somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকীয়ঃ ঐতিহাসিক নবযাত্রা [১৬ আগষ্ট ১৯৭৫]

২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঐতিহাসিক নবযাত্রা

দেশ ও জাতির এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন পুরণে গতকাল প্রত্যুষে প্রবীণ জননায়ক খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী সরকারের সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণ করিয়াছেন। পুর্ববর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হইয়াছেন এবং এক ভাবগম্ভীর অথচ অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও তাহার নুতন সরকারের প্রতি স্হল, নৌ ও বিমানবাহিনীর অধিনায়কগণ তাহাদের স্ব স্ব বাহিনীর পক্ষ হইতে অবিচল আস্হা ও আনুগত্য ঘোষণা করিয়াছেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্হাসমুহ যথা বাংলাদেশ রাইফেল, পুলিশ এবং রক্ষীবাহিনীর প্রধানগণও নুতন সরকারের প্রতি তাহাদের অকুণ্ঠ আনুগত্য জ্ঞাপন করিয়াছেন এবং সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনে এই পরিবর্তনের এক বিষাদময় পটভুমি রহিয়াছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের পবিত্র ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা একদিন যে স্বাধীনতা অর্জন করিয়াছিলাম সেখানে আমাদের আশা ও স্বপ্ন ছিল অপরিমেয়। কিন্তু বিগত সাড়ে তিন বছরেরও ঊর্ধ্বকালে দেশবাসী বাস্তবক্ষেত্রে যাহা লাভ করিয়াছে তাহাকে এক কথায় গভীর হতাশা ও বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। নয়া রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে তাহার বেতার ভাষণে এই দুর্ভাগ্যজনক পটভুমির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়াছেন। গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পরিবর্তে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়া এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে স্হায়ীভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখিবার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষায় মাতিয়া উঠিয়া স্বাধীনতার সুফল হইতে জনগণকে নিমর্মভাবে বঞ্চিত করা হইয়াছে। সুজলা সুফলা সোনার বাংলার সোনার মানুষদের চরম হতাশার কবলে ঠেলিয়া দেয়া হইয়াছে। ফলে বাংলার মানুষের নিত্যসঙ্গী হইয়াছে ক্ষুধা, বঞ্চনা, দারিদ্র্য ও অসহনীয় অর্থনৈতিক নির্যাতন। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠুর অবহেলার ফলে একদিকে চরম অর্থনৈতিক বঞ্চনা, অপরদিকে নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদির নজিরবিহীন অগ্নিমুল্যের ফলে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জীবনে বিপর্যয় নামিয়া আসে। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভাঙ্গিয়া পড়ার উপক্রম হয়, বিশেষত পাটশিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি আসিয়া দাঁড়ায়। স্হায়ীভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আকাঙ্ক্ষায় একটি ক্ষুদ্র কোটারী দেশে একটির পর একটি রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি চালিতে থাকে। ফলে অব্যক্ত বেদনায় গুমড়িয়া মরে সাড়ে সাত কোটি মানুষের অন্তর।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সত্যিকারের আশা-আকাঙ্ক্ষা রুপায়ণে খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে যে আগাইয়া আসিতে হইয়াছে তাহারও কারণ ছিল। পুর্ববর্তী শাসকচক্র সাংবিধানিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমস্ত পথ রুদ্ধ করিয়া রাখিয়া সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপকে অনিবার্য করিয়া তুলিয়াছিল। কিন্তু ইতিহাসের গতিকে কোনদিন বালির বাঁধ দিয়া ঠেকাইয়া রাখা যায় না। বাংলাদেশের যে বীর জোয়ানরা দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া একদিন লড়িয়াছে, রক্ত দিয়াছে, তারা দেশের এ ঘোর দুর্দিনে নিশ্চুপ বসিয়া থাকিতে পারে নাই। জাতির প্রতি, দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগণের প্রতি তাহাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করিয়াছে অকুতোভয় সাহস লইয়া। কিন্তু জনগণের প্রতি যে তাহাদের কোন বিদ্বেষ নাই, রহিয়াছে শুধু মমতা, তাহা ফুটিয়া উঠিয়াছে জনগণের সঙ্গে তাহাদের বন্ধুত্বপুর্ণ আচরণে।

আজকের এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে আমাদের দায়িত্ব অনেক। বাংলাদেশের এক মহাক্রান্তিলগ্নে জননায়ক খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সশস্ত্রবাহিনী যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে তাহাকে সুসংহত করিতে হইলে জনগণের প্রতি অর্জিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে আগাইয়া যাইতে হইবে। জাতীয় জীবনের প্রচলিত মুল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর যে সুযোগ অতীতে একবার হেলায় হারানো হইয়াছে পরম করুণাময়ের অপার অনুগ্রহে সেই সুবর্ণ সুযোগ আবার আমাদের সামনে সমুপস্হিত। সে সুযোগের পুর্ণ সদ্ব্যবহার করিতে হইবে আমাদের। সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও আইন রক্ষাকারী সংস্হাসমুহ যেইভাবে একযোগে দেশ গড়ার এই নুতন দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন জনগণকেও একতাবদ্ধ হইয়া অনুরুপভাবে তাহাদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে আগাইয়া আসিতে হইবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সর্বপ্রকার অনাচারের মুল্যোৎপাটন করিতে হইলে আমাদের অনেক সংগ্রাম সাধনা করিতে হইবে। কিন্তু এ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখা, আইনের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন, সর্বোপরি দেশ গড়ার এক পবিত্র দায়িত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মনিয়োগ করা। সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ অতীতের ন্যায় এবারও এ মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারিবে, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন শান্তি ও কল্যাণকারী দেশসমুহ, বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের যথার্থতা শিগগিরই উপলব্ধি করিবেন বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ সকলের বন্ধু থাকিতে চায়, কাহারো প্রতি তাহার শত্রুতা নাই। এমনকি যাহাদের সাথে বাংলাদেশের এতদিন বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্হাপিত হয় নাই নয়া সরকার তাহাদেরও বন্ধুত্ব প্রয়াসী। পররাষ্ট্রনীতি ক্ষেত্রে সমতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা এবং অপরের আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী। ইহুদীবাদ, বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও নয়া উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার আপোষহীন থাকিবে। জাতিসংঘের সনদের প্রতি আমাদের আস্হা অটুট। জোট নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মৈত্রী, উপমহাদেশের পরিস্হিতি স্বাভাবিকীকরণ ও বিশ্ব শান্তির নীতিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। ইসলামী সম্মেলন, কমনওয়েলথ ও জোট নিরপেক্ষ ফোরামের সদস্য থাকিয়া বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করিয়া যাইবে।

নবগঠিত সরকার শুধু দেশের অভ্যন্তরেই এক কলুষমুক্ত নয়া সমাজ গড়িতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নয়, বিশ্ব শান্তি নির্মাণেও তাহারা ঐতিহাসিক অবদান রাখিতে প্রয়াসী। বলাবাহুল্য, সাড়ে সাত কোটি মানুষের অনাবিল আশা-আকাঙ্ক্ষাই প্রতিধ্বনিত হইয়াছে নয়া সরকারের ঘোষিত নীতির মধ্যে। এ পবিত্র সংকল্প জয়যুক্ত হোক, ইহাই এ মুহুর্তে আমাদের সকলের কামনা। ( ইত্তেফাকঃ ১৬ আগষ্ট ১৯৭৫ )


***********************************************


১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট (শুক্রবার) প্রত্যুষে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর ওই দিন তার মন্ত্রী পরিষদের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী শাসনভার গ্রহণ করে। সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সামরিক আইন জারি ও সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হয়। তবে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দুপুরে দেড় ঘণ্টার জন্য সান্ধ্য আইন শিথিল করা হয়।
ওই দিন বিকালে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান অস্হায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদ ওই দিন উপরাষ্ট্রপতি, ১০ জন মন্ত্রী এবং ৬ জন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ, নৌবাহিনী প্রধান কমডোর মোশাররফ হোসেন, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান, পুলিশবাহিনীর প্রধান এএইচ নুরুল ইসলাম এবং রক্ষীবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান আবুল হাসান খান। এদিন রাতে নয়া রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ জাতির উদ্দেশে এক বেতার-টেলিভিশন ভাষণে শান্তি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সূত্রঃ Click This Link
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×