বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কে ৩টা যুগে ভাগ করা হয় । - প্রাচীণ,মধ্য ও আধুনিক । প্রচীণ যুগ - ৬৫০ থেকে ১২০০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত । মধ্যযুগ কে আবার ২ভাগে ভাগ করা হয় । ১২০০ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত মধ্যযুগের প্রথমার্ধ আর ১৩৫০ থেকে ১৮০০ পর্যন্ত শেষ মধ্য । মধ্যযুগের প্রথমার্ধ কে অনেকেই অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে । ১৮০০ খৃষ্টাব্দ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত আধুনিক যুগ ।
চর্যাপদ :- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীণ যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ । হরি প্রসাদ শাশ্রী নেপালের রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে বংগীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন । তখন নাম দেন -'হাজার বছরের পুরান বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা'
চল্লিশ জন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য রচিত মোট ৪৭ টি গান ই চর্যাপদ নামে পরিচিত । একটি গান খন্ডিত থাকায় মোট সাড়ে ছেচল্লিশ টি গান পাওয়া যায় । চর্যাপদের পদগুলিতে কাব্যগুণ সমৃদ্ধ চিত্র ফুটে উঠেছে । এতে নিখুঁত ভাবে সমাজ চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল । এই বৌদ্ধ গান গুলিতে রাগ-রাগিণীর উল্লেখ আছে । চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সাধন প্রণালীর তত্ত্ব কথা । বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস চর্যাপদ থেকেই শুরু ।
১২০০-১৩৫০ পর্যন্ত মধ্যযুগের প্রথমার্ধ । এই যুগ কে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে । কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । মাত্র ২টি গ্রন্থের পরিচয় পাওয়া যায় । - শূণ্যপুরাণ - রামাই পন্ডিত রচিত ধর্ম পূজার শাস্ত্রগ্রন্থ ও -শেফশুভদয়া- রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র কর্তৃক রচিত ।
শ্রীকৃষ্ন কীর্তন কাব্য :- জয়দেব বিদ্যাপতি আর চন্ডিদাস,শ্রীকৃষ্ন কীর্তন তারা করিল প্রকাশ । এই কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা-কৃষ্ন মোট ১৩ খন্ডে বিভক্ত । রাধা-কৃষ্নের প্রেম কাহিনী এই কাব্যে বর্ণনা করা হয় ।
বৈষ্নব পদাবলী :- বৈষ্নব পদাবলীর অধিকাংশ ই রচিত হয়েছে'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম ভাষায় । মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষার রচয়িতা । এছাড়া,চন্ডীদাস,গোবিন্দ দাস,বলরাম দাস আরো অনেকেই বৈষ্নব পদাবলী রচনা করেন ।
মংগল কাব্য :- মধ্যজুগের ব্যাপক স্থান জুড়ে আছে মংগল কাব্য । এই কাব্যের উপজীব্য দেব-দেবীর আখ্যান । প্রধানত লৌকিক দেব-দেবী । পনের শতক থেকেই মংগল কাব্যের উৎপত্তি আর মধ্যযুগের শেষ কবি ভারত চন্দ্রের অন্নদামংগল রচনার মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি । চন্ডী মংগল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত । মংগল কাব্য ধারায় শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম । মনসা,চন্ডী,শিবের কাহিনী অনুসরণে ভু কাব্য রচিত হয়েছে ।
প্রনয়োপাখ্যান : - আরাকান রাজ সভার পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগে বাংগালী মুসলমান কবিরা ধর্ম সংস্কারমুক্ত মানবীয় প্রণয় কাহিনী অবলম্বনে প্রনয়োপাখ্যান রচনা করে এক স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন । দৌলত কাজী,আলাওল,শাহ মুহম্মদ সগীর,দৌলত উজির বাহরাম খাঁ,মুহম্মদ কবির প্রধানত প্রনয়োপাখ্যান গুলি রচনা করেন । এই রচনাগুলি মূলত আরবি,ফার্সি,হিন্দি,সাংস্কৃত বিভিন্ন ভাষা থেকে অনুদিত । বাংলায় এগুলি অনুবাদের জন্য এগুলি মধ্যযুগের অন্যতম নির্দশন হয়ে আছে ।
মধ্যযুগে আরো রয়েছে - জীবনী সাহিত্য , নাথ সাহিত্য , লোক সাহিত্য , মুসলিম ধর্ম সাহিত্য । নবী কাহিনী,মারফত তত্ত্ব,পীর পাঁচালি । চৈতন্য দেবের জীবন অবলম্বনে চৈতন্য ভগবত,চৈতন্য মংগল,চৈতন্য চরিতামৃত । অনুবাদ হয় রামায়ণ,মহাভারত,ভগবত,লোকসাহিত্যে মৈমনসিংহ গীতিকা,পূর্ব বংগ গীতিকা,নাথ সাহিত্য ইত্যাদি ।
আধুনিক যুগ :- ১৮০০ খৃষ্টাব্দ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত আধুনিক যুগের পরিধি । দৈনন্দিন জীবনে বাংগালির কথা-বার্তায় গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলে ও উনবিংশ শতাব্দীর পূর্বে সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি । চিঠি-পত্র ও দলিল দস্তাবেজে কিছু পাওয়া যায় । ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলসলী কর্তৃক কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপিত হয় । ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হয় । অধ্যক্ষ ও বাংলা বিভাগের প্রধান হন - বাংলায় অভিগ্গ উইলিয়াম কেরি । তিনি ২জন পন্ডিত ও ৬জন সহকারী নিয়ে বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনা করেন । এই সময়ে ৮জন লেখক ১৩ খানি পুস্তক রচনা করেন ।
[ আজ আর নয়,পরে হয়ত লিখব,হয়ত না ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


