somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘পুলিশ ঘুষ খায়- কথাটি উদ্ভট’

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বার্তা ২৪ ডটনেট


ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি: সব থানার বিভিন্ন কক্ষে লেখা আছে ‘ধূমপান নিষিদ্ধ কিংবা ধূমপানমুক্ত এলাকা’। কিন্তু দেখা যায় লেখা নেমপ্লেটের নিচে বসেই দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খাচ্ছেন। এই চিত্র দেখা গেল রাজধানীর নিউমার্কেট থানায়। ‘আর পুলিশ ঘুষ খায়’- কথাটিই নাকি উদ্ভট- এমন বিস্ময়কর মন্তব্য করলেন ওই থানারই এক কর্মকর্তা।



রাত তখন প্রায় ১২টা। শীতের রাত। নগরবাসীর বেশির ভাগই ঘুমে। নীরব রাস্তা । দুই একটা রিকশা চলছে। অবশ্য নীলক্ষেত এলাকায় রাস্তার ধারে ডিমের দোকানগুলো তখনো সরব ।



নীলক্ষেত পেরিয়ে মোটরসাইকেল বামে মোড় নিল। সামনে নিউমার্কেট থানা। একটা বাল্ব বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। আধো আলো আধো অন্ধকার পরিবেশ।



থানার ঢুকলাম। ভেতরেও একই পরিবেশ। একটা তালাবদ্ধ দরজায় চোখ পড়ল। দেয়ালের নেমপ্লেটে লেখা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কনস্টেবল সেলিমকে জিজ্ঞেস করলাম ‘ওসি সাহেব নেই’? খুব গভীরভাবে আমাকে দেখে বললেন, “না। ডিউটি অফিসার আছেন।” পাশের একটি রুম দেখিয়ে দিলেন।



দু’জন বসে আছেন। একজনের সামনে কয়েক ধরনের ওয়ারলেস। অন্যজন ডিউটি অফিসার শফিউর হক।



রুমটি স্যাঁতসেতে। দেয়ালে অনেক ছোট বড় পোস্টার। সবগুলোই সচেতনতামূলক। পরিচয় দিতেই শফি সাহেব হেসে বললেন, “আজ কোনো ঝামেলা নাই। থানা খালি।”



আলাপ শুরু হলো। শফি সাহেব শুরুতেই উপদেশ দিলেন “পুলিশকে শত্রু ভাববেন না। পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক ভালো রাখতে হয়। তাহলে তথ্য পাওয়া সহজ হয়। আগে অনেক সাংবাদিক পুলিশকে বাঁকা নজরে দেখত। এখন এ প্রবণতা কমেছে।”



জানতে চাইলাম পুলিশ কেন ঘুষ খায়। শফি সাহেব হাসলেন। চোখে মুখে একটা কষ্ট দেখলাম। তিনি বললেন, “পুলিশ নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করে। থানায় জিডি করতে টাকা লাগে না। নানাভাবে তারা মানুষের সেবা করেন। তাদের ভালো বিষয়গুলো কেউ তুলে ধরতে চায় না।”



একটু থামলেন। এরপর বললেন, ‘আমরা ঘুষ খাই - এটি উদ্ভট ও বানোয়াট। এটি প্রচার করে পুলিশকে মানসিক চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়।”



বললাম “থানায় অনেকে জিডি করেন। জিডি করে কি আদৌ লাভ হয়?”



এমন সময় বলতে বলতে রুমে ঢোকেন এস আই খায়রুল বাশার। তিনি থানায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বললেন, “জিডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বলতে পারেন ইতিহাস। খুব স্পর্শকাতর বিষয়। ৭৫ বছর পর্যন্ত প্রতি থানায় জিডির বই সংরক্ষিত থাকে। এলাকার মানুষের পেটে ব্যথা, পশুর রোগ আর আবহাওয়ার বিষয়ও পুলিশ চাইলে জিডি করে রাখতে পারে।”



এরপর তিনি একটা দামি ব্রান্ডের প্যাকেট হতে একটা সিগারেট ধরালেন। যদিও তার মাথার ওপর নেমপ্লেটে লেখা ‘এখানে ধূমপান করবেন না’।



খায়রুল বাশারের সঙ্গে আসা কনস্টেবল আফজাল বললেন, “এ কারণে অনেক সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা খুব সচেতনভাবে জিডি করেন।”



বাশার সাহেব কথা বলতে শুরু করলেন। “জনবল ও তথ্য প্রযুক্তির সাপোর্ট দিলে পুলিশ সমাজটাকে বদলে দিতে পারবে। তাদের কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। পুলিশকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সেবা শিক্ষা দেয়া হয়। তবে সেই সেবা সম্পর্কে অপরাধীরাও এক্সপার্ট হয়ে ওঠার পর। অথচ উন্নত দেশে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে সবার আগে পুলিশকেই জানানো হয়।”



শফিউর হক বলেন, “পুলিশের অনেক কষ্ট। সেসব কথা স্বীকার করলেও সমস্যা। কিন্তু স্বীকার না করেও পারি না। তবে স্পর্শকাতর কোনো বিষয়ে মন্তব্য করি না। কষ্ট আরো হয় যখন দেখি মানুষ পুলিশকে মন্দ কথা বলে। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দায়িত্ব পালন করার সময় এক ছাত্র আমাকে ‘বুড়া বেটা’ বলল।”



কথা শেষ না হতেই কনস্টেবল আফজাল বলেন, “ক্যান স্যার। তার বাড়িতে কি বুড়া বাপ নাই। তার দাদা কি মারা যায় নাই।” বসের প্রতি এটি তার ভালোবাসা নাকি আনুগত্য এটা বোঝা গেল না।



তাকে থামিয়ে দিয়ে শফিউর সাহেব বললেন, “আমরা চাইলে তো সে ছেলেটিকে শাস্তি দিতে পারতাম। কিন্তু দিলেই সমালোচনার বন্যা বইতো। আমাদের নিজেদের মধ্যেই অনেকেই বলতেন ‘ছাত্রদের শাস্তি দেন। কেমন মানুষ আপনে। ম্যানেজ করে চলতে পারলেন না।’



বিদায় নিলাম। রাত তখন দুইটা।
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×