somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার যত প্রিয় মুভি-১: 3 Iron ( রিভিউ লেখার ছোটখাটো চেষ্টা + ডাউনলোড লিঙ্ক ) :) :P

০১ লা মে, ২০১১ ভোর ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

__________________
পরিচালনাঃ কিম কি দুক

কাহিনীঃ কিম কি দুক

অভিনয়ঃ
হান-কিয়োন লী
সাং-য়োন লী
হিউক-হো কোন

ছবি মুক্তিঃ ১৫ অক্টোবর,২০০৪ (দক্ষিণ কোরিয়া)

ভাষাঃ কোরিয়ান

[ছবির মূল নামঃ বিন-জিপ (Empty Houses)]

IMDb রেটিং: 8.0/10

Rotten Tomatoes: 7.3/10 (86%)

কাহিনী সংক্ষেপঃ

3 Iron একটি ভিন্ন ধারার প্রেমের গল্প। কিংবা বলা যায় সেলুলয়েডের ফিতায় প্রেমের কবিতাকে আঁকার চেষ্টা পরিচালকের। ছবির শুরু হয় টেই-সুক ( হান-কিয়োন লী ) কে দিয়ে যে এক নিঃসঙ্গ ছেলে, আপাতঃ দৃষ্টিতে বেকার, গৃহহীন এক যুবক। তার প্রতিদিনের কাজ বাইকে করে ঘুড়ে বেড়ানো এবং শহরের বিভিন্ন বাড়ির দরজায় ফাস্টফুডের দোকানের লিফলেট লাগিয়ে দেয়া। কিছু সময় পর সে আবার ফিরে আসে এবং যেই সব দরজা থেকে লিফলেট গুলো খুলে নেয়া হয় না সেগুলো দেখে কোন বাসা খালি বুঝে নিয়ে তার কোন একটাতে চুরি করে ঢুকে রাত কাটায়। সে কখনও কোন বাসা থেকে চুরি করে না কিংবা কিছুর ক্ষতি করে না। সে কিছু সময় সেখানে বাড়ির মালিকের মতই কাটায় এবং বিনিময়ে সেখানকার নোংরা কাপড় ধুয়ে দেয়,নষ্ট যন্ত্রপাতি ঠিক করে রাখে এবং কেউ ফিরে আসার আগেই চুপিসারে প্রস্থান করে।

এভাবেই একদিন খালি ভেবে সে একটি বাসায় যায় যদিও সে বাড়ির এক রুমে সুন-হুয়া ( সাং-য়োন লী ) নামের একটি মেয়ে থাকে যা টেই বুঝতে পারেনা। সুন এক সময় মডেলিং করত কিন্তু এখন সে তার ধনী এবং প্রভাবশালী স্বামীর ( হিউক-হো কোন ) হাতে প্রহৃত হয়ে নিঃসঙ্গ সময় কাটায়। সুন লুকিয়ে টেই কি করে তা দেখতে থাকে। টেই একসময় সুনকে দেখতে পেয়ে সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু সে কোন এক বিচিত্র কারণে আবার ফিরে আসে সেই বাসায়। এবার সে এসে সুন এর স্বামীকে গলফ ক্লাব দিয়ে তিনটি বল মেরে আঘাত করে আহত করে এবং সুন কে সাথে নিয়ে যায়। এরপর টেই আর সুন একসাথে টেই যেভাবে জীবন কাটায় সেভাবেই বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে থাকা শুরু করে।

কিন্তু হঠাৎ একদিন দুইজন এক বাসায় গিয়ে ধরা পড়ে এবং পুলিশ দুইজনকে আটক করে। সুন এর স্বামী সুন কে মুক্ত করে নিয়ে যায় কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে টেই-কে বিনা দোষে বন্দী করে যায় এবং তাকে আঘাত করার প্রতিশোধও নিয়ে যায়।

ছবির পরবর্তী ও শেষ অংশে দেখা যায় সুনের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে বাধ্য হওয়া ও প্রহৃত হওয়া, সুনের একাকী টেই-কে খুঁজে ফেরা, টেই এর উপর জেলারের অত্যাচার, টেই-র জেল থেকে মুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা এবং দুইজনের আবারো একসময় দেখা হওয়া। এখানে সুন এবং টেই এর বেঁচে থাকা, বিচ্ছিন্ন হওয়ার কষ্ট এবং আবার মিলিত হওয়ার গল্পটি কিছুটা স্বপ্ন আর কিছুটা বাস্তব দৃশ্যের সংকলন।


বিশেষ সংযোজনঃ

কিম কি দুক এর অন্যান্য মুভির মত এই মুভিতেও সংলাপ খুবই অল্প। (!)

পুরো ছবিতে নায়কের ( টেই) একটিও সংলাপ নেই। (!!)

পুরো ছবিতে টেই ও সুনের কোন বাক্য বিনিময় নেই। (!!!)

পুরো মুভিটিই বিবৃত হয়েছে টেই এবং সুনের অনুভুতির প্রকাশের মাধ্যমে। (দেখার সময় অবশ্যই মনে হবে যে কোন দৃশ্যে দুইজনের কথা বলার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা।)

(সবাক চলচ্চিত্রের যুগে অধিকাংশ নির্বাক দৃশ্যের সমন্বয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং অভিনয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ যা সম্পাদন করতে পরিচালক বেশ ভালো ভাবেই সফল হয়েছেন আমি মনে করি)

সম্পূর্ণ ছবিটাকে তিনটা অংশে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশে টেই আর সুন এর জীবন, দ্বিতীয় অংশে দুইজনের মিলিত হওয়া আর বিচ্ছিন্ন হওয়ার গল্প আর শেষাংশে দুই জনের ভালবাসার মিলনের বাস্তবতা আর কল্পনা আশ্রিত গল্প।

ছবির শেষ ৩০ মিনিটের দৃশ্যগুলোকে দর্শকরা দুই অর্থে নিতে পারেন। কারো কারো হয়ত মনে হতে পারে সবটাই কল্পনা আবার কেউ ভাবতে পারেন যা দেখা যাচ্ছে তা হওয়া হয়ত সম্ভব। এমনকি পরিচালক নিজেও ছবির এন্ডিং-এ স্বপ্ন এবং বাস্তবতার পার্থক্য করা নিয়ে একটি লাইন দিয়ে শেষ করেছেন।

(এই কারণে মুভির শেষটা হয়তবা অনেকেরই অস্পষ্ট লাগতে পারে এবং ভাল নাও লাগতে পারে। কিন্তু আমি সেই দলে যারা মুভিটাকে শেষের অংশগুলোর দৃশ্যায়নের জন্যেই পছন্দ করছেন।)

মুভিটাকে কেউ Unreal , কেউ Surreal আবার কেউ Real ভাবেন। পরিচালক নিজেও এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব তার দর্শকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন এবং তা অত্যন্ত সুন্দর ভাবে। (যেমন, শেষ দৃশ্যে দেখা যায় টেই এবং সুন ওয়েট মেশিনে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু মেশিনে রিডিং শূন্য দেখাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে দর্শকরা আগের ঘটনাগুলোকে নিতান্তই কল্পনা ধরে নিতে পারেন কিংবা এও ধরে নিতে পারেন যে টেই শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছে নিজের ইচ্ছা শক্তির জোড়ে এবং সে আসলেই সুনের কাছে ফিরে এসেছে।)

মুভির দৃশ্যগুলোর কম্পোজিশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অবশ্যই ভাল লাগার মত।

ছবির রেটিং “R” (18+) (তবে কোনভাবেই পর্নোগ্রাফির পর্যায়ে পড়েনা!) B-)

পরিচালক মুভির নাম নিয়ে তার বক্তব্যে বলেছেন যে এর বস্তুগত এবং প্রতিকী অর্থ রয়েছে। 3 Iron এখানে গলফ ক্লাবকে বুঝায় যার ব্যবহার ছবিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ দৃশ্যে হয়েছে, আবার 3 Iron ছবির তিনটি প্রধাণ চরিত্রকে নির্দেশ করে।

পরিশেষে এই বলতে পারি যে, যারা অন্য রকম পরিচালনা এবং কিছুটা ভিন্ন ধারার রোমান্টিক মুভির স্বাদ পেতে চান একদমই তাদের নিরাশ হতে হবেনা।


ডাউনলোড লিঙ্কঃ

টরেন্টঃ এইখানে ক্লিকান

স্টেজভ্যুঃ এইখানে ক্লিকান

(অঃ টঃ - মুভিটা প্রথম পেয়েছিলাম পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এক সিনিয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে তাও প্রায় বছর দুয়েক আগে। এই মুভিটা দেখার পর থেকেই আমি কিম কি দুকের মুভির ভক্ত হয়ে যাই। যদিও হেডিং-এ লিখেছি মাঝারি মানের রিভিউ কিন্তু আমার ধারণা রিভিউ এর থেকে আমার নিজস্ব পছন্দের কথাই বেশি বলে ফেলেছি। :P ব্লগারগণ এবং পাঠকগণ নিজ গুণে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।;) :P)

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১১ দুপুর ১:২২
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×