ভুতো

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

ভুতোকে চেনেন? সেই যে রোগাপটকা ছেলেটা এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়? অসাধারণ একটা এডভেঞ্চার গল্প পেলাম কদিন আগে এক লেখকের থেকে। তিনি অনুগ্রহপূর্বক আমার ওয়েবসাইটে হোস্ট করেছেন গল্পটি। বইটি থেকে এক খামচি তুলে দিলাম। বাকিটা ডাউনলোড করণীয়।

ভূতোর এডভেঞ্চার

আমার পরিচিত একজন ক্রিটিক মেইলে জানিয়েছেন এই লেখক যদি লেখা চালিয়ে যান, আনিসুল হকের যায়গা নিতে পারেন। আপনারাই পড়ে দেখেন।

বই থেকে.....
ভাল করে ভাবল ভুতো। ওকে তাবিজটা ভাল করে রাখতে বলেছে। হারাতে নিষেধ করেছে। কোথায় রাখবে সে? লুকিয়ে রাখবে কোথাও? নাকি হাতে বাঁধবে? অন্যরা যেমন বাঁধে। হাতে বাঁধতে হলে কারো সাহায্য লাগবে। সে একাএকা একহাতে বাঁধতে পারবে না। আর কারো কাছে গেলেই তাকে বলতে হবে সবকিছু। সে এক ঝক্কি। ভুতো দেখেছে সবাই বিনা কারনেই কেমন কথা বলে। এ কান থেকে সে কান, তারপর সারা গাঁয়ে ছড়িয়ে পরবে সে কথা। অনেকে উদাসীবাবার কাছে তাবিজ চেয়েছে, পানিপড়া চেয়েছে, উদাসীবাবা কাউকে কিছু দেয়নি। আর সে না চাইতেই তাকে তাবিজ দিয়েছে একথা বিশ্বাস করবে কে? তাকেই খোঁচাবে সবাই মিলে।
বেশি কথা পছন্দ করে না ভুতো। দরকার নেই বাবা, তারচেয়ে কোথাও লুকিয়ে রাখি।
দুপুরে বাড়িতে খেতে এসে প্রথমেই তাবিজ লুকিয়ে রাখার যায়গা খুঁজল ভুতো। সবচেয়ে ভাল হয় কোথাও পুতে রাখলে। কেউ জানতে পারবে না। ওদের উঠোনের বামদিকে ছোটছোট গাছপালা। কয়েকটা কলাগাছ। ওখানে মাটি নরম। সহসা কেউ খুঁড়তে যাবে না। ওখানে কোন গাছের কাছে লুকিয়ে রাখলে হয়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যায়গা বাছতে লাগল ভুতো। তাবিজ বের করে হাতে ধরল। আর তক্ষুনি আবার-
ভুতো দেখতে পেল ওর সামনের দৃশ্য পালটে গেছে। ওদের তেঁতুল গাছটা নেই, কাঠাল গাছটাও নেই। সেখানে কি যেন গাছ সার বেঁধে লাগানো। সবগুলো সমান সমান গাছ, গাঢ় রঙের ঝকঝকে সবুজ পাতা। তারই মধ্যে দিয়ে রাস্তা। পরিস্কার ঝকঝকে রাস্তা। রাস্তায় লোক। ভুতো দেখল কয়েকজন লোক, ঝলমলে পোষাক পরা, হেঁটে গেল। ওদের হাতে লাঠির মত কি যেন। মাথায় লোহার ফলা লাগানো। এগুলোকে বলে বর্শা। ওরা যাকে বল্লম বলে তারই মত, তবে মাথা অনেক চওড়া আর নক্সা করা। সেখানে একটুকরো লাল কাপড় বাঁধা। একজনের কোমড়ে তলোয়ার ঝোলানো। তার পেছনে একটা ছোট সাজানো ঘর, চারজন ঘাড়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ওটার নাম পাল্কি, জানে ভুতো। আগে মানুষ ওতে করে চলাফেরা করত। নক্সাদার পাল্কি। ভেতরে কে যেন বসে আছে। মোটাসোটা একজন লোক, উচু পেটটা দেখা যাচ্ছে। তার গায়েও নক্সাকরা পোষাক। মুখ দেখা যাচ্ছে না। পাল্কির পেছনে আরো কয়েকজন বর্শাহাতে লোক। তারপরই, হাতবাঁধা একজন লোক। তাকে নিয়ে যাচ্ছে দুজন হাতে বাঁধা দড়ি ধরে টেনে টেনে। লোকটা হাঁটতে পারছে না। পরে পরে যাচ্ছে। তখনই পেছন থেকে একজন ধাক্কা মারছে। পরে যাওয়া চলবে না।
হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেল দৃশ্যটা। আবার আগের মতই সবকিছু। সেই তেঁতুল গাছ, সেই কাঠাল গাছ। সেই হেঁটে চলা রাস্তা।
ভুতো ভয় পেল না। তাকাল হাতের তাবিজের দিকে। এটাই- এরই জন্য এসব হচ্ছে। এটা হাতে থাকলেই সে কিসব দেখতে পাচ্ছে। অনেক মজার মজার গল্প শুনেছে ভুতো। আলাদিনের প্রদীপ, যাদুর চাদর, যাদুর আঙটি। এটাও তেমনি। যাদুর তাবিজ। এটা হাতে রাখলে মজার মজার ঘটনা দেখা যায়।
ঘুরে এসে বারান্দায় বসল ভুতো। ওর সামনে কেলো হেঁটে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা, ও-ও কি দেখতে পাবে এসব? একবার নিজেকেই প্রশ্ন করল ভুতো। তারপর কেলোকে ধরে এনে বারান্দায় বসাল। তাবিজের সুতোটা ওর গলায় জড়িয়ে ধরে রাখল ওকে। তাকিয়ে থাকল ওর দিকে।
কেলো কিছুই করল না। চুপ করে বসে থাকল। তারপর সামনে কি একটা পোকা দেখতে পেয়ে ভুতোর হাত ঠেলে উঠে লাফ দিল। দৌড়ে চলে গেল একদিকে।
তাবিজটা আবার পকেটে রাখল ভুতো। নাহ- কেলো ওসব কিছু দেখেনি। হয়ত ও বেড়াল বলেই। অন্য কোন মানুষ হলে ঠিকই দেখতে পেত। যেমন ও দেখেছে। দু-দুবার। তাবিজটা আর মাটিতে পুঁতে রাখা হল না। ওটা পকেটে নিয়েই আবার দৌড়াল দোকানের দিকে। রাত পর্যন্ত থাকতে হবে সেখানেই।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: নেট কালেকশনবইমেলা ওয়েবসাইট  বিভাগে ।

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ১৮৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩০
comment by: মানুষ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। আগের বইদুটো তেমন ভালো লাগেনি। দেখা যাক এটা কেমন লাগে।
২. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৫৭
comment by: ফরিদ বলেছেন: আমার কাছে নতুন লেখক হিসেবে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হয়েছে ওনার লেখা। আর আগে একটাই বই বেরিয়েছিল (অনলাইনে) আমি যতদুর জানি
৩. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১৫
comment by: পাগলা বাবু বলেছেন: ভুতো কথাটায় একটা কথা মনে পড়লো । আমার এক তিন বছরের ভাস্তাকে গল্প বলতে বললে ভুতো দিয়ে শুরু করে আর ভুতো দিয়ে শেষ ।তার সব গল্পেই কেন যানি ভুতো থাকবেই ।
৪. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:১৫
comment by: এক পশলা বৃষ্টি বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।

পরে সময় করে পড়ে দেখবে না হয়...
৫. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৩৬
comment by: ম স রানা বলেছেন: বইমেলা ,বই পড়ার লিন্কটা দিবেন?
৬. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮
comment by: ফরিদ বলেছেন: "ভূতোর এডভেঞ্চার" লিঙ্ক যেই পেজে নিয়ে যায়, সেটিতে ডাউনলোড বুক নামে একটা লিঙ্ক আছে। সেটি ব্যাবহার করুন।

 



 



বাংলাদেশের অনলাইন এক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য বহুদিন ধরে ঠেলাঠেলি করছি।
কিন্তু এই পাথর নড়ে নাঃ(
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪২১৪২