মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
শ্রেণীকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ভাবনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ভজন কুমার শিকদার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার দিন ধর্ষিতা শিশু ও তার মা-বাবা মহম্মদপুর থানায় মামলা করতে গেলেও তদন্তের নামে পুলিশ তিন দিন পর গতকাল শনিবার মামলাটি এজাহারভুক্ত করে। অভিযুক্ত শিক্ষক একটি বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের স্খানীয় কয়েকজন নেতা তাকে রক্ষায় প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রথমে ধর্ষিতার পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং পরে অর্থের প্রলোভনে তারা আপসের চেষ্টা করেন। পুলিশকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে মামলাটি এখন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও শিশুটির পরিবার সূত্র জানায়, গত বুধবার সকালে বিনোদপুরের ভাবনপাড়া বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভজন কুমার শিকদার প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে পাসের সালাম মোল্লার নির্জন বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় বাড়ির গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী চাকরির কারণে বাইরে ছিলেন। বাড়ির একটি কক্ষ আগে থেকেই ওই শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ব্যবহার করতেন। তিনি শিশুটিকে ঘরের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় তারাা ভজন কুমারকে আপত্তিকর অবস্খায় দেখতে পান বলে জানান।
এ ঘটনার পর থেকে শিশুটির দরিদ্র পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
উল্লেখ্য, এবার উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ভজন কুমার শিকদার।
এ বিষয়ে শিশুর পিতা দরিদ্র ভ্যানচালক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে ভজন কুমার তাকে ভয়-ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ বলে কি বিচার পাবো না।’
মামলার বাদি ও শিশুটির মা বলেন, ‘থানায় তিন দিন ঘুরেছি, ওসি মামলা নেয়নি। বলেছে, আগে মেডিক্যাল পরে মামলা।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদ বলেন, ‘আগে মামলা হয়, পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। শনিবার মামলা হওয়ার পর আমি তদন্ত করছি।’
মহম্মদপুর থানার ওসি শামছুল হক বলেন, ‘তদন্তের পর মামলা নেয়া হয়েছে।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

