পরিচালনাঃ শ্রীজিৎ মুখার্জী
কাহিনীঃ শ্রীজিৎ মুখার্জী
অভিনয়ঃ
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী
ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত
নন্দনা সেন
সঙ্গীতঃ
দেবজ্যোতি মিশ্র
অনুপম রায়
ছবি মুক্তিঃ ১৪ অক্টোবর,২০১০ (কলকাতা)
IMDb রেটিং : 8.4/10 (91 Votes)
কাহিনী সংক্ষেপঃ
শুভব্রত (ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত) এক সাধারণ যুবক যে বিখ্যাত পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। ঘটনাচক্রে ওর ডাক পরে সময়ের সফল অভিনেতা অরুণ চ্যাটার্জীর (প্রসেনজিৎ) কাছে। অরুণ চ্যাটার্জীর কাছে উত্তম কুমার এর “নায়ক” ছবির রিমেক “আজকের নায়ক” করার প্রস্তাব দেয় শুভ। শুভর দৃঢ়তা দেখে রাজি হয় অরুণ। নায়িকা হিসেবে শুভর পছন্দ হয় ওর বান্ধবী শ্রীনন্দিতাকে(নন্দনা সেন) যে থিয়েটারে কাজ করেছে। এভাবেই এদের নিয়ে শুরু হয় ছবির শ্যুটিং। এক সময়ের বিনয়ী ছেলে শুভ ধীরে ধীরে উচ্চাভিলাষী আর অহংকারী হতে থাকে চলচ্চিত্র জগতে এসে। আর এদিকে অভিনয় করতে গিয়ে অরুণের সাথে বন্ধুত্ব হয় নন্দিতার। অভিনয় করতে গিয়ে ছবির গল্পের সাথে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পায় অরুণ। নন্দিতাকে একদিন বলে নিজের জীবনের কিছু গোপন অধ্যায়ের কথা। কিন্তু অজান্তেই রেকর্ড হয়ে যায় ওদের সেই কথোপকথন। শুভ সেই ভিডিও দেখে ছবির প্রচারণায় তা ব্যবহার করতে চায়। নন্দিতা রাজি হয়না অরুণের গোপনীয়তা ফাঁস করতে। এই নিয়ে শুভর সাথে তর্ক হয় নন্দিতার। ওদিকে নন্দিতার সাথে ভুল বুঝাবুঝি হয় অরুণের। তিন জনের জীবন মোড় নেয় এই ঘটনায়। অতঃপর, বেঁচে থাকার গল্প।
আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে “অটোগ্রাফ” এর খুঁটিনাটিঃ
( এটা আমার নিতান্তই ব্যক্তিগত মতামত। কলকাতার বর্তমান সময়ের মুভিগুলোর সাথে তুলনা করে আমার যা মনে হয়েছে তাই এখানে লেখা হয়েছে)
“অটোগ্রাফ” হলো সিনেমার পিছনে জড়িয়ে থাকা কিছু মানুষের জীবনের (কিংবা আরেক সিনেমার) গল্প। একজন অভিনেতা, একজন তরুণ পরিচালক, একজন আধুনিক বাঙালী মেয়ে আর তাদের জীবনযাত্রার গল্প। একজন সুপারস্টারের নিঃসঙ্গতা আর প্রফেশনালিজম কিভাবে তার জীবনকে আঁকড়ে রাখে, একজন প্রতিভাবান অথচ দাম্ভিক তরুণ পরিচালকের উত্থান পতন এবং আবার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ তাকে কোথায় নিয়ে যায়, একটি সাধারণ মেয়ের ভালবাসা ও বন্ধুত্বের টানাপোড়েনের মাঝে নিজেকে হারানোর আর পাওয়ার কাহিনী।
ছবিতে দেখা যায় সুপারস্টারের অটোগ্রাফ দেয়া নিয়ে শ্যুটিং-এর শুরু এবং ছবির শেষ দৃশ্যের সংলাপে ধাবার কর্মচারী এক বালকের অটোগ্রাফ চাওয়া, “দাদা,আপনার একটা সই?”
অতিরিক্ত সংযোজনঃ
আমার জানামতে এটা শ্রীজিৎ মুখার্জীর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র (এর আগে সম্ভবত “Checkmate” নামের একটি ইংরেজী নাটক পরিচালনা করেছিলেন)।
ছবির দৃশ্যায়ন আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। প্রতিটি শট-এ পরিচালক এর যত্নের ছাপ পাওয়া যায়।
ছবির বেশ কিছু সংলাপ প্রশংসার দাবী রাখে। ছবির গান গুলো অনুপম রায় এবং দেবজ্যোতি মিশ্র-এর অন্যতম সেরা সঙ্গীত পরিচালনা তা বলা যায় অনায়াসেই। গানগুলো ছবির দৃশ্যগুলোকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রসেনজিৎ এর অভিনয় নিয়ে বলার কিছুই নেই। তিনি তার চরিত্র অস্বাভাবিক দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
ইন্দ্রনীল এর অভিনয় ছিল যথেষ্ঠ সাবলীল। তাকে তার চরিত্রের জন্য মানানসই মনে হয়েছে।
নন্দনা সেনের অভিনয় নিয়ে আমার খানিকটা সংশয় আছে। কিছু কিছু দৃশ্যে তার সংলাপ গুলো আরেকটু বাস্তব হলে হয়ত আরো ভাল লাগতো।
ছবির সম্পাদনা বেশ ভাল কিন্তু বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে আমার প্রথমবার দেখার সময় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল( আমার ধারনা অনেকেরই হতে পারে)।
কোনটা অরুণের স্বপ্ন আর কোনটা শ্যুটিং এর অংশ তা বুঝতে একটু সমস্যা হতে পারে। এজন্য উত্তম কুমারের “নায়ক” মুভিটা দেখে থাকলে কিছুটা সুবিধা হবে। তারপরও বলব যে কিছু দৃশ্য দেখে কাহিনি পুরোপুরি খোলাসা হয়না।
ছবিতে প্রসেনজিৎ এর নাম অরুণ চ্যাটার্জী বাস্তবে উত্তম কুমারের আরেক নাম।
ছবির অধিকাংশ শ্যুটিং হয়েছে কলকাতা,শান্তিনিকেতন,ব্যাঙ্গালোর এবং মুম্বাই এ।
ছবিতে পরিচালক শুভব্রতকে দেখা যায় সত্যজিৎ রায় এবং ইঙ্গলার বার্গম্যান দ্বারা অণুপ্রানিত এক যুবক। বাস্তবেও পরিচালক শ্রীজিৎ এই দুইজন মানুষের দ্বারা অণুপ্রানিত এবং তার “অটোগ্রাফ” মুভিটি সত্যজিৎ রায় এবং তার “নায়ক” ছবির জন্য পরিচালকের একটি সম্মাননা।
এ ছবিটির হিন্দী রিমেক হবে (সম্ভবত) এবং প্রসেনজিৎ ও ইন্দ্রনীল এর চরিত্রে অভিনয় করবেন শাহরুখ খান ও রণবীর কাপুর।
পরিশেষে বলতে পারি, কিছু খুঁটিনাটি বাদ দিয়ে ছবির শুরু এবং শেষসহ পুরো ছবিটাই আমার বেশ ভাল লেগেছে। অন্য দর্শকদেরও ভাল লাগবে আশা করি।
তথ্যসূত্রঃ অটোগ্রাফ মুভি এবং ইন্টারনট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

