somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরোনো সেই দিনের কথা (সপ্তম বারো)

১৪ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরোনো সেই দিনের কথা (ষষ্ঠ বারো)


73. প্রথম বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেল হলো এটিএন বাংলা, এই চ্যানেলে দিনের কিছু সময় বাংলাদেশের অনুষ্ঠান দেখানো হতো, কিছু সময় ভারতীয় বাংলা অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের প্রচার সময়ে স্থুল নাচের সাথে সিগারেটের বিজ্ঞাপন বেশি চলতো।

74. আজিমপুর কবরস্থান রোডে বসতো বৈশাখী মেলা, সেটাই ছিল ঢাকায় একমাত্র মেলা। এখনকার মতো এতো মাতামাতি ছিল না। আগে ১লা বৈশাখ কখনো ১৪ এপ্রিল হতো কখনো ১৫ এপ্রিল হতো। সম্ভবত ১৯৯৪ থেকে ১৪ এপ্রিলেই বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে।

75. ঢাকার পুরোনো এয়ারপোর্ট, বিজয় সরণীসহ দেশের কিছু শহরে রাজপথে সৌন্দর্য বাড়াতে সাজিয়ে রাখা বিমানবাহিনীর বিমানগুলো এক প্রকার অবহেলায় নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। ঘুর্ণিঝড় চট্টগ্রামে আঘাত হানবে জানা সত্ত্বেও সেখান থেকে বিমানগুলো ঢাকার নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় নি। প্রচন্ড ঝড়ে বিধ্বস্ত হয় ওগুলো।

76. প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলে যত দূর মনে পড়ছে প্রতি রাতে কারফিউ থাকতো রাত ১১টা থেকে ফজর পর্যন্ত।

77. মোবাইলের ফোনের প্রথম যুগে প্রতি মিনিট কথা বলাতে কেটে নেয়া হতো টাকা ৬.৯০। দোকান থেকে কথা বলার চার্জ ছিল মিনিটে ১০ টাকা। পালস ১ মিনিট।

78. নাবিস্কো লজেন্স, নাবিস্কো টফি, নাবিস্কো বিস্কিট, হক বিস্কিট, মিমি চকলেট, পিকনিক ছিল বাচ্চাদের প্রিয়। ললিপপ পাওয়া যেতো টিভি সিরিয়াল ‘কোজাক’ নামে।

79. মানুষের ক্রয় সামর্থ কম ছিল, বলা হতো, মৃত্যুপথযাত্রীর জীবনের শেষ আকাঙ্খা হতো আঙ্গুর ফল খাওয়া। স্পঞ্জ স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেলে মুচির কাছে থেকে সেলাই করে নেয়া হতো। নতুন ফিতাও কিনতে পাওয়া যেতো।

80. ব্রয়লার মুরগির বিস্বাদের জন্যে প্রথম দিকে সমাদর কম ছিল; এখন তুলনামূলক কম দামের জন্যে সমাদৃত।

81. হোটেল সোনারগাঁও ও হোটেল সুন্দরবনের পিছে আর রামপুরা টিভি ভবনের পিছনের জায়গা যার নাম এখন বনশ্রী সব ছিল নিচু এলাকা। মাচার ওপর ছিল সারি সারি বস্তিঘর। তখন পান্থপথ ছিল না। পান্থকুঞ্জও তৈরি হয় এরশাদের আমলে।

82. ২০ ফেব্রুয়ারি’৯৮ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পান ভারতীয় ক্রিকেটার রমন লাম্বা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ তারিখ তিনি মারা যান। ক্রিকেট বোর্ড তার স্মরণে উইকেটের এক প্রান্তের নাম ‘রমন লাম্বা এন্ড‘ ঘোষণা করেছিল; পরে সেখান থেকে সরে আসে। আরো পরে সেই স্টেডিয়াম থেকেই ক্রিকেট খেলা বাদ পড়ে।

83. বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে বি এন সালাহউদ্দিন জাহাজে চড়ে হজে যাওয়া যেতো। ১৯৮৪ সালে প্রেসিডেন্ট এরশাদের সময় এই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কেন করা হয় আমার জানা নেই। হাজীদের যাতায়াতের জন্যে জাহাজটি দিতেন সৌদি বাদশাহ।

84. শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম টার্মে ঘটেছিল এক আশ্চর্য ঘটনা। রোজার ঈদ নিয়ে। রাত সাড়ে দশটায় ঈদের চাঁদ দেখতে পাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়, মুসল্লীরা তারবীহ নামাজ পড়ে ততক্ষণে ঘরে ফিরেছেন, কেউ কেউ সেহরিতে ওঠার জন্যে আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়েছেন, তাদের মাঝে ঈদের সংবাদ জানতে না পেরে কিছু মানুষ সেহরি খেয়েছেন; কিছু মানুষ রোজাদার হিসেবে ঘুম থেকে উঠে জেনেছেন সেদিন আসলে ৩০ রোজা নয় ঈদের দিন। রাতেই যারা জেনেছেন তাদের পদচারণায় শেষ মুহূর্তে কাঁচাবাজার আর শোপিং সেন্টারের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মনে আছে, আমিও ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম; ছোটো দুই বোন বিটিভির খবরে শুনে জানালে আমি ভেবেছিলাম মজা করছে। দেখি তারা সিরিয়াস। বিছানা ছেড়ে আমাকেও বাজারে দৌড়াতে হলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×