আজকের এই বিজয়ের মূল রূপকার ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি ছিােলন সাধারণ মানুষের নেতা। তিনি বুঝতেন সাধারণ মানুষ কি চায়, সাধারণ মানুষের সবসময় ছিল। তিনি যখন বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা করতেন, কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি কোথাও যেতেন তখনও তার বক্তব্যে, তার মন্তব্যে তার কর্মে সাধারণ মানুষের আশা প্রতিফলিত হতো। এমন বাহু দৃষ্টান্ত আছে যে, দেশের ছোট্ট একটা জায়গায় হয়তো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেই পরিবারের সাহায্য সহযোাগিতা ঠিকমতো পাঠানো হয়েছে কিনা সেটাও রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন, রেডক্রসকে নির্দেশ দিচ্ছেন সেসব জায়গায় যথাযথভাবে সাহায্য পাঠানোর জন্য। একজন সাধারণ মানুষের নেতার যা কিছু বৈশিষ্ট্য তা সম্পূর্ণরূপে। বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল বরেই তিনি সাধারন মানুষের মতামত ভালো বুঝতে পারতেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যেরা কাজে দ্রুত বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে সেজন্য তিনি দেশে আসার পরপরই ভারত সরকার বিশেষ করে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনা করে অতি স্বল্পতম সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে দেশে ফেরত পাঠান। এবং বাংলাদেশের ভেঙ্গে পড়া আমলাতন্ত্র, ধ্বংস হওয়া অর্থনীতি এগুলোকে এতো অল্প সময়ে তিনি আবার কার্যকর করলেন যা এখন ভাবতেও আশ্চর্য লাগে। অনেক সময় বোঝাতে যাবেনা যে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে কিবাবে এতো অল্পতম সময়ে সক্রিয় করা হয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, পুল, কার্লভাট, ব্রিজ, রাস্তাঘাট সবকিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত, রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য। সে সময়েই তিনি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করলেন। এই যে জাতীয়করণ করর সিদ্ধান্ত এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল সে সময়। হাজার হাজার স্কুলের দায়িত্ব সরকারের হাতে অর্জন করা , এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষকদের বেতন ভাতার দায়দায়িত্ব নেয়া এসব একান্তই একজন দেশ প্রেমিক নেতার পথেই সম্ভব। কারণ বঙ্গবন্ধুই প্রথম উপলদ্ধি করেছিলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং সমাজকে যদি সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে হয় তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থাই হবে তা গড়ে তোলার ভিত। এ কারণে সমস্ত অভাব অভিযোগের মাঝে ও তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপর যে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তা অত্যন্ত প্রাণীধান যোগ্য। আমরা মনে করি সেখান থেকেই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর প্রশাসনিক সময় খুব অল্প, আসলে বঙ্গবন্ধুর জীবনটাই স্বল্পকালীন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবন ৫৫ বছরে জীবন। এই জীবনে একজন মানুষের শৈশর, কিশোর, শিক্ষাজীবন, ছাত্রজীবন, তারণ্য এসব মিলেই ২৫ বছর চলে বছরের জীবনে তিনি একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেকানো এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার কাজ করতে পেয়েছেন। কারণ প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূত্বে প্রতিটি সেকেন্ড বঙ্গবন্ধু এ দেশের সাধারণ মানুষের মুক্তির চিন্তা করে গেছেন। সেই ১৯৪৭ এ দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ এর মার্চে প্রথম ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কারাবারণ করলেন। তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের এই অদ্ভুত কাঠামোতে অন্তত আর যাই ােহক বাঙালীর মুক্তি সম্ভব না। সেই যে তিনি আন্দোলন শুরু করলেন এই আন্দোলন সংগ্রাম করেই তিনি ৭১ এর ৭ মার্চে ঔপনীতি হলেন। সারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়রা আহবান করলেন। যার ফলশ্র“তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা বিজয়ের এই মহানায়ককে দেশ পূর্ণগঠনের কাজ শেষ করতে দিল না। নির্মনভাবে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে খুনীরা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই কিন্তু খুনীরা শান্ত থাকেনি। খুনীরা যেটা করার চেষ্টা করেছে তা একেবারেই গৌরবউজ্জ্বল ইতিহাস, সমস্তকিছুকে ধ্বংস করার জন্য, ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব তারা তা করেছে। সেই কারণেই আমাদের দেশের কয়েকটি প্রজন্ম আমাদের সঠিক ইতিহাস এখনো পরিপূর্ণভাবে জানে না। কারণ এই ইতিহাসকে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে, ঐ মিথ্যা ইতিহাস তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আমি অত্যন্ত আশাবাদী কারণ আমি দেখেছি আমাদের তরুন প্রজন্ম পরবর্তীতে তাদের এই ইতিহাস বিকৃতির জঘন্য কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং তারা নিজস্ব প্রচেষ্টায়, আত্মউপলদ্ধিতে নিজ আগ্রহে উৎসাহে সঠিক ইতিহাসটা জানার চেষ্টা করেছে। এখন অগ্রজন্য প্রজন্ম হিসেবে আমাদের উচিত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যে যতটুকু জানেন তা লিপিবদ্ধ করা, পুস্তক আকারে প্রকাশ করা, অসাধারণ। এই অবদানগুলোকে আমরা যদি ধরে না রাখতে পারি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে বিশাল ঐতিহাসিক গুরুত্ব সেটা নতুন প্রজন্মের কাছে কিভাবে তুলে ধরব। আমি আজকের এই দিনে এটিও আশা করি যে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ করে এই মহাজোট সরকার যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণা করে তাদের একটি বড় এজেন্ডা হবে মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস এবং তার আগে যতো স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছে সেগুলোর সঠিক ইতিহাসকে ডকুমেন্টারি আকারে, চলচ্চিত্র আকারে। বইপুস্তক আকারে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে সেগুলোকে জনগণের সামনে উপস্থাপিত করা হবে। নতুন প্রজন্মকে যদি আমরা সঠিক ইতিহাস অবহিত করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে কখনোই আর ইতিহাস বিকৃতি করা সম্ভব হবে না। আমরা যেমন কোন হত্যাকান্ডের পুণরাবৃত্তি চাইনা, গণতন্ত্রের মুত্যু চাইনা, একইভাবে আমরা কোনভাবেই চাইনা ইতিহাস বিকৃতি হোক। যে জাতির ইতিহাস সাধারণ মানুষর আত্মোৎসর্গের ইতিহাস। যে জাতির ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন দেয়ার ইতিহাস, যে জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতা ছিল সেই জাতির ইতিহাসকে দমিয়ে রাখা যাবে না, সে জাতির ইতিহাসকে মিথ্যা আবরনে ঢেকে রাখা যাবে না সেই বিশ্বাস কিন্তু আমাদের সবসময় ছিল। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই যেমন হত্যাকারীরা পরপর চেষ্টা চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করার, তেমনটি এটাও ঠিক যে দেশে নানাভাবে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এগুলোকে স্থাপনের জন্য ব্যক্তিপর্যায়ের অনেক মানুষ কাছ উদ্যোগ নিয়েছে। এবং সেই কারনেই হত্যাকরীদের বাহু অপচেষ্টায় পরেও সরকারী আনুকূল্যে সরকারী অর্থ ব্যবহার করে ইতিহাস বিকৃতি করতে সমর্থ হয় নি। কারণ সাধারণ মানুষ যখন কোন একটা বিষয়কে রক্ষা করার চেষ্টা করে সেখানে কোনরকম ষড়যন্ত্র কজে লাগে না। এমন কাছ দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে। আমরা বিভিন্ন সময় ৭৫ এর পরে যখন বিদেশে গিয়েছি তখন দেখেছি যে বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খন্ডিত করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিদেশী নাগরিকদের সাথে মত বিনিময় করে দেখেছি যে তারা বাংলাদেশকে চেনেই বঙ্গবন্ধুর নামে, মুক্তিযুদ্ধের নামে। এমনভাবে গেলে গিয়েছে যে সরকারী প্রচারণা, সামরিক শাসকদের প্রচার প্ররোচনার কোন কাজই হয়নি। এবং এটাই সত্যের শক্তি। এই সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই বাঙালী জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আজকের এই দিনে আমি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের চার জাতীয় নেতা এবং লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা যারা জীবন দিয়ে গেছেন, সাধারণ মানুষেরা যারা জীবন বিপন্ন করে দেশকে ভালোবেসেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমি আশা করি আমরা আমাদের কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছাব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

