somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সকল মুমিন মুসলমানের প্রশ্ন আজ ধ্বনিত হয়েছে মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর সন্তানের কন্ঠে

২৯ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের একটি জাতীয় প্রত্রিকায় প্রকাশিত মাওলানা রফিক বিন সাঈদীর রচনা থেকে কিয়াদংশ উদ্ধৃতি দেয়া হলো।

ঢাকা থেকে যে তদন্ত সংস্থা পিরোজপুরে গিয়ে তদন্ত(!) করে আমার আব্বার নানা অপরাধ আবিষ্কার করলেন, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে কিছু প্রশ্ন রাখছি
এক. স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার সারাদেশের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করেছিল এবং তদন্তের আওতায় ছিল পাকবাহিনী এবং তাদের সহযোগী বাহিনীগুলো। তদন্তের মাধ্যমে ১৯৫ জন পাক সামরিক অফিসারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বিচারের কথা জানানো হয়। কিন্তু বর্তমান তদন্ত দলের তদন্তে আমার আব্বাকে প্রকারান্তরে দেশের শ্রেষ্ঠতম যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম তদন্ত দলের অনুসন্ধানী তালিকায় আমার আব্বা আল্লামা সাঈদীর নাম নেই কেন?
দুই. পাকবাহিনীর সহযোগীদের অপরাধমূলক কাজের শাস্তি বিধানের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন জারি করা হয় এবং এ আইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ লোককে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ৩৭,৪৭১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং ২,৮৪৮ জনকে বিচারের আওতায় আনা হয়। ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ২,০৯৬ জন বেকসুর খালাস পায়। এসবের কোনো একটি তালিকাতেও আমার আব্বার নাম নেই কেন?
তিন. আমার আব্বা যদি মুক্তিযুদ্ধকালে পিরোজপুরে কোনো রকম যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকতেন, তাহলে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে অর্থাত্ বিজয় দিবসের মাত্র ২ মাস ৭ দিন পরে পিরোজপুর শহরে তাফসির মাহফিলের আয়োজন করে এলাকার লোকজন কীভাবে আব্বাকে প্রধান অতিথি হিসেবে বরণ করেছিল? স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে কীভাবে লোকজন আব্বার কথিত অত্যাচারের কথা ভুলে গিয়ে তাঁর মুখ থেকে পবিত্র কোরআন হাদিসের বাণী শুনেছিল?
চার. ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আব্বার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বিশিষ্ট আইনজীবী ও পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত বাবু সুধাংশু শেখর হাওলাদার। তিনি তার নির্বাচনী জনসভার একটিতেও কেন আব্বাকে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, খুনি, রাজাকার বলে অভিযুক্ত করেননি বরং আমি স্বচক্ষে দেখেছি তিনি আব্বাকে দেখামাত্র শ্রদ্ধাভরে গভীরভাবে আলিঙ্গন করতেন।
উল্লিখিত এমন ধরনের অগণিত প্রশ্ন শুধু আমার নয়, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অগণিত বাংলাদেশীর। কিন্তু কে দেবে এসব প্রশ্নের জবাব? এসব প্রশ্ন তোলারও কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। বরং প্রতিবাদী সবাইকে রাখা হয়েছে গ্রেফতার আতঙ্কে। আমি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে এসব প্রশ্ন উত্থাপন করলাম। হয়তো এ অপরাধে(!) কোনো না কোনো অজুহাতে আমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হতে পারে জেনেও আমার আব্বার সর্বোপরি পবিত্র কোরআনের একনিষ্ঠ ও নির্ভীক একজন মুফাস্সীরের পক্ষে আল্লাহর কাছে বিনিময়ের আশায় আমি এসব প্রশ্ন উত্থাপন করলাম।
পরিশেষে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ার উদ্দেশে বিনয়ের সঙ্গে আবেদন করছি, দয়া করে প্রকৃত সত্য না জেনে বা মিথ্যাচারে প্রভাবিত হয়ে আমার আব্বার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রকাশ করবেন না। সাংবাদিক হিসেবে প্রকৃত সত্য জানা এবং তা বিশ্ববাসীর সম্মুখে তুলে ধরা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব—এ অনুভূতি আপনাদের জীবন্ত রয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ‘সত্য ব্যতীত মিথ্যা প্রকাশ করব না’ এ শপথ নিয়ে যারা সংবাদ জগতে প্রবেশ করেছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আমার আব্বা সম্পর্কে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৫২
২৮টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×