somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রকমারি শাড়ি পরার ঢং এবং তার ছবি ।

২২ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রায় ১০৮ ভাবে শাড়ি পরা যায় !!!!!!সবগুলোর নাম ও জানি না। যেগুলো জানিঃ নিভি, বাঙ্গালি, গুজরাটি,তামিল, শ্রীলঙ্কান, রাজস্থানী, রাজরানী, কুরগি, মহারাষ্ট্রিয়ান, মারমেইড, মমতাজ, হিপহপ, অরিয়া, কদাগু, দ্রাভিদিয়ান, মাদিসার, গোব্বি, মালায়লি, কুনবাই, কেরালা, কারাইকাল জেলেনি স্টাইল, ফিজিয়ান, কাপ্পুলু , আন্ধ্রাস্টাইল, সিতা স্টাইল , স্কয়ার নিভি, ট্রাইবাল স্টাইল, ঘাঘরাস্টাইল,দুপাট্টাস্টাইল, দক্ষিনি, রেডি শাড়ি , ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ।

তবে ১০৮ রকম ভাবে শাড়ি পরা গেলেও শুধু নিভি, বাঙ্গালি, গুজরাটি, তামিল এবং শ্রীলঙ্কান স্টাইল টা হল ইউনিক বাকি গুল সব এই পাঁচটির ভারিয়েশন ।এই পর্যায়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । সকল প্রকারের বর্ণনা বা ছবি দেওয়া সম্ভব না। রেডি শাড়ি সহ চলুন দেখি ইউনিক পাঁচটি স্টাইলে শাড়ি কিভাবে পরে।


রেডি শাড়িঃ সবচেয়ে আধুনিক শাড়ি পরার যে চল সেটি হল রেডি শাড়ি বা প্রি স্টিচ শাড়ি । এই শাড়ি তে রেডিমেট কুচি বানানো থাকে । মাজার অংশে ডান দিকে একটি এবং বাম দিকে একটি হুক থাকে ।বাম দিকে আসলে কয়েকটি হুক থাকে বেল্টের যেমন কয়েকটা ফুটো থাকে তেমন। মাজার সাইজ অনুযায়ী আগে পরে লাগাতে হয়। হুক দুইটি বাঁধিয়ে বাকী অংশ টা কাধে ফেল্লেই শাড়ি পরা হয়ে গেল । কুচি করা লাগবে না । আচলের মেজারমেন্ট করা লাগবে না । শাড়ি খুলে যাবার ও কোন সুযোগ নাই ।


নিভি স্টাইলঃ এর পর সব চেয়ে কমন হল নিভি স্টাইল। নিভি নাম কেন হল জানি না । শাড়ি পরতে গেলে পেটিকোট আর ব্লাউজ পরতে হয় সেটা তো বলার দরকার নাই । আর এই ভাবে শাড়ি পরার জন্য প্রথম ধাপে মাজার উপর একবার বাম দিক থেকে ডান দিকে শাড়ি পেচিয়ে নিতে হবে । এই পর্বে ঠিক করে নিতে হবে শাড়ির ঝুল বা নিচের প্রান্ত কত লম্বা হবে । মাটি ছুতে যত টুকু দরকার তত টুকু ঝুল রেখে মাজার দিকের শাড়ির প্রান্ত পেটিকোটের ভিতর সব পাশ ঘুরিয়ে গুজে দিতে হবে । দ্বিতীয় ধাপে পেটিকোটের ভিতর শাড়ি গুজে যেখানে শেষ হয়েছে সেখান থেকে শুরু করে ৫ ইঞ্চি মত ধরে ৭ থেকে ১০ টি কুচি বানাতে হবে। কুচি বানানো হয়ে গেলে সব গুলো কুচি একসাথে ধরে নাভির উপর পেটিকোটের ভেতর গুজে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে নিচের ঝুল যেন ঠিক থাকে। কুচি গোজা শেষ হলে শাড়ির বাকী অংশর প্রথম কয়েক ইঞ্চি আবার পেটিকোটের ভেতর গুজে বাকী অংশ বাম দিক দিয়ে পেছন দিক ঘুরিয়ে সামনে আনতে হবে । এরপর যে অংশ সামনে আসলো সেটাই আঁচল । এবার আঁচলটা আড়াআড়ি করে কাধের উপর ফেলতে হবে। আঁচলের শেষ অংশ কাধের উপর দিয়ে পেছনে থাকবে । কতটুকু আঁচলের অংশ পেছনে থাকবে সেটার পরিমাপ ও আগে থেকে ধারনা করে নিতে হবে ।




বাঙ্গালি স্টাইলঃ বাঙ্গালি স্টাইল টা খুবি মনহর। আমাদের দেশ সহ সারা ভারতে খুবি পপুলার। এটাকে দেবদাস স্টাইল ও বলা হয় ।আর এই ভাবে শাড়ি পরার জন্য প্রথম ধাপে কোমর বরাবর নাভির সামনে থেকে শুরু করে বামে যেয়ে একটি ৩৬০ ডিগ্রী বৃত্তাকারে কোমরের চারিদিকে ঘুরিয়ে পেটিকোটে শাড়ি গুজতে গুঁজতে আবার ডান দিক দিয়ে নাভির সামনে পযন্ত নিয়ে আসতে হবে । এই পর্যায় আবার উল্টা দিকে মানে আবার ডান দিকে গুঁজতে গুঁজতে পেছন পযন্ত আসতে হবে । পেছনে আসার পর শাড়ির যে অংশ টি পেছনে মাঝামাঝি পেটিকোটের ভেতর গোজার কথা সেখানে শাড়ীতে একটা গিট বানাতে হবে। এবং ওই গিট টা পেছনে মাঝামাঝি বা একটু বাম ঘেসে পেটিকোটের ভেতর গুজে দিতে হবে। এবার বাকি শাড়ি আড়াআড়ি করে বাম কাধের উপর হাতের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে আবার ডান হাতের নিচ দিয়ে আঁচল সামনে এনে আবার বাম বা ডান কাধে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শাড়ি যেন প্যাচ না পড়ে যায় এবং নিচের প্রান্ত যেন সব সময় ফ্রি থাকে ।


গুজরাটি স্টাইল ( উল্টা আঁচল ); এটাতে প্রাথমিক সব কিছু নিভি স্টাইলের মত হবে কিন্তু কুচি গোজার পর বাম হাতের নিচ দিয়ে পেছন ঘুরিয়ে সামনে না এনে ডান কাধের উপর দিয়ে পেছন থেকে সামনে আনতে হবে। মানে বাম হাতের নিচ দিয়ে পেছন দিক দিয়ে আড়াআড়ি ডান কাধে উঠে যাবে এবং আঁচলটা পেছন দিকে না ঝুলে সামনে ঝুলবে। একদম শেয ধাপ হল ঝুলন্ত আচলের নিচের কোনা টেনে নিয়ে কোনাকুনি ভাবে ডান সাইডে শাড়ির সাথে সেফটিপিন দিয়ে আটকে দিতে হবে। আর একটা কোনা ফ্রি থাকবে।




তামিল (পিনকসু স্টাইল); এই ধরনের শাড়ি পরার সময় কুচির মাথা বের করে পরা হয়, এই কুচির মাথাকে মুন্ডি বলে। শাড়ি গায়ে জড়ানোর আগেই প্রথমে শাড়ির আঁচল যে দিকে তার উল্টো দিকের শুরুতে ৫ থেকে ৭ টি কুচি করে নিতে হবে ।আসলে কুচি করার সময়ই ডিসিশন নিতে হবে কি ধরনের মুন্ডি হবে । যদি ফ্ল্যাট মুন্ডি হয় তাহলে কুচি বানাতে হবে বড় বড় ভাজ দিয়ে যদি পাখার মত করতে হয় তাহলে ছোট ভাজ করতে হবে। এর পর ওই কুচি শরীরের পেছনে পেটিকোটের সাথে লাগিয়ে ধরে শাড়ি দিয়ে কোমরে প্যাচ শুরু করতে হবে। শাড়ি পেচিয়ে সামনে এনে আবার পেছনে নিয়ে ওই কুচির উপর দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কুচির উপর দিয়ে যখন প্যাচ যাবে তখন খেয়াল করতে হবে দেড় বিঘাত মত কুচির মাথা যেন প্যাচ এর উপরে বেরিয়ে থাকে। এরপর নিভি স্টাইল এর মত আবার আঁচল ঘুরিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে ঝুলাতে হবে । নাভির কাছে একটা গিঁট দিতে হবে। এর পেছনের কুচি গুলো সুন্দর করে ফ্ল্যাট করে অথবা পাখার মত করে সাজিয়ে দিতে হবে । কুচি শুধু পেছনে না । কখনো সাইডেও দেওয়া হয়। মূল বিষয় যেটা সেটা হল কুচির ঝুল কোমরের প্যাচ এর নিচে থাকবে শুধু কুচির মাথা দেখা যাবে।


শ্রীলঙ্কান ( ক্যান্ডিয়ান স্টাইল ) এই শাড়ি পরার স্টাইল টা ও খুবি ইউনিক। অন্য সব স্টাইলে শাড়ি পরার সময় প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শাড়ীটি কোমর থেকে পরে আঁচলটি আটকিয়ে নেয়া হয়. কিন্তু শ্রীলঙ্কান রীতিতে আঁচল প্রথমে আটকিয়ে পরে কোমরে পরা হয়। প্রথমে আঁচল এর অংশ আড়াআড়ি কুচি করে বাম কাধে ফেলতে হবে এবং সুন্দর করে সেট করে নাভি পযন্ত এনে একটা আলাদা কাপড়ের বেল্ট দিয়ে ভাজটাকে ভেতরে রেখে কাপড়ের বেল্ট টা কোমরে বাঁধতে হয়। এরপর শাড়ির যে অংশ নিচে অবশিষ্ট আছে তা ডান দিকে প্যাচ দিয়ে মাজায় পরে সামনে এনে ৪/৫ টি কুচি করা হয় ।কুচির উপরের অংশ আগে যে বেল্ট পরা হয়েছে তার ভেতর ঢুকিয়ে সামনের দিকে কুচির মাথা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরও বাকি যে অংশ থাকে সেটুকু আবারও ডান দিকে প্যাচ দিয়ে মাজায় পরে কোনাটা মাজায় গুজে দেওয়া হয়। তামিল(পিনকসু) স্টাইল এর মত কুচির ঝুল কোমরের প্যাচ এর নিচে থাকবে শুধু কুচির মাথা দেখা যাবে।

আরও কিছু স্টাইল ।





সুত্রঃ ইন্টারনেট ।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৩
৪২টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×