শুরু টা ঠিক কবে কিভাবে কেউ জানে না । কিসের শুরু ? অভীক - তৃণা ২জন ই এখন আর মনে করতে পারে না তাদের শুরু টা । শুধু বর্তমান নিয়ে ই আছে ।
অভীক পারিবারিক ব্যবসা দেখা শোনা করছে আর তৃণা সোচিওলজিতে অনার্স করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । হুম,পাঠক.... প্রেম কিংবা প্রেম না গল্প টার এখানে ই শুরু ।
অভীকের ফোন বেজে উঠে। অভীক লাইন কেটে দেয় ব্যস্ততায় । ভাবে কাজ সেরে ই ফোন দিবে । কিন্তু না.. তৃণা বার বার ফোন করে ই যাচ্ছে । অভীক বাধ্য হয়ে ফোন টা সাইলেন্ট করে রাখে । মিটিং টা একটু পর ই শেষ হবে ওর। এরপর,ইচ্ছামত কথা বলা যাবে এই ভেবে অভীক কাজে মন দেয় । ওর আর কাজ করা হয় না । তৃণার মেসেজ ওর সব কিছু থামিয়ে দেয় - 'কি ব্যাপার ? ফোন ধর না কেন ? এখন তুমি কল ব্যাক না করলে আগামী ৬মাস আমার ফোন অফ থাকবে ।' অস্থিরতায় অভীক অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে । মিটিং টা আর হয় না ওর । কত্তোবড় ক্লায়েন্ট এর কাজ টা ও হাতছাড়া করে দিছে,তৃণা তা কল্পনা ও করতে পারবে না । অথচ,তৃণার এসবে কিছু ই যায় আসে না। ওর যা ইচ্ছা,ও তা করবেই । অভীক ৫ বছর ধরে চেষ্টা করছে,কিচ্ছু পরিবর্তন করতে পারে নি এই খামখেয়ালী মেয়ে টা কে । তৃণা মাঝখানে রাগ করে ৮মাস যোগাযোগ রাখে নি,ঐ দিন গুলোকে অভীকের এখন ও নরক মনে হয় । ঐ কষ্ট সে আর সইতে পারবে না দেখে ই হুলস্থুল করে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে । ফোন দিতেই ত্বণা বলে,'এক্ষুণি আমার বাসার সামনে এসো...
-সেকি?এতরাতে ?
-হুম,এতরাতেই । আসবা কিনা বল ।
-তোমার বাপ জানলে আমাকে খুন করবে ।
-সেটা আমি দেখব,তুমি বাসার সামনে এসে ফোন দাও । ' এত টুকু বলেই লাইন কেটে দে্য ও ।
অভীক দোটানায় পড়ে যায়।যাবে কি যাবে না ..ভাবতে ভাবতে কখন যে ও রিক্সায় চড়ে বসে,নিজে ই টের পায় না । অনেক ক্ষণ পর রিক্সা ওয়ালার ডাকে সম্বিত ফিরে পায় । 'কই যাইবেন ? '
-বসুন্ধরা আবাসিক এ চল । ..রিক্সা চলতে থাকে,অভীকের ভাবনার সুযোগ করে দিয়ে । অভীক ভাবতে থাকে-কেন ওকে এত রাতে তৃণা ডেকে পাঠাল ? কোন সমস্যায় নেই তো ও ...ভাবনায় ছেদ পড়ে,রিক্সা তার গন্তব্যে চলে এসেছে । ভাড়া চুকিয়েই তৃণা কে ফোন দেয় ও ।
-হ্যালো,আমি তোমার বাসার সামনে,বল,কি বলবে ?
-সামনে ই থাক,আর শোনো,তোমার রবির ফোন টা কই ?
-আছে তো,কি করবা ?
-বলছি...কিছুক্ষণ নীরবতা। দেখতে পাচ্ছ আমাকে ?
-কিভাবে দেখব এই অন্ধকারে ?
-বুদ্ধু,উপরে তাকাও..ফোনের লাইট জ্বলছে না ?
-হুম
-ঐটা ই আমি । এবার তোমার রবির ফোনের আলো তোমার মুখের উপর ধর,তোমাকে দেখি ।
-তুমি এভাবে দেখার জন্য আমাকে ডেকেছ রাত ১০টায় ?
-হুম,কি রোমান্টিক না ব্যপার টা ?
-তা তো বটে ই,তোমার আবিষ্কার না ?
-শোনো, আমি নীচে আসছি,তুমি গেইটের কাছে এসে দাঁড়াও ।
-কি বলছ ? কিভাবে নামবা তুমি ? তোমার বাবা বাসায় নেই ?
-আছে,চুপ থাক.. দেখ,আমি কি করি ।
১০মিনিটের মাথায় তৃণা এসে হাজির । জিগ্গেস করল অভীক-কি করে পারলে ? তৃণা হাসতে হাসতে বলে-আর বইল না । দারোয়ান চাচা কে বল্লাম বাবা বলছে ১টা পান এনে দিতে,আমাদের বাজার সর্দার তো ছুটি তে । এই সুযোগে ...... বলেই ও হাসতে থাকে । হঠাৎ তৃণা ই কথা বলে উঠে । এই শোনো,চাচা চলে আসবে এক্ষুণি , হাত টা দাও তো একটু ধরে দেখি । হাত বাড়াল অভীক। একটু ছুঁয়ে ই দৌড় দেয় তৃণা । অভীক কিছু বুঝার আগে ই তৃণা উঠে যায় ওর বাসায় । অভীক হাঁটতে থাকে বারিধারার দিকে ।
রাত ৩টায় ১টা মেসেজ - 'আজ ই তোমার আমার শেষ দেখা ছিল,কাল বাবা আমাকে সিংগাপুর নিয়ে যাচ্ছে,ভালো থেক তুমি,খুব ভালো ।' অভীক কি করবে বুঝতে পারে না । ভোর বেলায় গিয়ে তৃণার বাসার সামনে হাজির হয়। তৃণার ফোন অফ । দারোয়ান কে জিগ্গেস করতে ই অভীক জানতে পারে-তৃণার ব্রেন টিউমার,অপারেশন করতে গেছে বিদেশে,ওর বাবা মা সবাই গেছে । অভীকের চোখে পানি চলে আসে,শেষ দেখা টা কেন এমন করে করল তৃণা,বুঝতে পারে না কিছু ই । কাল রাতে যেই হাত টা তৃণা ছুঁয়ে দিছিল,সেই হাত টা নিয়ে গালে ছোঁয়ায় আর ভাবে - কেন এমন হল ?
সেই থেকে রোজ ১বার তৃণার বাসার সামনে যায় ও,দারোয়ান জানায়-কেউ ফিরে নাই । এভাবে ৩বছর পার করে দেয় অভীক। সারা টা জীবন হয়ত অপেক্ষা করবে ও .... কে জানে,তৃণা কখনো ফিরবে নাকি ? অথচ,অভীক হাত গালে ছোঁয়ালে ই তৃণার ছোঁয়া পায় এখন ও,আর মনের অজান্তেই চোখ ভিজে যায় ওর ..
[কাল্পনিক]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

