ডেথসার্ভার
২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৫৩
একদিন ধুম করে মরে যেতে হবে। সবচেয়ে ইউনিভার্সাল হাচা কথাগুলোর মধ্যে এটা একটা। কথা সহজ, মতলব সিম্পল, মেনে নেয়া মুশকিল। পৃথিবীতে প্রতিদিন আজকালকার হিসেব অনুসারেই লাখ দেড়েক মানুষ দিব্যি ওয়ানওয়ে এক্সপ্রেস ধরে রওনা হচ্ছেন। এই শুকনা লন্ডনী ঈদে এট্টু আজরাইলী কথাবাত্তি মনে করার চেষ্টা করছি। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোর মধ্যে মালাইকা বা ফেরেশতাদের ওপর আনকন্ডিশনাল বিশ্বাস একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। অত্যান্ত ক্ষমতাশালী, ত্রুটিহীন, অনুগত আর নিষ্পাপ এই সৃষ্টিগণ বিভিন্ন আদেশ নিখুঁতভাবে পালনে রত আছেন। কখনো বহু ফেরেশতা এক ধরণের কাজ বা ইবাদতে ব্যাস্ত আবার কখনো একজনই সৃষ্টিজগতের কোন বিশেষ দায়িত্বে ন্যাস্ত। এরকম একজন স্পেশাল মাখলুক হলেন মৃত্যুর প্রতিনিধি। আমার জানামতে কোরআন ও হাদীসে মৃত্যুর মালাইকা নামেই তাকে অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রাণকেই একবারের জন্য হলেও মৃত্যুর এই প্রতিনিধির সাক্ষাত পেতে হবে। নবীগণের সাথে বিভিন্ন সময়ে মালাকুল মাওতের সাক্ষাতকারগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। এখন স্মৃতির থেকে শুধু শিরোনামগুলো উল্লেখ করছি, বাকি ঘটনা সবারই জানা আছে। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর অনুরোধে স্বরূপে মালাকুল মাউতকে দেখা ও জ্ঞান হারানো, সুলাইমান (আঃ) এর রাজদরবারে কোন ব্যাক্তির প্রতি কীক্ষ্ণদৃষ্টি প্রদানের ফলে তার ভিন্ন দেশে পলায়ন ও সেখানে মৃত্যু, সুলাইমান (আঃ) এর নিজের লাঠিতে ভর দিয়ে মৃত্যু, মূসা (আঃ) এর মৃত্যুর সময়ে মালাকুল মাউতের সাথে বাক বিতন্ডতা, অবশেষে অবশ্যই মুহম্মদ (সঃ) এর নিজের মৃত্যুর সময়ের ঘটনা ও কথোপকথন। এর প্রতিটিতেই মানুষের জন্য আছে শিক্ষনীয় উপদেশাবলী।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, একই মালাইকাকে ন্যাস্ত দায়িত্বটি খুব একটা সুবিধার না। আজকালকার হিসেবে প্রতিদিন লাখদেড়েক মানুষের সামনে তো হাজিরা দিতেই হয়, তাছাড়া গোণাগুণতির বাইরে তো প্রাণীজগৎ আছেই আর যদি অণুজীবদের হিসেবে আনা হয় তবে তো কথাই নাই। সংখ্যার হিসেবে ক্যালকুলেটর জ্যাম। তবে জ্বীন আর ইনসান বাদে বাকিদের জন্য সেরকম সৈন্যসামন্ত নিয়ে তাকে হাজির হতে হয়না। এইরকম পড়েছিলাম, সমগ্র প্রাণীজগৎ তাঁর সামনে পরিবেশিত, একটি থালা থেকে খাদ্যের দানা বেছে নেয়ার মতই সহজে প্রাণ সংহারের দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম। তবে বাকি থাকল বুদ্ধিমান প্রাণ যাদের রয়েছে ভালমন্দের সুযোগ। সৎকর্মশীল আর অপকর্মকারীদের জন্য মৃত্যুর বার্তা ও প্রক্রিয়ার যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা একই রকম মনোমুকগ্ধকর ও ভয়াবহ। য়ারো একটি দিক থেকে আমার নিজের কাছে এই মুহূর্তটি খুবই ইন্টারেস্টিং, তা হল, এই নশ্বর খাঁচায় ঢোকার পর এইত প্রথমবারের মত প্রাণের সুযোগ হয় অদৃশ্য জগতের মুখোমুখি হওয়ার। ফলে সেই মুহূর্ত থেকেই সমস্ত বাস্তবতার স্কেল হয়ে যায় পারলৌকিক। কিন্তু পালাবদলের প্রথম ধাক্কাটি হবে দীর্ঘস্থায়ী।
যেকথা বলছিলাম, স্বাভাবিক কৌতুহল হিসেবেই প্রশ্ন ছিল মনের ভেতরে, একই মালাইকা কিভাবে একই সময়ে বহু স্থানে উপস্থিত থাকেন, আর প্রতিজন মানুষের সাথে তার সমপর্যায়ের ব্যাবহার করেন। সহজ জবাব হল, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যখন কাউকে কোন দায়িত্ব দেয়া হয় তখন তা পালনের পূর্ণ ক্ষমতা সহই দেয়া হয়। তাই ক্যামনে কি? আল্লায় জানে। তবে আমার থিউরি ছিল, এই অল্প সময়ের ভিতরেই ন্যানো আর পিকো সেকেন্ডের ভেতর তিনি প্রতিটি প্রাণ সংহারের দায়িত্ব পালন করেন। অতএব মৃতের সংখ্যার হ্রাসবৃদ্ধিতে তাঁর কোন সমস্যা হয়না। দ্বিতীয় থিউরি ছিল, প্রতিজন মৃতের প্রেক্ষিতে মৃত্যুর প্রক্রিয়ার কালে, সময় নামক উপাদানটি স্থির হয়ে যায়। ফলে মৃত্যুর প্রক্রীয়ার যে দীর্ঘ বর্ণনা আছে, তাতে কোন রকমফের হয়না সেই ব্যাক্তি তার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ শান্তিময় বা অশান্তিময় মৃত্যু উপলব্ধি করে কিন্তু পৃথিবীর হিসেবে সময় বাড়েনা। কদিন আগে আরেকটা আইডিয়া মাথায় আসল, মনে হল পরিস্থিতির সাথে এই সম্ভাবনাটিও অসম্ভব না। তা হল, আমরা বর্তমানে ওয়েব বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে বিভিন্ন কর্মকান্ড করে থাকি, তার সহজ সূত্রটি হল, আমরা (অর্থাৎ ক্লায়েন্ট বা আমাদের কম্পিউটার) থেকে কোন একটি সার্ভিসের জন্য অনুরোধ করি। সেটি হতে পারে কোন ওয়েবপেজ ব্রাউজিং এর জন্য, বা মেইল চেকের জন্য পপ সার্ভিস বা ফাইল লেনদেনের জন্য এফটিপি। এই অনুরোধগুলো করে থাকি আমরা কোন সুনির্দিষ্ট সার্ভারকে। এই সার্ভার সাধারণত একটি বা একাধিক কম্পিউটার যারা একত্রে এক কম্পিউটারের মত কাজ করে। আর এই একই সার্ভারে কোন নির্দিষ্ট মুহূর্তে শুধু আপনি বা আমিই যুক্ত নই, বরঞ্চ অনেক সময়েই আরো শত বা হাজার বা লাখো কম্পিউটার সার্ভিস নিচ্ছে। আর বেশীরভাগ সময়েই একই সার্ভিসের জন্য প্রতিটি ভিন্ন ক্লায়েন্ট বা আবেদনকারীকে একই সার্ভার ভিন্নভাবে আচরণ করছে। উদাহরণ হিসেবে একই হটোমেইল বা ইয়াহুর সার্ভারে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢুকছে, তারা প্রত্যেকে শুধু নিজের সম্পর্কিত মেইলই পাচ্ছে, অন্যদেরটা না। তাই একই সার্ভার মাল্টিথ্রেডিং আর প্যারালাল প্রসেসিং এর মাধ্যমে একই সময় অসংখ্য গ্রাহকের চাহিদা মেটাচ্ছে। হতে পারে মৃত্যুর প্রতিনিধির সাথেও একই রকমের ঘটনা। আপনার জন্য তিনি হয়ত সুসজ্জিত সুবেশী ব্যাক্তির ন্যায় হাজির হয়ে চিরকল্যাণের সুসংবাদ নিয়ে আসবে, একই সময়ে পৃথিবীর অপরপ্রান্তে কোন অত্যাচারী তার চির শাস্তির প্রথম ধাক্কা মেটাবে।
ধ্যাত্তেরিকা, শুরু করেছিলাম কোরবানীর সিজন নিয়ে। আজকালকার উৎসর্গগুলো হয় প্রাণহীন আর রিক্ত। আমার নানার ঘটনা শুনেছিলাম। কৃষকের ছেলে হিসেবে অসম্ভব শখ ছিল গরু পালার। রেলওয়ের চাকুরীর সুবাদে প্রায়ই বাড়িতে যথেষ্ট যায়গা থাকত গরু রাখার। একবার এক গাভীর খুবই স্বাস্থ্যবান বাছুর জন্ম হয়। নিয়মিত পরিচর্যা আর খাবার পেয়ে অল্প দিনেই বেড়ে ওঠে। পরের বছর যখন কোরবানীর সময় আসে, বাড়ির গরুগুলোর মধ্যে সেটাই ছিল সবচেয়ে সুন্দর আর পুষ্ট। স্বাভাবিক চয়েস হিসেবে নানাকে সেবার নিজ হাতে বড় করা প্রিয় বাছুরটিকেই বেছে নিতে হয়। নিজ হাতে গলায় ছুরি চালানোর সময় অঝোর বর্ষণে কেঁদেছিলেন। আশা করি নিজ ভালবাসার এই আত্মত্যাগ পরম করুণাময়ের দরবারে কবুল হয়েছিল। যদি কখনো সুযোগ পাই তাহলে আমিও চেষ্টা করব হয়ত ঈদের আগেরদিন না কিনে নিজের প্রিয় পশুটিকে উপস্থাপন করার।
আমাদের মত পাপাচারী মানুষের অন্তরের কলুষতার যে দুটি প্রতিষেধকের তথা বলা হয়েছে, তার মাঝে মৃত্যুর স্বরণ একটি, কুরআনুল করীমের তিলাওয়াত অন্যটি। আমাদের সমগ্র মানবজাতির স্বচ্ছ ও পবিত্র আত্মা নিয়ে মৃত্যুর সৌভাগ্য হোক।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নেই মানুষ বলেছেন:
ভাল লাগলো বস। ঈদ মোবারক
নেই মানুষ বলেছেন:
by the way , brad pitt er ''meet joe black'' মুভিটা দেখতে পারেন। ঐখানে এখটা ব্যাখ্যা পাবেন কিভাবে Death এক সাথে এত মানুষের প্রান নেয় তার
লেখক বলেছেন: Meet Joe Black মুভি হিসেবে ক্ল্যাসি কিন্তু থিউরি অফ ডেথ ওইরকম কিছু না।
তাসু বলেছেন:
খুবই ভালো লাগলো। প্রিয় পোষ্টে রাখলাম।
আর্কিমিডিস এর কাছ থাইক্যা একটা লিভার ধার কইরা নিয়া আসেন।পাথর আবার নড়বোনা!!
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কস, লিভার দিয়া তো গতরতক নড়ানো যায়, মাগার লিভারের ঠেলায় যদি মাইনষের ব্রেইন কাম করানো যাইতো, তাহলে তো লিভার ব্রাদার্স এদ্দিনে ডেইলি বিলিউন বিলিউন কামাইত ![]()
ফজল বলেছেন:
চমৎকার।++
প্রচেত্য বলেছেন:
যেভাবে আসতে হয়েছে ঠিক সেভাবেই ফিরে যেতে হবে - এটাই চিরন্তন ধ্রুব সত্য এবং বাস্তবতালেখাটি ভাল লাগল
ত্রিভুজ বলেছেন:
গুডিশ লেখা.... ঈদ মোবারক ফরিদ ভাই... :-)
লেখক বলেছেন: তেকোনা, বহুদ দিন বাদে, তোরে সামনে পাইলে পরে খবর আসে, আগে তোর নিজের সুন্দর পার্সোনাল টাচ ওয়ালা একখান ওয়েবসাইট আসিল, অহন সেইডারে রেডীমেড টেম্পলেট লাগায়ে, এইখান সেইখান থিকা কপি পেস্ট মাইরা কি অবস্থা বানাইসে।
আগেরটা খিচুড়ি আসিল, মাগার অহনকারটা দেখলে মনে হয় দুই নম্বরী ফাস্টফুড। বেইজ্জতী কারবার।
ফরিদ বলেছেন:
ফজল, মুকুল, তাসু, প্রচেত্য,সবাইকে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হুম স্পেস পাইলে সেইখানে 'কবরের খবর', 'বেহেশতের বাগান' ইত্যাদি কেতাবাদির দুকান দেওয়া যাইব। পাব্লিকে ওয়ানওয়ে এক্সপ্রেসে উঠনের আগে পইড়া নিব। মাগার ততোক্ষণে টাইম ওভার ![]()
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
জ্ঞানী পোস্ট।আমরা আসেন মৃত্যুরে কোয়ান্টাম মেকানক্সের আলোকে আলোচনা করার চেস্টা করি। মানুষ কি? কতগুলান মৌলিক পদার্থর পবাংশনের সৃস্ট। এখানে হয়তো একটা এক্সট্রা প্যারামিটার আসতে পারে সেটা হলো আত্বা যেইটার ডেফিনেশন বা অস্তিত্ব নিয়া কেউ কিছু কইবার পারে না। আমরা যদি ম্যাক্রো লেভেলে চিন্তা করি, তাহলে একটা মানুষের ডেট এক্সপায়ার হয়ে গেলে যেমন ব্রেন আর হ্রতপিন্ড আর ফুসফুস কাম না করলেই ঠুল্লুস। এখহন ধরা যাক কেউ এদের জোর কইরা বাচায় রাখলো, আরো সহজ কইরা বললে ব্রেনখান নিয়াই তো যত ফ্যাকরা, তাহলে আমরা ব্রেনটারেই ট্রান্সপ্লান্ট করায় দেই। তাহলে কি মৃত্যুটাকে প্রোলঙ করা যায়?এখন আসেন মাইক্রো লেভেল চিন্তা করি। ধরেন একজন মানুষ মরনের টাইম হইছে। দেখা গেলো তার শরীর ৫-৬টা অঙ্গের ডিফেক্টের কারনে বডির টাইম এক্সপায়ার্ড। তাইলে আমরা একটা কাজ করতে পারি এই অঙ্গ গুলানরে কোনো একটা স্টেম সেল দিয়া ক্লোন মাইরা তার রক্তের গ্রুপের সাথে মিল রাইখা প্রতিস্হাপন করলেই তো হইয়া যায় নাকি? তাহলেও কি মৃত্যুকে ঠেকানো যাবে না?
আচ্ছা আমরা আরেকটা কাজ করি, দুমাদুম ব্যায়াম আর সুস্হ পরিবেশে রাইখা কিছু আলফা-বিটা রিএ্যাকটেন্ট এজেন্টের মাধ্যমে মানুষের এজিংটাকে প্রোলঙ করাই, তাহলে কি হবে?
এত গুলান অপশন থাকা সত্বেও মানুষ মরে। আসলেই জন্মিলে মরিতে হবে। তবে বিজ্ঞান দেখা যাক কতদূর কি করে!
লেখক বলেছেন: মানুষের কোন অংশটা ঠিক মানুষ তা ঠিক করা কিন্তু বেশ ঝামেলার বিষয়। আমি শিওর এদ্দিনে মানুষ ক্লোনিং বেশকিছু পরীক্ষা হয়ে গেছে। আমারে ক্লোন করা হলে সেটা কি আমিই? বেশ জটিল বিষয়। আমার সহজ ব্যাখ্যা হল, যত্তক্ষণ পর্যন্ত মাটির শরীরে সত্বা বা মানুষের অস্তিত্ব ঢুকছে তদ্দিন তার দাম নেই।
তাই আদম থেকে শুরু প্রথম মানুষ যাকে পাঠানো হয়েছে উদ্দেশ্য আর আদেশ সহ আর একই অবস্থা তার বংশধরগণের।
আমার ক্লোন ফিজিকালি আমি হলেও তার সত্বা ভিন্ন আর তার ট্রিটমেন্টও আলাদা। তাই বডির এইটা সেইটা বদলালেও প্রাণভোমরার আয়ু যেই সেইই।
কেমুন কাটাইলেন ঈদ!!!!
স্টুডেন্ট গো এট্টা পুরুগ্রাম আছল.....জয়েনাইতে পারতেন।।
বস আফনার লম্বর টা ইট্টু দিবেন....মনে লয় কিছু হেলঅপ লাগব আফনার।।।।পিলিজ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















