somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গর্বিত সুশীল মিডিয়া ও গর্বের ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ ;দায়হীন সমাজের এক কীট

৩১ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর একটি তামিল মুভি ছিলো যা পরবর্তীতে বলিউড টলিউড "বস" নাম দিয়ে নিজেদের ভাষায় নিজের টাকায় নির্মাণ করে। সিনেমাটা যারাই দেখেছে অবাক হয়েছে সিনেমার গল্প আর ডায়লগ দেখে। তো বস সিনেমার কাহিনী ছিল এমন একটি ছেলে কিভাবে মাফিয়া কে প্রতিষ্ঠা করে স্বপ্নের রূপ দিয়ে পরিমিত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায়। যেহেতু সে একজন মাফিয়া তার পিজনে পুলিশ থাকবেই। একবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে লকআপে ঢুকায়। তার গল্পের কারিশমাটিক প্লটে তাকে পুলিশ ছেড়ে দিতে হয়।তখন নায়ক পুলিশ কমিশনার কে উদ্দেশ্য করে বলে আমার বিরুদ্ধে এমন মামলা লিখেন যেন দ্রুত বেড়িয়ে পড়তে পাড়ি। যেমন ট্রাফিক আইন ভংগ,অবৈধ পার্কিং অথবা প্রকাশ্য ধুমপান। পুলিশ তা করতেই বাধ্য হয়। পুলিশ তাই করে। আমরা সবাই হাততালি দিয়েছি এখানে পুলিশকে এতিমের মত অসহায় দেখে। হয়ত হলে অনেকেই সিটি বাজিয়ে উল্লাসও করেছে দর্শক। গত কয়েদিন ধরে পেপারে একটি খবর সবাই বেশ উতকন্ঠ নিয়ে পড়ছে। মাগুরার গুলিবিদ্ধ মাতৃগর্ভের শিশু। এটা নিয়ে হতে পারতো আরেকটি শাহবাগ।হতে পারতো উত্তাল পল্টন। ফেসবুক আর ব্লগে লিখা হতে পারতো হাজার শব্দের প্রতিবাদ। চ্যানেলে চ্যানেলে দেখাতে পারতো মানুষ রুপী হায়েনাদের তান্ডব। কিন্তু দালাল মিডিয়া,কেনা শু-শীলেরা কিভাবে ধামাচাপা দিতে হয়ে সে সব জিনিস দেখাচ্ছে? সেই সিনেমার কাহিনীকে হাড় মানাচ্ছে। খুনের বদলে মামলা হবে ট্রাফিক আইন ভংগের। নিজের লজ্জা কি করে ঢাকি, ঢাকবো কি করে এই দালালীপনা? কি করে অন্ধ হয়ে প্রলয়কে বন্ধ করি? কি করে পশুদের দলে ভিড়াই? অসভ্য হায়েনাদের সভায় সম্মানিত বোধ করি? গত কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগ তাদের কাউন্সিল করে। তাদের কাউন্সিলে একটি স্লোগান লেখে ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। আমরাও তাই বলি ছাত্রলীগের ইতিহাস আজ হায়নাদের কামড়াকামড়ির ইতিহাস,ছাত্রলীগের ইতিহাস ধর্ষণের ইতিহাস। ছাত্রলীগের ইতিহাস টেন্ডার বাজীর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ছাত্রলীগের ইতিহাস সারা বাংলায় ইভটিজিং শিক্ষার ইতিহাস। তাদের ইতিহাস কোথায় নেই ইয়াবা, ফেন্সিডিল,যৌননিগ্রহ, হুমকি ধামকি,তেলবাজি,চামচামি হয়ে আজ মাগুরার মাতৃগর্ভের শিশুকে গুলিওতে আইসিইউ তে পাঠানোর ইতিহাস। আজ নিজেকে কি করে ক্ষমা করিবো এমন ইতিহাস তৈরিতে আমারো অনেক শ্রম আর ত্যাগের স্বাক্ষর আছে ছাত্রলীগে। আজ কি করে নিজেকে অপরাধ মুক্ত রাখিবো নিশ্চুপ থেকে। এই দালাল মিডিয়া আর চুতিয়া সুশীল যদি ঠিক জিনিসটাই লিখতো বলতো তাহলে আজ ছাত্রলীগ এমন মানবতা বিরুধী ইতিহাস লিখতো না। লিখার সাহস পেত কি না তা সন্দেহ আছে। আজ এই ঘটনা যদি কোন শিবির বা হেফাজত ঘটয়াইতো তাহলে দেখতাম খবর দেখে কিভাবে নাকের জল আর চোখের এক করতে হয়? কত মিনিটে আরেকটি শাহবাগ হয়? কিভাবে টিভি টকে গলা ফাটানো যায়? কিভাবে বাংলাদেশে আরেকটি হিটলার কে উপস্থাপন করা যায়? পেপারে পেপারে কত ফিচার, কলাম আর সসম্পাদকীয় লেখা যায়। সেই ভাষা কত দরদি আর করুন তা বলে বা লিখে প্রকাশ করানো যেত না। কিছু নামধারী সুশীল আবার টিভি তে আসতেন আর বলতেন আমরা শুধু জানি সাপের কামড়ে ব্যাথায় নীল হয় কিন্তু আমরা জানিনা কিভাবে নীল হয়।আজ ঐ মা আর শিশুটি টের পাচ্ছে ব্যাথা তাদের ব্যাথার রঙ কেমন? ব্যাথা কি জিনিস?হুজুদের তান্ডবে মায়ের গর্ভও আজ নিরাপদ নয়। তাই আসুন মাদ্রাসা বন্ধ করি। এই সব প্রভুদের শিখানো বুলি আওড়াতেন।কিন্তু এখানে শিবির আর হেফাজত নয়।তাইতো পেপারে এই ধরণের নিউজ দেখি। শিশুটি রক্ষা করলেন মায়ের জীবন। এমন একটি খবর লেখার আগে একটু কাপেনি দালালদের হাত।নাড়া কি দেয়নি তাদের অসার বিবেক,জাগ্রত হয়ে তাদের তন্ত্রাচ্ছন্ন হৃদয়। ভাবতে কি পারেনি তাদের জন্ম হয়েছিলো কোন এক মানবের গর্ভে। উলটা দিকে এই শিশুটি হতে পারতো আরেকটি পরিবর্তনের হাতিয়ার যদি একটু ত্যাগ করতে পারতো হালুয়া রুটির ভাগ। এই ভাগ বড়ই এক মজাদার ভাগ যার জন্যই এই রকম খবর।
আমরা অসহায় আমরা নিরপরাধ,,, আমাদের ক্ষমতা নেই।আমরা ক্ষমতার বাহিরে,, আমাদের মিডিয়া নেই,আমাদের জন্য সুশীল নেই,,নেই কিছু নেই। আমরা অনাদি কাল থেকে নিরীহ নিগৃহীত নিষ্পেষিত নির্যাতিত। আমরা সাধারণ। আমাদের দয়া ভালোবাসা মায়া মমতাটা একটু বেশি। আমরা হালুয়া রুটির ভাগ চাইওনা। আমরা দালাল নই।আমাদের বিবেক বন্ধক রেখে আসিনি,, আমরা মানব আর মানবতার বন্ধুরূপী শয়তান হতে চাই না।দালালির কোন সীমা নেই

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৪৫
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাভ কার হলো?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৮


দীর্ঘদিন একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে, সরকারের ভেতর এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা ছিল।
২০২৪ সালের আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×