(২৮)
একজন করে বাবা-মা। আর বাবু দুইটা। তিন বছরের বড় ছেলের মনে খুব কষ্ট। বুঝতে পারে যে আগের মতো সে আর সময় পায় না। আগে মায়ের চুল আর গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমাতো। এখন সে সুযোগ কমই পায়। এক রাতে মায়ের সাথে গল্প করছেঃ
-আম্মু, নানাবাড়ী অনেক মাটি আছে না।
-হ্যা।
-মাটি দিয়ে আরেকটা আম্মু বানাবো।
-কেন?
-সেই আম্মুটাকে ছোট বাবুকে দিয়ে দিব। তোমাকে দিব না। তুমি আমার আম্মু
(২৯)
গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে মা-ছেলের দাবী বাইরে যাবে ফুল কুড়াতে। আমি বললাম- উঠতে পারবো না, তোমরা ঘুরে আসো। মা-ছেলে চলে গেলো ঘুরতে। বাসার বাইরে গিয়ে ছেলে মাকে বলতেছে, আম্মু, দেখো কত ধোঁয়া। আম্মু বললো, না আব্বু, ধোঁয়া না, ওগুলো কুয়াশা। কুয়াশা মাটিতে পড়লে মাটি ভিজে যায়। শিউলী ফুল গাছের কাছে গিয়ে দেখে সব ফকফকা কোন ফুল নেই গাছের তলায়। গাছে ঝাকি দিয়ে কিছু ফুল পাওয়া গেলো। দুজনে মিলে মনের আনন্দে ফুল কুড়ালো। সব মিলিয়ে দেখা গেলো গোটা দশেক। বাসায় আসার পথে ছেলে বলতেছে, আম্মু কশায় আমার পা ভিজে গেছে। অনেকক্ষন পরে ছেলের মা বুঝতে পারলো কশা মানে কুয়াশা
বাসায় এসে ছেলের মা যখন রুটি বানাতে বসলো ছেলেরও শখ হলো রুটি বেলবে। তার আবার ছোট্ট একটা রুটি বানানোর পিড়ি আর বেলুন আছে। সে মাকে বললো, আম্মু, আমি রুটি বানাবো, আমাকে পিড়ি আর বিলুম্বি দেও। বাসার পাশে বিলুম্বি নামে টক এক ধরনের ফলগাছ আছে। সেই বিলুম্বির সাথে সে বেলুনীকে গুলিয়ে ফেলেছে। যাই হোক, তাকে তার ছোট্ট রুটি বানানোর পিড়ি, বেলুনী আর এক খন্ড আটার দলা দেওয়া হলো। সে রুটি বানানো শুরু করলো। কখনো পিড়িতে কখনো মাটিতে রেখে সে যখন রুটি বানানো শেষ করলো তখন তা আধাকালো ময়লা একটা ছয়কোনা রুটির চেহারা নিলো। অনেক পিড়াপিড়িতে তার মা রুটিটি ভেজে দিলো কিন্তু কঠোর ভাবে নিষেধ করলো ময়লা রুটিটি না খেতে। কতক্ষন পরে সে মাকে জানালো রুটিটা নাকি অনেক মজা হয়েছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



