আমাদের সময়ে 'ছাপার অযোগ্য' বলে একটা জিনিষ ছিল। সেই সময়ে অক্ষরের কাগজীয় রূপ লাভ করা ছিল উল্লেখযোগ্য কিছু। আর যেকোন কিছু শালীনতার সীমা ছাড়ালে সেটিকে ছাপার অযোগ্য বলে উহ্য করে দেয় হত। সেই রীতি এখনো কাগুজে মাধ্যমে কিছুটা থাকলেও অন্তর্জালীয় জগতে যেখানে যেকারো যাকিছু করার বা লেখার সুযোগ সেখানে মানুষ তাই করছে। যেকেউ যা কিছু করে যাচ্ছে, লিখে যাচ্ছে, বলে যাচ্ছে।
বাংলা কম্পিউটিং জনপ্রিয় করার বিষয়ে যদি কোন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে তবে আমার হিসেবে সেটি হবে গুগল। নিজের স্বার্থে হলেও বাংলাদেশের নিজস্ব ডোমেনে বাংলায় হোমপেজ তৈরি। সম্পুর্ণ ইন্টারফেসের বাংলা ইমপ্লিমেন্টেশন (যদিও কদিন আগ পর্যন্ত্যও জঘন্য বাংলা ছিল, রাগিব ভাইয়ের পোস্টের পরে কিছু মানুষ হয়েছে)। একই সাথে বাংলায় ফনেটিক অটোকম্পলিট ফীচার গুগলের এক সেরা উপহার। গুগলের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় সার্চ টার্মগুলো এখন এক দুই অক্ষর লেখার পরেই পুরোটা চলে আসে।
আমাদের বাঙ্গালীর কামের চেয়ে অকাম কুকাম করার দূর্নাম যে বেশী তার উজ্জ্বল প্রমাণ হল এই গুগল বিডি। যা বোঝা যাচ্ছে গুগলে এইরকম ‘বেশরম চিজ’ খোঁজার ব্যাপারেই বাঙ্গালীর বিপুল আগ্রহ। আর তাই ইংরেজীর বেশকিছু অক্ষর চাপলেই প্রথম লিস্টে বেশকিছু শব্দ সামনে চলে আসে যেগুলো নিতান্তই আপত্তিকর। আমাদের কালে পোলাপান নীলক্ষেত যেত সেগুলো পড়ার জন্যি। সেই থেকেই বলি যা শুরু করেছিলাম। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় হোমপেজগুলোর মাঝে একটি হল গুগল। আর আজকের শিশুদের অনেককেই দেখেছি আমি তাদের পরিচিত শব্দগুলো কম্পিউটারে (গুগলে) লিখে সেগুলো নিয়ে গুঁতোগুঁতি করতে। হয়তো ভবিষ্যতের লার্নিং প্রোসেস এইরকমই হবে। তবে আমি অবশ্যই চাইনা আজকের বা আগামীর কোন শিশু 'এস' চেপে কোন এক ভাবীর ওয়েবসাইটে গিয়ে দিন কাটাক।
গুগলের ইংরেজী ও অন্যান্য বেশকিছু ভাষার ওয়েবসাইটে 'সেফসার্চ' নামে একটি ফিল্টারের ব্যাবস্থা থাকে। যেটির কারণে গুগল ব্যাবহারের সময় গুগল এইসব ছাপার অযোগ্য আর বেশরম চিজ জনগণের চোখের একটু আড়ালে রাখে। আজকের গুগলকে খুব জলদিই ব্যাবস্থা নেয়া দরকার এই অতি জরুরী ফীচারটি যোগ করার জন্য। গুগল যন্ত্র হলেও ভালমন্দের সর্বনিন্ম স্তরটুকু তাকে পেরতেই হবে।
আজকের গুগলের নোংরামীর কিঞ্চিত নমুনা।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

