ক্যাম্পাস দখল করতে ছাত্রলীগ ফারুককে হত্যা করে শিবিরকে অভিযুক্ত করতে চাইছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফারুক হোসেনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শামছুল আলম গোলাপ ও সেক্রেটারি মোবারক হোসেন এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন।
শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রলীগ রাবি ক্যাম্পাস দখল করতে নিজ দলীয় কর্মী হত্যা করেছে এবং এ হত্যাকান্ডের সাথে শিবিরকে জড়ানোর অপচেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের উদ্দেশ্যে গত ১৩ এপ্রিল ০৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সেক্রেটারি শরীফুজ্জামান নোমানীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য ছাত্রশিবির সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে সহাবস্থান নিশ্চিত করে।
কিন্তু ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস দখলের নেশায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আসাদ ও কাউসারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বঙ্গবন্ধু হলে গিয়ে দুই শিবির কর্মীকে তাদের বরাদ্দকৃত সীট থেকে নেমে যেতে বলে। তারা শিবির কর্মীদের ব্যাপক মারধর করে। এ সময় পুলিশ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো হলে হলে তল্লাশির নামে নিরপরাধ শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। শিবির নেতাকর্মীরা যখন গ্রেফতার আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটাছুটি করছে তখন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা হলে হলে রুম ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে এবং হলে অবস্থানরত সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়।
এ হামলায় জাকারিয়া সুমন (ইসলামের ইতিহাস), জুয়েল (পপুলেশন সায়েন্স), তৌহিদ (ব্যবস্থাপনা), আব্দুস সাত্তার (আরবী মাস্টার্স), সানোয়ার (আরবী ৪র্থ বর্ষ), ইসরাফিল (ইসলামিক স্টাডিজ ৪র্থ বর্ষ), খোকন (আরবী), মতিয়ার রহমান (প্রাণ রসায়ন), শহীদুল ইসলাম (পদার্থ বিজ্ঞান), শরীফ মিয়া (রসায়ন) গুরুতর আহত হয়।
শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রশিবির যেকোন ধরনের নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ পরিহার করে চলে তাই শিবির বড় ধরনের অরাজকতা এড়িয়ে চলার জন্য শিবিরের নেতাকর্মী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসে। শিবিরের নেতাকর্মী যাতে হলে ফিরতে না পারে সেজন্য ছাত্রলীগ একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গিয়ে ফারুককে হত্যা করে এবং তার দায় শিবিরের ওপর চাপিয়ে দেয় যা খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়।
শিবির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, টেন্ডারবাজি ও আধিপত্য কায়েমের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল ও নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কয়েক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আবু বকর সিদ্দিকী নামের এক সাধারণ ছাত্রকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর এসব হত্যাকান্ডকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে সরকার চালিয়ে দিয়ে ছাত্রলীগকে উস্কানি দিচ্ছে।
শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রলীগ অতি উৎসাহী হয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি ফারুক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে শিবিরকে জড়ানো হচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবির কখনো হত্যা, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
এ সংগঠনের গঠনমূলক কর্মসূচি ম্লান করার জন্য অন্যায়ভাবে এ হত্যার সাথে শিবিরের সম্পৃক্ততা খোঁজা হচ্ছে।
শিবির নেতৃবৃন্দ ফারুক হোসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়। শিবির নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সাথে আরো বলেন, যদি শিবির নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সাথে শিবিরের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সামান্যতমও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


