বান্দরবানের থানছি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে গো হত্যা উৎসব। বুধবার রাত হতে এই উৎসবের শুরু। ম্রো উপজাতিরা এই উৎসব করে থাকে। ম্রো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব এটি। একটি মোটা তাজা গরুকে তারা প্রথমে খাঁচায় বন্দী করে। তারপর চারদিক থেকে সুচাঁলো তীর সহ আরো বিভিন্ন আক্রমণের বস্তু ব্যবহার করে ঐ গরুকে আক্রমণ করতে থাকে।
তাদের ধর্মবিশ্বাস তাদের সৃষ্টিকর্তা তুরাই তাদের জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠিয়েছিলেন। গরু সেটা খেয়ে ফেলে। এ জন্য গরুকে নির্মমভাবে হত্যা করার মাধ্যমে তারা প্রতিশোধ নেয়। এসময় বাসায় বাসায় বিভিন্ন রকম পিঠা বানানো হয়। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাঁশের বাশি বাজানো হয়। এটাই গো হত্যা উৎসব। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিবাহিতরা গো হত্যায় অংশ নিতে পারে না।
এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন দুই প্রতিমন্ত্রী। বীর বাহাদুর এবং দীপংকর তালুকদার। জাইক্ষ্যং পাড়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মূল অনুষ্ঠান।
গো হত্যা উৎসবের কথা শুনে ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল।
তখন ভোটার লিস্টে কাজ করছিলাম। আমাদের পাঠানো হলো বোডিং পাড়া নামক এক দুর্গম এলাকায়। উচু উচু পাহাড় দুর্গম রাস্তা পার হয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা পর ঐ এলাকায় পৌছলাম আমরা। ব্লগার সৌম্য ভাই ঐ এলাকা সম্পর্কে পোস্টও দিয়েছেন। পাড়ার লোকসংখ্যা খুব কম। সবাই মুরুং। ম্রো। মনে করেছিলাম তারা বৌদ্ধ। বেশির ভাগ জনই বাংলায় কথা বলতে পারে না। একটা ছেলে বাহিরে পড়ালেখা করে তার সাথে পরিচয় হলাম। ওর থেকে জানলাম বৌদ্ধ আর ম্রোদের ধর্মের মধ্যে পার্থক্য আছে। গো হত্যা উৎসব তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বলে সে জানিয়েছিল। এর কারণ ও বলেছিল। কলাপাতায় তাদের কাছে ধর্মীয় বাণী পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গরু সেটা খেয়ে ফেলেছে। এই কারণেই তারা প্রতিশোধ নিতে গো হত্যা উৎসব করে থাকে।
ম্রো তথা মুরুংদের সম্পর্কে একটু বলে নিই। ওরা শান্ত প্রকৃতির। তবে একটু ট্যারাও। যা করবে না বলবে তা তাদের দিয়ে কোন ভাবেই করানো সম্ভব না।
ভোটার করার জন্য এক মুরুংয়ের ছবি তুলছি। ক্যামেরা দেখিয়ে বললাম, ক্যামেরার দিকে তাকাতে। সে বুঝল আমি তাকে ক্যামেরা ধরতে বলেছি। সে শক্ত হাতে দেখি ক্যামেরা ধরে ফেলেছে। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম ক্যামেরা অক্ষত থাকে কিনা তা নিয়ে।
আরেক মুরুং আসল ভোটার হতে। চুল এলেমেলো। একটা কথা বলে নিই, পুরুষ মুরুংরাও অনেক বড় চুল রাখে। মেয়েদের মত। তো আমি ইশারায় বললাম, মাথার পিছনে করে চুল বেঁধে নিতে। দেখি সে তা করছে না। আবার বললাম, দেখি তারপরও চুপ করে বসে আছে। তৃতীয় বার বলাতে দেখি সে উত্তেজিত। চুল বাঁধবে না। আমার দিকে রাগত চোখে তাকাল। দোভাষীকে ডাকলাম। দেখি দোভাষীকে গর্জন ভাষায় কি বলছে। দোভাষী কি যেন বলল ওদের ভাষায়। তা শুনে শান্ত হলো এবং মাথার উপর চুল বাঁধতে লাগল।
দোভাষী আমাকে বলল, ওকে পিছনের দিকে চুল বাঁধতে বলায় সে রাগ করেছে। কেননা পিছনের দিকে চুল মেয়েরা বাঁধে, কিন্তু ওতো ছেলে। পিছনের দিকে চুল বাঁধতে বলায় সে অপমানিত বোধ করেছে। মাথার উপরে চুল বাঁধতে বলি নাই কেন?
আমাদের সাথে যাওয়া সেনা সদস্য ও বি ডি আর সদস্যরা বলল মুরুংরা অনেক শান্ত প্রিয়। শান্তি বাহিনী যখন হামলা করত তখন মুরুংরা তা পছন্দ করত না, মুরুংরা সেনাবাহিনীকে সাহায্য করত। বিভিন্ন তথ্য দিত।
উপজাতিদের মধ্যে অনেক পিছিয়ে আছে যেসব জাতি তাদের মধ্যে মুরুং রা অন্যতম। অনেক পিছিয়ে আছে তারা।
ম্রোদের জন্য রইল শুভ কামনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




