপ্ন ব্যতিত কিছুই না!!!!!!!!
এখানে আপনার(তৃতীয় বিশ্বের) পরিকল্পনার কোন স্কোপই নেই!!!!!
সমস্ত পরিকল্পনা করবে- সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া- ওয়ার্ল্ড ব্যংক- আইএমএফ-ডব্লিওটিও, আপনাকে সে পরিকল্পনা এখানে এক্সিকিউট করতে হবে- মানে আপনি তাদের পরিকল্পনা অনুসারে চলতে বাধ্য- যদি আপনি তাদের দান-খয়রাত-ঋণ-বিনিয়োগ এসবের উপর নির্ভর করতে চান!!!!!!!!!!!!


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:০৫
দিনমজুর বলেছেন:
এরা একদিকে আপনাকে দান দিবে- খয়রাত করবে- অন্যদিকে আরেকটি শর্ত জুড়িয়ে দিবে- অমুক জিনিস আমদানি করতে হবে- তমুক সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ করতে হবে...... ইত্যাদি!!!!

এর কোন অন্যথা নেই!!!!

নিজেদের মতো করে ব্যবহার করার দিবাস্বপ্ন যারা দেখেন তারা অনেকেই ভারতকে মডেল করতে চান- কিন্তু এটা বুঝতে পারেন না যে, প্রথমত- ভারতও আজ ছোটখাট সাম্রাজ্যবাদী চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়েছে- ভারতের মত অর্তনৈতিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব নয় আমাদের মত নির্ভরশীল অর্থনীতির পক্ষে- দ্বিতিয়ত- এটাও মনে রাখতে হবে যে, এই ভারতেই কিন্তু দুনিয়ার এক তৃতীয়াংশ দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারি মানুষের অবস্থান, এবং তৃতিয়ত- ক্ষেত্র বিশেষে ভারতকেও নতজানু হতে হয় বৈকি-

১৯৯৯ সালে ভারতে উদ্বৃত্ত খাদ্যের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন টন- ২০০০ সালে তা বেড়ে দাড়ায় ৬০ মিলিয়ন টন- তবে এই উদ্বৃত্ত খাদ্য ক্ষুধার্তের (বিশ্বের মোট ক্ষুধার্তের এক-তৃতীয়াংশ ভারতে বাস করে) মাঝে না বিলিয়ে পচিয়ে ফেলা হয়- রপ্তানী করা হয়- এবং আরো মজার ব্যাপার- সেসময় ভারত কারগিল ও আমেরিকার কিছু কোম্পানির কাছ থেকে খাদ্য আমদানি করতে বাধ্য হয়েছিলো (খাদ্য উদ্বৃত্তের পরেও!!)- কেননা সেসময় ভারত এই শর্তের বিনিময়ে বিশ্বব্যংকের কাছ থেকে কিছু অর্থ সাহায্য নিয়েছিলো!!!!!!!!!
১০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
দিনমজুর বলেছেন:
সংশোধনিঃ

১৯৯৯ সালে সেখানে ক্ষুধার্তের সংখ্যা ছিলো ৮০০ মিলিয়ন- মিলেনিয়াম টার্গেট ছিলো ২০১৫ সাল নাগাদ তা অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে আসা- অথচ- আজ সে সংখ্যা ৮৪২ মিলিয়ন!!!!

এখানে এই আলোচনাটি ইন্দোনেশিয়ার আলোচনার সাথে একই প্যারাতে এসেছে- আসলে আলাদা প্যারা হবে। এবং "সেখানে" এর পরিবর্তে হবে বিশ্বে। আর, আজ ক্ষুধার্তের সংখ্যাটি FAO এর মতে ৮৫৪ মিলিয়ন।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: দিনমজুর, আপনি আবারো একটি ভুল করছেন। আমি কখনো দাতাদের সাহায্য নির্ভরতার সমর্থন করিনি। দাতাদের সাহায্য কিভাবে ব্যবহার হয় ও তা আমাদের কি উপকার! করে তা আমাদের ভাল জানা আছে।

আমি বলছি বিদেশী বিনিয়োগকেও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় যদি তা পরিকল্পীত ভাবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

আপনি যদি এখন আমাকে বিদেশী দাতাদের সাহায্য ও একটি দেশের উন্নয়নে তার সুফল সম্পর্কে বলতে বলেন তা কিন্তু আমি কখনোই বলবো না। কেননা প্রকৃতই দাতাদের সাহায্য কোন কাজে আসে না। বরং ঋণের বোঝাই বাড়ায়।

তাহলে আপনার সাথে আমার মতপার্থক্যের জায়গাটা কোথায়? আমি বলছি বিদেশী বিনিয়োগ সঠিক পরিকল্পনা মত ব্যবহার করা গেলে তা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

সময় পাইনা বলে হয়তো বিস্তারিত বলা যাবেনা, কিন্তু মনে হচ্ছে আপনাকে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সময় নিয়ে ব্যাখ্যা করলে ভাল হত।

যাহোক, একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ধরুণ আমরা এমন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে পারি যেখানে আমাদের টেকনিক্যাল নো হাউ কম কিন্তু সে শিল্পে আমাদের সম্ভাবনা আছে। এমন অবস্থায় আমরা যদি কোন বিদেশী কোম্পানীর সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যৌথ উদ্দ্যোগে শিল্পস্থাপন করি তাহলে আমাদের শিল্পস্থাপনও হল, আমাদের দেশীয় অংশীদারিত্বও রইল।

বিদেশী পার্টনার নির্দিষ্ট সময় পর তার মুনাফা নিয়ে চলে যাবে আর আমরা একটা নতুন ইন্ডাস্ট্রির সূচনা করতে পারবো। এক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগও আমরা পাবো।

আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন কেন বিদেশীরা আমাদের দেশে চলে যাবার জন্য আসবে? কেননা আমাদের বিরাট একটা বাজার আছে। আমাদের শুধু তা তুলে ধরতে হবে। তারা যদি তাদের বিনিয়োগের উপযুক্ত রির্টান পায় এবং নিরাপত্তা পায় তাহলে কেন তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে আসবে না!

তবে এজন্যও প্রস্তুতির দরকার আছে। আর আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি আপনার সাথে দ্বিমত শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই। আপনার সাথে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার সুযোগ পেলে খুশি হব। হয়তো তেমন ভাবে আপনার কাছে ব্যাখ্যা করতে পারলাম না কারণ ইদানিং সময় খুব কম পাই। তবে সময় পেলে অবশ্যই আপনাকে লিখব। ভাল থাকবেন।

১১. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯
দিনমজুর বলেছেন:
আমার পোস্টে করা কমেন্ট আবারো তুলে দিচ্ছিঃ


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:১৭ দিনমজুর বলেছেন:

আপনি কি কষ্ট করে আমার প্রথম পোস্ট(সিরিয়াস পোস্টঃ বিদেশি বিনিয়োগ সম্পর্কিত চাপাবাজি) পড়বেন???



১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫১ দিনমজুর বলেছেন:

বহুরূপী মহাজন,

আমি দুঃখিত ভুল বুঝার জন্য- আসলে আপনার মন্তব্যের বেশ কিছু লাইন সম্পর্কেই আমার আপত্তি তৈরি হয়েছিলো।

যাহোক- এখন আপনার সাথে আমার দ্বিমতের জায়গা একটাই- সেটা হলো- পরিকল্পিত বিদেশি বিনিয়োগ।

তাহলে এ বিষয়েই কিছু কথা বলি----

১। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কি কি ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে?
২। কোন কোন সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগের প্রোপাজাল এসেছে?
৩। বিনিয়োগকারিরা কোন উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করতে আসে?
৪। তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশের উদাহরণ দেন- যেখানে এই বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে আপনার কল্পনার সেই শিল্প সৃষ্টি হয়েছে???
৫। বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া চলবেই না- এ ধারণার কারণ কি??


উপরের প্রশ্ন ৫ টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা- এর উত্তরের মাঝেই আছে- আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের প্রতি তথাকথিত মোহগ্রস্ততা কাটিয়ে ওঠার টনিক।

কাছের একটি উদাহরণ দেখুন- টাটার কয়টা টাকার বিনিয়োগের লোভে এ দেশের পত্রপত্রিকার লাফালাফি লক্ষ করুন!!!!!!

টাটা এখানে কি করতে চেয়েছিলো???

স্টীল শিল্প তৈরির উদ্দেশ্য কি - আমাদের এখানে শিল্প তৈরি না-কি আমাদের এখানকার সস্তা শ্রম- সস্তায় পানি-গ্যাস ব্যবহার করে অধিক মুনাফা করা??? আমাদের শিল্পের জন্য যদি সত্যই আগ্রহ থাকে তবে- দেশের স্টীল মিল কেন বন্ধ করে দিলাম????

খুব সহজ হিসাব- এটা কেন বুঝেন না- ওদের দৃষ্টি আমাদের বাজার- আমাদের সস্তা শ্রম- এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া উপকৃত কখনই হতে পারবো না!!!!!!!!

পরিসংখ্যান দেখেন- ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত এদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ছিলো ২১৮.৫ কোটি ডলার, আর এর বিপরীতে বিনিয়োগকারিরা ২৭৪.৪ কোটি ডলার নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করেছে!!!!!!


১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১৮ দিনমজুর বলেছেন:

এবারে আসি- আপনার কল্পনাটিতে (দিবাস্বপ্ন!!!!!)-->

আপনি লিখেছেন,
"....আমরা এমন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে পারি যেখানে আমাদের টেকনিক্যাল নো হাউ কম কিন্তু সে শিল্পে আমাদের সম্ভাবনা আছে। এমন অবস্থায় আমরা যদি কোন বিদেশী কোম্পানীর সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যৌথ উদ্দ্যোগে শিল্পস্থাপন করি তাহলে আমাদের শিল্পস্থাপনও হল, আমাদের দেশীয় অংশীদারিত্বও রইল।
বিদেশী পার্টনার নির্দিষ্ট সময় পর তার মুনাফা নিয়ে চলে যাবে আর আমরা একটা নতুন ইন্ডাস্ট্রির সূচনা করতে পারবো। এক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগও আমরা পাবো।
আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন কেন বিদেশীরা আমাদের দেশে চলে যাবার জন্য আসবে? কেননা আমাদের বিরাট একটা বাজার আছে। আমাদের শুধু তা তুলে ধরতে হবে। তারা যদি তাদের বিনিয়োগের উপযুক্ত রির্টান পায় এবং নিরাপত্তা পায় তাহলে কেন তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে আসবে না!..............।"

প্রথমত- এমন একটি খাত কি হতে পারে????
দ্বিতীয়ত, সে খাতে কেন আমরা নিজেরা শিল্প তৈরি করতে পারবো না???

ধরি- তারা আমাদের এখানে মোটর গাড়ি উতপাদনের জন্য আসলো (এবং এই শিল্প আমরা একা গড়ে তুলতে পারতাম না)- কেন ও কখন আসবে???
দুটি জায়গা- ১। সস্তা শ্রম,
২। বাজার- শুধু বাংলাদেশ নয়- এশিয়ার মার্কেটও টার্গেট হতে পারে,

যাওয়ার প্রশ্ন কখন আসবে?
শুধুই তখন- যখন এখানকার শ্রমমজুরি অনেক উচ্চ হবে- এবং আরও সস্তা শ্রম পাওয়া যাবে যে অঞ্চলে (যেমন এখন পূর্ব এশিয়া থেকে সমস্ত বিনিয়োগ তুলে ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে বিনিয়োগকারিরা ঝুকছে),

এখন আপনি কি মনে করেন- তারা বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যাবার পরেও আমরা নিজেরাই সেই শিল্প চালিয়ে নিতে পারবো??? যদি তা মনে করেন- তবে বলতেই হবে আপনি স্বপ্নরাজ্যে বসবাস করছেন। কেননা, এরা এসমস্ত শিল্পের পুরাটা কোন দেশে নিয়ে যায় না- এবং আরএণ্ডডি ডিপার্টমেন্ট সর্বদাই নিজেদের হাতে রাখে- শুধুই তাই নয়- এরা যখন কোন লার্জ স্কেলের শিল্প অন্য দেশে নিয়ে যায়- তখন- একসাথে কয়েকটি দেশ সিলেক্ট করে- বা কয়েকটি অঞ্চল সিলেক্ট করে- এবং একেক অঞ্চল নির্দিষ্ট এক ধরণের কাজেই ইনভল্ভড থাকে। হয়তো দেখা গেলো- আরেকটি দেশে শুধু অ্যাসেম্বলিং এর কাজটিই করছে!!!!!

এখন- আপনার দেশে যখন তারা মোটর গাড়ি শিল্প নিয়ে আসবে তখন নিশ্চিত থাকেন- হয়তো আপনি শুধুই টায়ার বানাতে বা শুধুই হর্নটি বানাতে পারবেন- অথবা হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে তৈরি করা বিভিন্ন পার্টস আপনি অ্যাসেম্বল করে ও ফিনিশিং দিয়ে গাড়ি বানাতে পারবেন। এমতাবস্থায়- আপনার পরিকল্পিত বিনিয়োগটি দেশ ত্যাগের পরবর্তি অবস্থাটি হবে অনেকটা এমন- আপনি হয়তো টায়ার বানাতে তখনও পারবেন, কিন্তু বানানো টায়ার যেখানে যেত - সেখানে আর টায়ার নিয়ে যেতে পারবেন না- বা গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করতে পারবেন- কিন্তু যেসব দিয়ে অ্যাসেম্বলিং করতেন- সেসব পার্টস আর পাবেন না!!!!!!!!!!!!!
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার একটা অবস্থান আছে বোঝাই যাচ্ছে। এবং আমার সাথে আপনার যে বিষয়টিতে মতপার্থক্য তাও থাকবে এটাও বোঝা যাচ্ছে। আসলে সবারই নিজস্ব একটা মতামত থাকবে এটা খুবই আনন্দের। হোক না তা আপনার মতের বিপরীত। এখানে আমার অবস্থানের পক্ষের যুক্তিগুলো আমার কাছে যতটা যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে ততটা হয়তো আপনার কাছে মনে হচ্ছে না। আবার আপনার যে কোন বিদেশী বিনিয়োগের বিপক্ষে আপনার শক্ত অবস্থানের কারণগুলোও আমার কাছে ততটা শক্ত মনে হচ্ছে না।

মতপার্থক্য থাকবেই। তাতে আমাদের ভবিষ্যতে জানার সুযোগটা বাড়বে। আপনার কাছথেকে আরও অনেক কিছু জানার প্রত্যাশা করছি। ভাল থাকবেন। নিয়মিত পোষ্ট দেবেন, আশায় রইলাম। :)

১৩. ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬
হরিপদ দে বলেছেন: ভালো পোষ্ট। প্রিয়তে রাখলাম...............

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৮১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ক্ষ্যাপা খুজে ফেরে পরশ পাথর
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ