বাসে বসে সাধারণত আমরা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি, আমিও জানালাদিয়ে রাস্তার অন্য গাড়িগুলো দেখছি। দশ পনের মিনিট পর মনে হল আমার বা কাধে ভারী কিছু একটা চাপানো!! একটু কেমন গরম গরমও লাগছে। ঘাঢ় ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখি সেই নিদ্রাগত বিদ্যার্থী আমার কাধে মাথা রেখে দিব্যি বালিশের কাজ চালিয়ে নিচ্ছে!!??
আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। একবার মায়া হল; বেচারা সারাদিন পড়ে একদম গলে গেছে, কাধে মাথা রেখে একটু ভালভাবে ঘুমাতে চাইছে ঘুমাক! কিন্তু যখন দেখলাম সে তার মুখটি রসের হাড়ির মত খুলে রেখেছে তখন আর সে ইচ্ছাটা থাকল না। কখন না জানি রসের ভান্ডো আমার কাধেই উপুড় করে দেয়!! সেই ভয়ে আমি হঠাৎই একটু নড়েচড়ে পাশে সরে বসলাম। সে এই বিঘ্নতে কিছুটা চমকে উঠে এবার ঠিক হয়ে সোজাভাবে সীটে গা এলিয়ে দিয়ে আবার তার রসের ভান্ডোটি খুলে দিয়ে ঘুমাতে লাগল! আমি ভাবলাম আপদ দুর হল!!
কিন্তু সে মনে হয় এত সহজে ছাড়ার পাত্র না! আমি তার পাশ থেকে অনেকটা সরে আসার পরও সে সেতুর মত গলাটা পাশে এলিয়ে ঠিক আমার কাধে আবার মাথা দিয়ে ঘুমাতে লাগল। আমি আরও খানিকটা সরে আসলাম, কিন্তু সে নাছোড়বান্দা - আজকে সে আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাবেই। আমি যতই নড়েচড়ে তার মাথাটা সরিয়ে দেই, একটু পরই দেখি সে ঠিক আবার কাধে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে!
শেষে টিকতে না পেড়ে আমার সহযাত্রীকে ডেকে তুলে বললম -" ভাই, আপনি আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাবেন সে ভালো কথা; কিন্তু তার জন্য চার্জ দিতে হবে। বলেন আপনি কতদূর যাবেন, আমি সেই মত আপনাকে কত টাকা চার্জ আসবে বলে দিচ্ছি!"
কথা গুলো মনে হয় সে বিশ্বাস করতে পারছিলোনা!! দেখি অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর সে ঠিক হয়ে সরে বসলো, ততক্ষণে সব ঘুম ছুটে গেছে!!!!!!!!!!!
এবার আমিও একটু গা এলিয়ে দিয়ে বসলাম। যাক! সে আর ঘুমাবে না
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


