প্রথমেই উল্লেখ করে নিই - এটি কোনও জটিল টেকনিক্যাল রচনা নয়, স্বাভাবিক যুক্তি দিয়ে আমি যা বুঝি সেটাই বলার চেষ্টা করেছি। সচলায়তন ব্লগে তথ্য উপাত্ত সমৃদ্ধ একটি ভাল প্রতিক্রিয়া আছে। পড়ে দেখা যেতে পারে।
এবার আমার কথায় আসি, প্রথম আলোর লেখায় লেখকের কিছু কথা শুনলে মনে হয় যেন বাংলাদেশের কোনও ক্ষমতাই নেই ভারতের কোনও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার। তারা যা বলবে তা-ই নির্দ্বিধায় মেনে নিতে হবে।
"ভারত এই বাঁধ তৈরি করবেই। আমাদের কৌশল হওয়া উচিত এ থেকে আমরা কী সুবিধা নিতে পারব, সেই চেষ্টা করা। বিরোধিতা করে এই বাঁধ তৈরি আমরা ঠেকাতে পারব না। আর বিরোধিতা করবই বা কেন? "
এটা হলো লেখার সর্বশেষ প্যারা। এবং এটা পড়েই সবচেয়ে সন্দেহ হয় লেখকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে।
আর একটা উদ্ধৃতি দেই,
" আমরা জানি, রাজনীতিবিদেরা অনেক সময় অনেক কিছু বলে থাকেন, যার পেছনে যুক্তি থাকে না। কী বললে মানুষ খুশি হবে, হাততালি দেবে, তা তাঁরা বুঝে নিতে কসুর করেন না। আর কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা ওই সব কথা শুনতে পতঙ্গের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। ‘জনতা’ শব্দটির একটি ইতিবাচক তাৎপর্য থাকলেও এ ধরনের ঝাঁপিয়ে পড়া মানুষকে ‘ক্রাউড’ হিসেবে দেখা হয়। এই ক্রাউড কখনো-সখনো দাঙ্গা বাধাতে পারে, কিন্তু ইতিহাস তৈরি করতে পারে না। আমরা এখন এই ক্রাউড কালচারে আক্রান্ত। আজকের লেখার বিষয় হলো টিপাইমুখ বাঁধ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রাউড মনস্তত্ত্ব।"
কথা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তো জনৈক রাজনীতিবিদের কথা শুনে আমার পূর্বপুরুষরা যে পতঙ্গের মতো যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন; তাঁরা ইতিহাস তৈরী করেননি ? এই ছোট কথাটাও গবেষকের মাথায় আসেনি ? প্রথম আলোই বা কী করে এই রকম কথা ওয়ালা আর্টিকেল ছেপে দিল ? আমরা বদলে যাচ্ছি, বদলে দিচ্ছিও...!
আরও বলি, আমরা যারা টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কথা বলছি তারা 'ক্রাউড'। যতদুর জানি এই 'ক্রাউড' হচ্ছে এমন একদল পাবলিক যারা যুক্তি-টুক্তির ধার ধারে না। তা লেখক মহাশয়ের মনে হলো যে এত ব্লগে ফেসবুকে লেখা লেখি হচ্ছে এদের সবই ক্রাউড মনস্তত্ত্বের ফসল ? প্রশংসনীয় পর্যবেক্ষণ বটে !
এবার আসি একেবারে মূল কথায়, ধরি ভারত টিপাইমুখ বাঁধ বানিয়ে ফেলছে। এখন তারা বর্ষাকালে যদি পানি আটকে না রাখে, আর শুষ্ক মৌসুমে যদি আটকে রাখে ? তারা তো তাদের চাহিদা অনুযায়ী ড্যাম চালু অথবা বন্ধ রাখবে। মহিউদ্দিন সাহেবের কথায় তো তারা তখন চলবে না। তখন উত্তরাঞ্চলের কী হবে !?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


