somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গো হত্যা উৎসব

০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বান্দরবানের থানছি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে গো হত্যা উৎসব। বুধবার রাত হতে এই উৎসবের শুরু। ম্রো উপজাতিরা এই উৎসব করে থাকে। ম্রো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব এটি। একটি মোটা তাজা গরুকে তারা প্রথমে খাঁচায় বন্দী করে। তারপর চারদিক থেকে সুচাঁলো তীর সহ আরো বিভিন্ন আক্রমণের বস্তু ব্যবহার করে ঐ গরুকে আক্রমণ করতে থাকে।

তাদের ধর্মবিশ্বাস তাদের সৃষ্টিকর্তা তুরাই তাদের জন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠিয়েছিলেন। গরু সেটা খেয়ে ফেলে। এ জন্য গরুকে নির্মমভাবে হত্যা করার মাধ্যমে তারা প্রতিশোধ নেয়। এসময় বাসায় বাসায় বিভিন্ন রকম পিঠা বানানো হয়। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাঁশের বাশি বাজানো হয়। এটাই গো হত্যা উৎসব। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিবাহিতরা গো হত্যায় অংশ নিতে পারে না।

এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন দুই প্রতিমন্ত্রী। বীর বাহাদুর এবং দীপংকর তালুকদার। জাইক্ষ্যং পাড়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মূল অনুষ্ঠান।

গো হত্যা উৎসবের কথা শুনে ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল।

তখন ভোটার লিস্টে কাজ করছিলাম। আমাদের পাঠানো হলো বোডিং পাড়া নামক এক দুর্গম এলাকায়। উচু উচু পাহাড় দুর্গম রাস্তা পার হয়ে প্রায় ৫ ঘন্টা পর ঐ এলাকায় পৌছলাম আমরা। ব্লগার সৌম্য ভাই ঐ এলাকা সম্পর্কে পোস্টও দিয়েছেন। পাড়ার লোকসংখ্যা খুব কম। সবাই মুরুং। ম্রো। মনে করেছিলাম তারা বৌদ্ধ। বেশির ভাগ জনই বাংলায় কথা বলতে পারে না। একটা ছেলে বাহিরে পড়ালেখা করে তার সাথে পরিচয় হলাম। ওর থেকে জানলাম বৌদ্ধ আর ম্রোদের ধর্মের মধ্যে পার্থক্য আছে। গো হত্যা উৎসব তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বলে সে জানিয়েছিল। এর কারণ ও বলেছিল। কলাপাতায় তাদের কাছে ধর্মীয় বাণী পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গরু সেটা খেয়ে ফেলেছে। এই কারণেই তারা প্রতিশোধ নিতে গো হত্যা উৎসব করে থাকে।

ম্রো তথা মুরুংদের সম্পর্কে একটু বলে নিই। ওরা শান্ত প্রকৃতির। তবে একটু ট্যারাও। যা করবে না বলবে তা তাদের দিয়ে কোন ভাবেই করানো সম্ভব না।

ভোটার করার জন্য এক মুরুংয়ের ছবি তুলছি। ক্যামেরা দেখিয়ে বললাম, ক্যামেরার দিকে তাকাতে। সে বুঝল আমি তাকে ক্যামেরা ধরতে বলেছি। সে শক্ত হাতে দেখি ক্যামেরা ধরে ফেলেছে। আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম ক্যামেরা অক্ষত থাকে কিনা তা নিয়ে।

আরেক মুরুং আসল ভোটার হতে। চুল এলেমেলো। একটা কথা বলে নিই, পুরুষ মুরুংরাও অনেক বড় চুল রাখে। মেয়েদের মত। তো আমি ইশারায় বললাম, মাথার পিছনে করে চুল বেঁধে নিতে। দেখি সে তা করছে না। আবার বললাম, দেখি তারপরও চুপ করে বসে আছে। তৃতীয় বার বলাতে দেখি সে উত্তেজিত। চুল বাঁধবে না। আমার দিকে রাগত চোখে তাকাল। দোভাষীকে ডাকলাম। দেখি দোভাষীকে গর্জন ভাষায় কি বলছে। দোভাষী কি যেন বলল ওদের ভাষায়। তা শুনে শান্ত হলো এবং মাথার উপর চুল বাঁধতে লাগল।

দোভাষী আমাকে বলল, ওকে পিছনের দিকে চুল বাঁধতে বলায় সে রাগ করেছে। কেননা পিছনের দিকে চুল মেয়েরা বাঁধে, কিন্তু ওতো ছেলে। পিছনের দিকে চুল বাঁধতে বলায় সে অপমানিত বোধ করেছে। মাথার উপরে চুল বাঁধতে বলি নাই কেন?

আমাদের সাথে যাওয়া সেনা সদস্য ও বি ডি আর সদস্যরা বলল মুরুংরা অনেক শান্ত প্রিয়। শান্তি বাহিনী যখন হামলা করত তখন মুরুংরা তা পছন্দ করত না, মুরুংরা সেনাবাহিনীকে সাহায্য করত। বিভিন্ন তথ্য দিত।

উপজাতিদের মধ্যে অনেক পিছিয়ে আছে যেসব জাতি তাদের মধ্যে মুরুং রা অন্যতম। অনেক পিছিয়ে আছে তারা।

ম্রোদের জন্য রইল শুভ কামনা।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×