ফিরে দেখা একাত্তরঃ ফার্স্ট ক্লাস প্রোডাকশন, সেকেন্ড ক্লাস মার্কেটিং
১৯ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৪২
মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ই-সঙ্কলন বের হয়েছে 'ফিরে দেখা একাত্তর' বইটির প্রচ্ছদ, সম্পাদনা, বিন্যাসশৈলি ও উপস্থাপনা সবকিছুই যে কারো নজর কেড়ে নেবার জন্য যথেষ্ট। আমার নিজেরো সঙ্কলিত একটি লেখা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এই বইয়ে। তাই আমি নিজেও ব্যাক্তিগতভাবে বেশ আগ্রহী ছিলাম বইটির বিষয়ে।
বইটি প্রকাশিত হবার প্রায় দুদিন পরে আমার নজরে আসে বইটি। মাঝখানে অন্য ঝামেলায় দুদিনের জন্য ব্লগে ঢুঁ মারা হয়নি। কর্তৃপক্ষ পোস্টটিকে স্টিকি না করলে হয়তো আমারো নজরে আসতো না। তাই সেদিক থেকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। দ্বিতীয় দিনে আমার অনুরোধে লোকালটক বইটির জন্য আমার সাইটের লিঙ্কটিকে প্রথমে নিয়ে আসেন। সেই সময়ে আমার আশা/আশঙ্কা ছিল, যে ব্যাবহারকারীর চাপে আমার সাইটটি ক্র্যাশ করতে পারে। কারণ ইতিপুর্বে এরকম হাই ভলিউমের কোন ফাইল আমাকে হোস্ট করতে হয়নি।
আজকে এক সপ্তাহ পরে বইটির প্রগ্রেস দেখে আমি মাঝারি ধরণের হতাশ। আমার হিসেবে প্রতিদিন কয়েক হাজার ব্যাবহারকারী এসে সার্ভারের মাথার তালু গরম করে ফেলবে। কিন্তু যা দেখলাম প্রতিদিন শখানেক দর্শকের ঘুরাঘুরি। যা এক অর্থে যে বিশাল প্রোডাকশন করা হয়েছে তারে অসম্মান করারই শামিল। কারণ যদি আমরা ফ্যাক্টস হিসেব করি তাহলে,
বাংলাদেশে পরিসংখ্যান অনুসারে, নিয়মিত-অনিয়মিত ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী আছেন পনের থেকে বিশ লক্ষের মত। আমি ধরে নেব এদের মধ্যে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ লক্ষ ব্যাবহারকারী আছেন যারা সপ্তাহে, দু-সপ্তাহে অনলাইনে আসেন। সরাসরি ব্লগের লেখক, পাঠক, বা ব্লগ প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত এরকম হয়ত আছেন পনের থেকে বিশ হাজার ব্যাবহারকারী। একই সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে, আরো বেশ কয়েক লক্ষ ব্যাবহারকারী আছেন দেশের বাইরে প্রবাসে বিভিন্ন দেশে, তারাও এই প্রকাশনার সম্ভাব্য পাঠক।
প্রশ্ন হল, গুটিকয়েক হাজার পাঠক থেকে লক্ষ পাঠকের কাছে পৌছানোর আহসান তরিকা কি হতে পারে।
১। ব্লগের অনেকেই মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাথে সংযুক্ত আছেন। সংবাদপত্র, রেডিও বা টিভিতে এর প্রসঙ্গ টেনে আনা যেতে পারে। সাধারণ ব্যাবহারকারীরা উৎসাহী হয়ে জেনে নিতে পারবেন।
২। নিজের ব্যাক্তিগত বন্ধুমহল, আত্মীয়, পরিচিতদের ইমেইল করে লিঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া। কারণ যারা মাসে-দুমাসেও ইমেইল চেক করেন তারা দিব্যি পড়ে নিতে পারবেন।
৩। সামাজিক সংযোগের জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর সাহায্য নেয়া। ফেসবুক, হাইফাইভ, মাইস্পেস, অর্কুট এদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। আমার পছন্দের মিডিয়াম হল ফেসবুক। কারণ, ফেসবুকের এক বিরক্তিকর ফিচার হল, আপনার বন্ধুবান্ধব একটু মাথা চুলকালে বা কাশি দিলেও সেটি আপনার পেজে খবর হিসেবে চলে আসে। তাই সকল পাঠক যদি যার যার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে 'পছন্দের লিঙ্ক' বা এই ধরনের যায়গায় বইটিকে সংযুক্ত করে নেন তাহলে আপনার সংযোগ আরো অন্য মানুষকে কৌতুহলী করে তুলবে।
৪। অনেকেই ডিগ বা স্টাম্বলআপনের মত বুকমার্কিং সাইটের ব্যাবহারকারী। কোন লিঙ্কের হাজার পাঁচেক ডিগ বা স্টাম্বলআপন এর হিট থাকলে, দেখা যায় অটোমেটিক সেটি অন্যদের উৎসাহিত করে পড়ে দেখার।
প্রথম লিঙ্কঃ
Click This Link
দ্বিতীয় লিঙ্কঃ
Click This Link
ছবিঃ প্রথমটি দৈনিক ওয়েবসাইটের দর্শক সংখ্যা দ্বিতীয়টি ফিরে দেখা একাত্তর বইটির ডাউনলোড স্ট্যাট
প্রকাশ করা হয়েছে: নেট কালেকশন, বইমেলা ওয়েবসাইট বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
আমি আমার পরিচিত মানুষদের ইমেইলে এটাচ করে পাঠিয়েছি। কারন ডাউনলোড লিংক দেয়ার চাইতে এটি বেশি ইফেক্টিভ মনে হয়েছে। ডাউনলোড অথবা সাইট ভিজিট কম হওয়ার একটি কারন এটি হতে পারে।"ফেসবুকের এক বিরক্তিকর ফিচার হল, আপনার বন্ধুবান্ধব একটু মাথা চুলকালে বা কাশি দিলেও সেটি আপনার পেজে খবর হিসেবে চলে আসে" - কথাটা পছন্দ হইছে
ব্রিগেড সিক্সটিন বলেছেন:
আছহাবুল ইয়ামিনের কথাটাও মনে হয় ঠিক।
ফরিদ বলেছেন:
চটজলদি নজর দেবার জন্য ধন্যবাদ। আমি এখনো প্রথম দিনটি মিস করার জন্য আফসোস করি তবে সত্যি বলছি আমি মনে করি এক লক্ষ হিট খুবই অর্জনযোগ্য একটি সংখ্যা।
তবে এখন এগিয়ে নেবার জন্য সোশাল নেটওয়ার্কিং আর প্রিন্ট মিডিয়া ভরসা। প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কমে ফিচার হওয়া উচিৎ এটি নিয়ে। সেখানকার একদুজন মনে হয় এই ব্লগেও লেখেন। খুব সম্ভব শওকত হোসেন মাসুম নাম।
বিডিনিউজ২৪ আরেকটি ভাল সোর্স হতে পারে। বিপ্লব আর পিয়াল ভাই আছেন ওখানে।
মাহবুব মোর্শেদ ভাই কোথায় আছেন ভূলে গেছি। সেটি আরেকটি ক্লু।
ব্রিগেড সিক্সটিন বলেছেন:
প্রিন্ট মিডিয়ার বিষয়টি ভালো বলেছেন। এটা আগে মাথায় আসেনি। অন্য কেউ ই-সংকলনের রিভিউ করলে ভালো হতো।মাহবুব মোর্শেদ প্রথম আলোতে আছেন।
লেখক বলেছেন: এখনো খুব দেরী হয়নি।
আর একই সাথে দুই তিন মিডিয়াতে একবারে না এসে ধীরে ধীরে দুই তিন বারে আসলে মনে হয় ভাল হবে।
একদিনের জন্য এই পোস্টটি স্টিকি করলে মনে হয় আরো কিছু আইডিয়া পাওয়া যেত শেয়ার করার মত।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যাপারটা জরুরী|আমি নিজে আমার বাংলাদেশী সমস্ত কন্ট্যাক্ট কে পাঠিয়েছি, ৭০০ এর মতো| ফিডব্যাক ভালোই|
সুতরাং অতো হতাশ হবার কিছু নেই| সবাই পাঠাচ্ছে বলেই জানি|
হুদাই বলেছেন:
ফরিদ ভাইয়ের এইপোস্ট রিপোস্ট হলে মনে হয় ভাল হতো। ফরিদ ভাই, অনুরোধ বিবেচনা কইরেন। সকলের সহযোগীতা আরো বেশী করে কাম্য।
ফরিদ বলেছেন:
আপাততঃ রি-পোস্ট করার কোন প্ল্যান নাই, তবে মাসুম ভাই জানিয়েছেন এই সপ্তাহের পরের সপ্তাহে মতলব ১ল অগাস্ট প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কমে বইটি নিয়ে বিস্তারিত ফিচার ছাপা হতে পারে। দেখা যাক কি হয়।
লেখক বলেছেন: চেক করলাম কিছুক্ষণ আগে। প্রায় দেড়শর মত নতুন ভিজটর আর একশোর মত নতুন ডাউনলোড। ১৫ই অগাস্ট এটিও এক বিশেষ দিন আমাদের ইতিহাসে। পোস্টটি আজকের জন্য স্টিকি হলেই ভাল হত।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















সন্দেহ নেই, প্রথম দিনেই আপনার লিংকটি পাওয়া গেলে বেশ কিছুটা চাপ পড়তো আপনার সাইটে। প্রথমেই মিডিয়াফায়ারের লিংক ব্যবহার এবং অন্যান্য সাইটেও একই লিংক ব্যবহার কারণে বোধহয় মূল চাপটি মিডিয়াফায়ারের ওপরই গেছে। এইমাত্র মিডিয়াফায়ারের পরিসংখ্যান দেখলাম, ৭৪২ বার ই-বুকটি ডাউনলোড করা হয়েছে। আমার টার্গেট ছিল ১০০০। সবমিলিয়ে এটা হয়তো হয়ে গেছে ইতিমধ্যে অথবা শীঘ্রই হয়ে যাবে।
মার্কেটিং সম্পর্কে যা বলেছেন, তার সঙ্গে একমত। কিন্তু আমার পক্ষে একা আর কী করা সম্ভব? একটু অসহায় বোধ করছি। আর বিষয়টি সামনে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।