somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগীয় জগতে বিভ্রান্তির কালো ধোয়া ছড়ায় কারা

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে আছি বেশ কিছু দিন হল। শুরুতে প্রত্যাশা ছিল অনেক এবং এ কয়দিনে অনেক কিছুই দেখলাম। প্রত্যাশার কিছুটা হয়তো পূরণ হয়েছে। কিছু ভালো লেখা পড়তে পেয়েছি; তবে আরো ভালো কিছুর আশা ছিল। কলেজ জীবনের পর থেকে ব্যস্ততা বাড়ায় বই পড়া হতো খুবই কম। ভার্চুয়াল এ জগৎটাকে সে শূন্যতা পূরণের একটা মাধ্যম হিসাবে ভাবতে শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম অন্যের ভাবনাগুলো জানতে পাবো, নিজের গুলোও জানাতে পারবো। ভেবেছিলাম আগামীর কোন ক্ষুরধার লেখকের উত্থান দেখব, দেখব সমাজ বদলের অংকুরোদগম। কিন্তু একটা অশুভ আত্মা বারবার সে প্রত্যাশার পিছু তাড়া করেছে, তাকে দিকভ্রান্ত করেছে। আজকে ব্লগে যত বিশৃংখলা তার মূলে সেই অশুভ শক্তি - জামাত শিবিরের প্রেতাত্মা। দেশটার মত এ ব্লগীয় জগৎটাকও তাদের লালসা চরিতার্থ করার টার্গেট করেছে ওরা। তাইতো আজকে এ কাদা ছোড়াছুড়ি; এমনকি আমাদের নিজেদের মধ্যেই! ধমীয় অনুভূতির কারণে কেউ হয়তো ওদের বিভ্রান্তিতে পড়ে “রাজাকার” উপাধি পাচ্ছেন। অন্যদিকে মুক্তচিন্তার কাউকে কাউকে নাস্তিক-কাফির ইত্যাদি বাক্য শুনতে হচ্ছে। কিন্তু কেন আমরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবো? কারণ আমরা না জেনেই বিভ্রান্তিতে পড়ছি। সে দিকে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

১. এ ধরণের ব্লগ কোন ধর্মীয় আলোচনার জায়গা না। কেন? কারণ সবার বিশ্বাস এক নয়। এমন একটি ওপেন প্লাটফর্মে বিভিন্ন মতের লোক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমার একটা মতের সাথে তাই অন্যের মতের মিল নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বির্তক হবে, গঠনমূলক সমালোচনা হবে, কারও কোন ভুল থাকলে সেটা শুধরে যাবার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এর থেকে একটা ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে।

কিন্তু বিয়য় বস্তু যদি কোন ধর্ম সংক্রান্ত হয় তাহলে ব্যাপারটা অন্যরকম দাড়ায়। বিভিন্ন ধর্মের প্রচারকগণ সবাই মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত চিন্তা বাদ দিয়ে পুরো মানব জাতির জন্য একটি জীবন ব্যবস্থা দিতে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। এ সব মহৎ মানুষকে এমন একটি উন্মুক্ত বির্তক মঞ্চে এনে সমালোচনার বিষয় বস্তুতে পরিনত করাটা কি ঠিক? আমরা কি চাইব যে সব মানুষকে আমরা মন থেকে শ্রদ্ধা করি তাদের কর্ম, তাদের জীবনকে সমালোচিত করতে; অন্যের সমালোচনার টার্গেট বানাতে? জানি আমরা কেউই তা চাই না যদি না কারও ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য থাকে। আমরা যেমন আমাদের পিতা-মাতার সমালোচনা সহ্য করতে পারিনা, তেমনি আমাদের ধর্ম বিশ্বাস বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়েও সমালোচনা সহ্য করতে পারিনা। এটাই স্বাভাবিক। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনার ক্ষেত্রটা আমরা নিজেরাই তৈরি করে দিচ্ছি। প্রথম ভুলটাই আমাদের!!

২. এতো গেলো আমাদের ভুলের কথা। এবার দেখি কেন আমরা ধর্মীয় ব্যাপার গুলো সমালোচনার ক্ষেত্রে টেনে আনার মত ভুল করছি। এর মূলে রয়েছে জামাত শিবিরের কিছু পালতু কুকুরের কর্মকান্ড যারা মগবাজারের পয়সা খেয়ে এখানে ব্লগাতে আসে। ওরাই প্রথমে ধর্মীয় স্পর্শকারত বিষয়গুলো এখানে নিয়ে আসে এবং এমন ভাবে নিয়ে আসে যাতে সমালোচনা -বিতর্ক ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। এ পুরো ব্যাপাটাই ওদের ইচ্ছাকৃত। হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ওরা নিজস্ব মতাদর্শ ধর্মীয় মোড়কে প্রচার করে। আমরা জানি জামাতের মতাদর্শ কতটা জঘন্য এবং এ নিয়ে কিছু সমালোচনা আসবে, কিছু বিতর্ক হবে এটাই স্বাভাবিক। তাতে ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন মানুষেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে প্রতিবাদ করবে। এবং তখনই দুদল মানুষ যাদের নিজেদের মধ্যে কোন বিবাদ হবার কথাই না তারা পরস্পর প্রতিপক্ষ হয়ে একে অপরের সমালোচনায় মেতে উঠবে; ব্লগ হয়ে উঠবে অশান্ত। এভাবেই ওরা আমাদেরকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ করে নিজেদের আখের গুছাতে চায়। কারণ বিভ্রান্ত মানুষকে ভুল পথে নেয় সহজ।

আরেকটা উদাহরণ দেই। সবার বিশ্বাসই তার নিজের কাছে। আমি যদি আল্লাহকে বিশ্বাস করি তাহলে আমাকে যেমন কেউ ভিন্ন কিছু বোঝাতে পারবেনা, তেমনি আমি যদি অবিশ্বাস করি তাহলেও কেউ আমার সে বিশ্বাস টলাতে পারবেন। তাই যেটা করে লাভ নেই তা না করাই উচিৎ। তারপরও কিছু জামাতি আগাছা সারাদিন ইসলাম ইসলাম বলে ছাগলের মত চেচাবে। কিন্তু আমাদের তাদের উদ্দেশ্যটা আমাদের বুঝতে হবে। ইসলামকে একটি ব্রান্ড বানিয়ে ব্যবসা করাটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন যে পৃথিবীতে সবচাইতে লাভজনক ব্রান্ড হচ্ছে ধর্ম, যে কোন ধর্ম। কিন্তু এতে ধর্মকে দোষারোপ করাটা ঠিক না। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের প্রতিরোধ করা উচিৎ।
জামাতের একটা অপপ্রচার হল যে সচ্চা মুসলমান হবে তাকে জামাত করতে হবে। এভাবে তারা দুইটি মেরু সৃষ্টি করতে চাইছে; তারমানে আমাকে যদি মুসলমান হতে হয় তবে অবশ্যই আমাকে জামাত করতে হবে, আর জামাতকে সমর্থন না করলে আমি কাফির (জামাতি কুকুরদের ভাষায়)। কেউ যদি তাদের এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয় এবং তার ধর্মীয় বিশ্বাস যদি ভিন্ন হয় তবে সে আমাকে জামাতি ভেবে ভুল করবে, এটা খুবই সম্ভব।

৩. অন্য একটা প্রসঙ্গ টানা যাক। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যায় যে জামাত -শিবিরের কিছু কর্মী বিভিন্ন সময় তাদের দলের রাজনৈতিক প্রচারে ব্লগটিকে ব্যবহার করছে। এটা কিন্তু কোন রাজনৈতিক মঞ্চ না। এখানে জামাতের আগাছা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতার্দশের মানুষ আছে। কিন্তু কখনো দেখিনি কোন আওয়ামিলীগ বা বি এন পি বা অন্য কোন দলের হয়ে কাউকে কোন ধরণের রাজনৈতিক প্রচার করতে। এখানে রাজনৈতিক আলোচনা সমালোচনা হতেই পারে, কিন্তু কোন দলের প্রেস রিলিজ দেবার মত কাজ জামাত শিবিরের ওই ছাগুদের ছাড়া আর কাউকে করতে দেখিনি। এখানে ওদের উদ্দেশ্যটা লক্ষণীয়। কিন্তু একটা ব্যাপার আমাকে আশ্চর্য করে; ব্লগে যখন আওয়ামিলীগ, বি এন পি বা বর্তমান সরকারের কোন সমালোচনা হয় তখন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু জামাত শিবিরের কোন সমালোচনা করে কোন পোষ্ট দিলে তা মুছে ফেলা হয়, ব্লগারকে ব্যান করা হয়; এমনকি কেউ কোন বিরূপ মন্তব্য করলেই তা করা হয়। অন্য রাজনৈতিক দল গুলোর সমালোচনা করা গেলে জামাত-শিবিরের সমালোচনা করলে কর্তৃপক্ষের বা মডারেটরদের কেন গাত্রদাহ হয় কেউ কি দয়া করে জবাব দিবেন?

এতক্ষণ সামহয়্যার ইন ব্লগ এ জামাত-শিবিরের কিছু ঘৃন্য কর্মকান্ডের নমুনা দিলাম মাত্র। আমাদের কিছু ভুলকেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাই আশা করবো আমরা এদের বিভ্রান্তির মধ্যে যেন আর না পড়ি। এদের একসাথে বয়কট করতে হবে যতক্ষণ না এদেশ থেকে এই বিষবৃক্ষের মূল উপড়ে ফেলা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৩
১৮টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×