জানি এই ব্লগ তুমি দেখবে না, পড়বে না। তুমি কখনো এখানে আসো না। তবুও তোমাকে না বলা কথাগুলো লিখে রেখে যেতে চাই এখানে। হয়তো কোনো একদিন তুমি পড়বে , যখন আমি থাকবো না।
যখন তুমি আমার প্রথম বাচ্চার মা হলে তখন দেখেছি তোমার ধৈর্য্য ও সাহস। আমি একবার বলেছিলাম সিজার আমার পছন্দ না। যদিও অনেককেই দেখি প্রসব কষ্ট কমানোর জন্যে সিজারের দারস্থ হয়। একান্ত বাধ্য না হলে সিজার করার প্রয়োজনীয়তা দেখি না।
গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে সাধারন প্রসবকে তুমি সহজ করেছিলে। ডাক্তারদের শত সাবধানতা বানীতেও তুমি হাল ছাড়োনি। যদিও হাসপাতালে, কিন্তু কোন ডাক্তার ছাড়াই গাইনিতে অভিজ্ঞ সাধারন এক নার্সের তত্বাবধানে তুমি প্রথম মা হলে।
আমার মনে আছে, মা হওয়ার আধঘন্টা পরে তুমি আমার হাত ধরে বলেছিলে-তুমি মনে হয় জীবনে আর কখনোই হাটতে পারবে না!
কিন্তু তুমি পেরেছিলে। কিন্তু অনুভব না করতে পারলেও বুঝেছিলাম এ কষ্ট কত কষ্টের........
সে তো তিন বছর আগের কথা। গতকাল তুমি দ্বিতীয়বারের মতো মা হলে- ফুটফুটে এর কন্যা সম্তানের।
মনে আছে তোমার! ২০ আগস্টে ২০১০ এ ডাক্তার বলেছিলো ৩ ঘন্টার মধ্যে অপারেশন সিজার করতে হবে না হলে বাচ্চার সমস্যা হবে। আমাদের ডাক্তাররা অবশ্য এ রকমই বলে! না হলে, উন্নত দেশগুলোতে যেখানে সিজারের হার খুবই কম সেখানে আমাদের দেশে সিজারের হার এতো বেশী কেন!!! হাসপাতালে গেলেই ডাক্তাররা ছুরি শান দিতে থাকে- কিভাবে পেট কেটে দু'পয়সা আয় করা যায়!!! সিজার পরবর্তী বিভিন্ন অসুবিধাগুলো নিয়ে এরা থোড়াই কেয়ার করে।
কিন্তু তুমি বলেছিলে এখনি সিজার নয়। আগে ন্যাচারাল পেইন উঠুক তার পরে সমস্যা হলে সিজারের কথা চিন্তা করা যাবে। ঠিক ৬ দিন পরে গতকাল ন্যাচারাল পেইন উঠলো, ন্যাচারালি বেবি জন্ম নিলো। আবার সেই অভিজ্ঞ নার্স এর তত্বাবধানে। সিজারিস্ট ডাক্তারের কোনো প্রয়োজনই হলো না। ৫ ঘন্টা লেবার পেইন সহ্য করে ভোররাত্রে সেহরীর শেষ মিনিটে যখন বাবুটার চিৎকারে চারিদিক প্রকম্পিত হলো তখন তোমার মুখে আমি দেখেছি কষ্ট জয়ের হাসি- যে কষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে কত জনকেই দেখেছি ডাক্তারের ছুরির নীচে হাসি মুখে আত্মসমর্পন করতে।
কিন্তু তুমি পেরেছো... আমি জানতাম তুমি পারবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

