তখন আমি ইন্টার পাশ করেছি। আমি চট্টগ্রামের ছেলে হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলাম কম্পিউটার কিনতে। চট্টগ্রামে তখন হাতে গোনা কিছু অফিস ছিল (দোকান নয়) যারা কম্পিউটার ঢাকা থেকে এনে বিক্রি করতো।
তখনকার নায়ক আমিন খানের বাবার সাথে আমার বাবার ব্যবসায়ীক সম্পর্কের কারনে উনাকে আব্বা দায়িত্ব দেন যাতে পে-অর্ডার বানিয়ে আমাকে কম্পিউটার কিনতে সাহায্য করেন। যে দিন কম্পিউটার কিনি সেই রাতটা আমার নায়ক আমিন খানের বাসায় কেটেছে। যদিও আমি আজ পর্যন্ত তার কোন সিনেমা দেখিনি। বাংলা সিনেমার ব্যপারে আমার অনাগ্রহ চরম। আমিন খানের মা, আমিন খান, তার ছোট ভাই, তার বাবা লোকমান সাহেব সবাইকে খুব সাধারন অহংকারহীন মানুষ বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। রাতে আমিন খানের সিক্সে পড়া ছোট ভাইয়ের আগ্রহে কম্পিউটার বের করে 'প্রিস অফ পারসিয়া' টাইপের কিছু গেম চালিয়ে দেখাই।
আমার খুব সকালে বাস ছিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। আমিন খানের মা খুব ভোরে উঠে আমার জন্য নিজ হাতে নাস্তা বানিয়ে খাওয়ালেন। আমিন খান কম্পিউটারটি প্যাকেট করতে সাহয্য করলো । তখনকার সোহাগ এসি বাসে দুটি সীটের টিকেট কেনা হয়ে ছিল, একটি আমার জন্য আর একটি কম্পিউটার রাখার জন্য
।
এইচএসসি পরীক্ষার পরের সময়টাই কম্পিউটারের উপর 6 মাসের একটা ডিপ্লোমা করি।
মজার ব্যাপার হলো পুরো 6 মাসের ডিপ্লোমাতে মাউসের ব্যবহার হয়নি, মাউসের ব্যবহারও ছিল না, মাউস দেখিও নি! কারন প্রোগ্রাম গুলো ছিল, ডস, ওয়ার্ড পার্ফেক্ট, লোটাস 123, ডিবেস 3+, 4, কিউবেসিক প্রোগ্রামিং এসব নন গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস প্রোগ্রাম।
কেনার আগে বাবাকে বুঝাতে পারিনি এর উপকারীতা সম্পর্কে ।সব শুনার পর বাবার চেহারা দেখে বোঝা যেত তার মাথায় কিছুই ঢোকেনি শুধু এটুকু ছাড়া যে অনেক গুলো টাকা খরচ হবে। আম্মাকে অনেক বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজি করি।
কম্পিউটার কিনব শুনে আমার এক পরিচিত বৃদ্ধ নানা আমাকে বলে ছিলেন " নাতি, 20,000টাকা দিয়া দুইটা গাই গরু (গাভী) কিনলে দিনে দুই কেজি দুধ দেয়, তোমার এইটা (কম্পিউটার) কি দেয় ?!!" তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন 50,000 টাকা আমি শুধু শুধু নষ্ট করেছি।
আজ বিদেশে এসে যা দু-পয়সা উপার্জন করছি তা এই কম্পিউটারের বদৌলতে।
(এই কম্পিউটার নিয়ে অনেক স্মৃতি , পুরোটা লিখতে গেলে সাত কাহন হবে, মাঝখানে অফিসের কাজ ফেলে সারাদিন ব্লগিং করার জন্য চাকরীটও যেতে পারে ।
(প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়নি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

