গতকাল অফিস শেষ করে গুলশান ২ নম্বর থেকে বাসায় ফিরছি। আকাশে হালকা মেঘ। টিকিট কেটে অপেক্ষমান বাসে উঠে পড়লাম। দুপুরের শেষ দিকে বাসে যাত্রী কম। মহাখালী ছাড়িয়ে মোটামুটি জনা ত্রিশেক যাত্রী হল। খালি বাসে সবাই বেশ এলিয়ে দিয়ে নবাবী চালে বসে আছে। ফ্লাইওভারের কাছে আসতেই মুহূর্তে আকাশ কালো করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো - যাকে বলে মুষলধারে বৃষ্টি। এবং একটু পরই বাসের ছাদ থেকেও অবিরত জল ধারা নামতে লাগলো। ভারত থেকে সদ্যই আমদানিকৃত সিএনজি বাস..তার এমন ভেতরে এমন ভাবে পানি পড়তে লাগলো যে বৃষ্টি বাইরে হচ্ছে না ভেতরে তা বোঝার উপায় ছিলনা। অল্প পরেই বসার সিট সহ বাসের ভেতর পানি দিয়ে ভেসে গেল। যাত্রীরা সব বাস ড্রাইভার, হেল্পার আর বাস কোম্পানি কে শাপশাপান্ত করতে করতে পানি থেকে গা বাচাতে দাড়িয়ে গেছে। আমার সাথে ছাতা ছিল, বৃষ্টির দিন - কখন কী হয়!! তবে প্রায় সময়ই ছাতাটা কোন কাজে লাগেনা, শুধু হাতে নিয়ে বেড়ানো। ........ কিন্তু এইবার ছাতাটা আমার কাজে লাগলো। খামাখা না দাড়িয়ে আমি ছাতা খুলে মাথার ওপর ধরে সিটে বসে রইলাম। প্রথম প্রথম সবাই আমার কান্ড দেখে বেশ মজা পাচ্ছিল, কিন্তু বৃষ্টির ছাট বাড়তেই আমার দেখাদেখি বাসের অন্য ছাতাগুলো ও খুলে গেল। আমরা যারা ছাতা এনেছি তাড়া সবাই ছাতা মাথায় বাসে বসে-দাড়িয়ে রইলাম, বাকিরা সব কাকভেজা হল।
একেই বলে কপাল! কখন কোথায় কী কাজে লেগে যায় তা বলা যায়না। বাসের ভেতর সবাই ছাতা মাথায় বসে আছে, সে আসলেই এক অভাবনীয় দৃশ্য ছিল। আর কখনো এ দৃশ্য দেখতে পাব কিনা..........তাই বাস থেকে নামার আগমুহূর্তে একটা ছবি তুলে ঘটনাটা অমর করে রাখলাম। আমি বেশ মজা পেয়েছি ঘটনাটাতে, কিছুটা মজাটা যাতে আপনারাও পান তাই ছবিটা দিয়ে দিলাম
পুনশ্চ: অনেক দিন পর ব্লগে এলাম। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আমি ডলার (not $) ওপর আছি
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২১