somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম কিংবা প্রেম না ...

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




শুরু টা ঠিক কবে কিভাবে কেউ জানে না । কিসের শুরু ? অভীক - তৃণা ২জন ই এখন আর মনে করতে পারে না তাদের শুরু টা । শুধু বর্তমান নিয়ে ই আছে ।
অভীক পারিবারিক ব্যবসা দেখা শোনা করছে আর তৃণা সোচিওলজিতে অনার্স করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । হুম,পাঠক.... প্রেম কিংবা প্রেম না গল্প টার এখানে ই শুরু ।


অভীকের ফোন বেজে উঠে। অভীক লাইন কেটে দেয় ব্যস্ততায় । ভাবে কাজ সেরে ই ফোন দিবে । কিন্তু না.. তৃণা বার বার ফোন করে ই যাচ্ছে । অভীক বাধ্য হয়ে ফোন টা সাইলেন্ট করে রাখে । মিটিং টা একটু পর ই শেষ হবে ওর। এরপর,ইচ্ছামত কথা বলা যাবে এই ভেবে অভীক কাজে মন দেয় । ওর আর কাজ করা হয় না । তৃণার মেসেজ ওর সব কিছু থামিয়ে দেয় - 'কি ব্যাপার ? ফোন ধর না কেন ? এখন তুমি কল ব্যাক না করলে আগামী ৬মাস আমার ফোন অফ থাকবে ।' অস্থিরতায় অভীক অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে । মিটিং টা আর হয় না ওর । কত্তোবড় ক্লায়েন্ট এর কাজ টা ও হাতছাড়া করে দিছে,তৃণা তা কল্পনা ও করতে পারবে না । অথচ,তৃণার এসবে কিছু ই যায় আসে না। ওর যা ইচ্ছা,ও তা করবেই । অভীক ৫ বছর ধরে চেষ্টা করছে,কিচ্ছু পরিবর্তন করতে পারে নি এই খামখেয়ালী মেয়ে টা কে । তৃণা মাঝখানে রাগ করে ৮মাস যোগাযোগ রাখে নি,ঐ দিন গুলোকে অভীকের এখন ও নরক মনে হয় । ঐ কষ্ট সে আর সইতে পারবে না দেখে ই হুলস্থুল করে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে । ফোন দিতেই ত্বণা বলে,'এক্ষুণি আমার বাসার সামনে এসো...
-সেকি?এতরাতে ?
-হুম,এতরাতেই । আসবা কিনা বল ।
-তোমার বাপ জানলে আমাকে খুন করবে ।
-সেটা আমি দেখব,তুমি বাসার সামনে এসে ফোন দাও । ' এত টুকু বলেই লাইন কেটে দে্য ও ।

অভীক দোটানায় পড়ে যায়।যাবে কি যাবে না ..ভাবতে ভাবতে কখন যে ও রিক্সায় চড়ে বসে,নিজে ই টের পায় না । অনেক ক্ষণ পর রিক্সা ওয়ালার ডাকে সম্বিত ফিরে পায় । 'কই যাইবেন ? '
-বসুন্ধরা আবাসিক এ চল । ..রিক্সা চলতে থাকে,অভীকের ভাবনার সুযোগ করে দিয়ে । অভীক ভাবতে থাকে-কেন ওকে এত রাতে তৃণা ডেকে পাঠাল ? কোন সমস্যায় নেই তো ও ...ভাবনায় ছেদ পড়ে,রিক্সা তার গন্তব্যে চলে এসেছে । ভাড়া চুকিয়েই তৃণা কে ফোন দেয় ও ।

-হ্যালো,আমি তোমার বাসার সামনে,বল,কি বলবে ?
-সামনে ই থাক,আর শোনো,তোমার রবির ফোন টা কই ?
-আছে তো,কি করবা ?
-বলছি...কিছুক্ষণ নীরবতা। দেখতে পাচ্ছ আমাকে ?
-কিভাবে দেখব এই অন্ধকারে ?
-বুদ্ধু,উপরে তাকাও..ফোনের লাইট জ্বলছে না ?
-হুম
-ঐটা ই আমি । এবার তোমার রবির ফোনের আলো তোমার মুখের উপর ধর,তোমাকে দেখি ।
-তুমি এভাবে দেখার জন্য আমাকে ডেকেছ রাত ১০টায় ?
-হুম,কি রোমান্টিক না ব্যপার টা ?
-তা তো বটে ই,তোমার আবিষ্কার না ?
-শোনো, আমি নীচে আসছি,তুমি গেইটের কাছে এসে দাঁড়াও ।
-কি বলছ ? কিভাবে নামবা তুমি ? তোমার বাবা বাসায় নেই ?
-আছে,চুপ থাক.. দেখ,আমি কি করি ।


১০মিনিটের মাথায় তৃণা এসে হাজির । জিগ্গেস করল অভীক-কি করে পারলে ? তৃণা হাসতে হাসতে বলে-আর বইল না । দারোয়ান চাচা কে বল্লাম বাবা বলছে ১টা পান এনে দিতে,আমাদের বাজার সর্দার তো ছুটি তে । এই সুযোগে ...... বলেই ও হাসতে থাকে । হঠাৎ তৃণা ই কথা বলে উঠে । এই শোনো,চাচা চলে আসবে এক্ষুণি , হাত টা দাও তো একটু ধরে দেখি । হাত বাড়াল অভীক। একটু ছুঁয়ে ই দৌড় দেয় তৃণা । অভীক কিছু বুঝার আগে ই তৃণা উঠে যায় ওর বাসায় । অভীক হাঁটতে থাকে বারিধারার দিকে ।

রাত ৩টায় ১টা মেসেজ - 'আজ ই তোমার আমার শেষ দেখা ছিল,কাল বাবা আমাকে সিংগাপুর নিয়ে যাচ্ছে,ভালো থেক তুমি,খুব ভালো ।' অভীক কি করবে বুঝতে পারে না । ভোর বেলায় গিয়ে তৃণার বাসার সামনে হাজির হয়। তৃণার ফোন অফ । দারোয়ান কে জিগ্গেস করতে ই অভীক জানতে পারে-তৃণার ব্রেন টিউমার,অপারেশন করতে গেছে বিদেশে,ওর বাবা মা সবাই গেছে । অভীকের চোখে পানি চলে আসে,শেষ দেখা টা কেন এমন করে করল তৃণা,বুঝতে পারে না কিছু ই । কাল রাতে যেই হাত টা তৃণা ছুঁয়ে দিছিল,সেই হাত টা নিয়ে গালে ছোঁয়ায় আর ভাবে - কেন এমন হল ?


সেই থেকে রোজ ১বার তৃণার বাসার সামনে যায় ও,দারোয়ান জানায়-কেউ ফিরে নাই । এভাবে ৩বছর পার করে দেয় অভীক। সারা টা জীবন হয়ত অপেক্ষা করবে ও .... কে জানে,তৃণা কখনো ফিরবে নাকি ? অথচ,অভীক হাত গালে ছোঁয়ালে ই তৃণার ছোঁয়া পায় এখন ও,আর মনের অজান্তেই চোখ ভিজে যায় ওর ..




[কাল্পনিক]
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:১৪
৯৮টি মন্তব্য ৯৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×