somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাঞ্ছিত হয়েও বিচার পাচ্ছে না পুলিশ

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারি দলের নতাকর্মীরা প্রায়শই পুলিশকে মারধর করছে। এমনকি সংসদ সদস্যরা নিজেও পুলিশকে পেটানোর তালিকায় নাম তুলেছেন। কিছু ঘটনায় পুলিশ নিজে বাদী হয়ে ওইসব অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার হচ্ছে না। কোন কোন ক্ষেত্রে দায়সারা গোছের সাধারণ ডায়েরি করেই ঘটনার ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি সরকারি দলের সংসদ সদস্যের হাতে যশোরের শার্শা থানার ওসি নির্যাতনের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা না হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের ক্ষোভ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।

যশোর এমপি ও তার ক্যাডারদের হাতে পুলিশের মারখাওয়ার ঘটনার আগেও সংসদ সদস্যের হাতে পুলিশ সদস্য মার খেয়েছেন। কিন্তু ওই সব ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। উল্টো মামলা হওয়ার কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষমা চাইতে হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সরকারি দলের এমপি এবং নেতাকর্মীদের হাতে প্রায়ই পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত এবং শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতি নিয়ন্ত্রণে এর প্রভাব পড়তে পারে।

পুলিশ লাঞ্ছিত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা : সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হাতে পুলিশ লাঞ্ছিত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরছি। গত শনিবার রাতে শার্শার লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের পারুইঘুপি গ্রামের বিএনপি কর্মী আবদুল হামিদ খুন হয়। এ ব্যাপারে থানায় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এই মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে গত রোববার বিকেলে এমপি আফিল উদ্দিনের পিএ আসাদ শার্শা থানার ওসি এনামুল হককে ডেকে নিয়ে যান। সাথে করে মামলার এজাহার নিয়ে যেতে বলেন। তিনি শার্শা বাজারের অদূরে আফিল উদ্দিনের জুট মিলে গেলে এমপি এজাহারের কপি দেখে ওসিকে থাপ্পড় মারেন। এ ব্যাপারে ওসি এনামুল হক বলেছেন, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এমপি আফিল উদ্দিন তার কক্ষে বসে তাকে প্রথমে দুই-তিনটি থাপ্পড় মারেন। এরপর আওয়ামী লীগের অপর নেতা মুসা মাহমুদ তার ইউনিফর্মের কলার চেপে ধরে তলপেটে দুই-তিনটি লাথি মারে। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মুসা লাথি মারতে মারতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে। আবার তাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে এমপি আরো তিন-চারটি চড়-থাপ্পড় মেরে যশোর ছাড়তে বলেন। অবস্খা বেগতিক দেখে এসআই আসাদ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

গত মে মাসে পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেক করতে গিয়ে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন সূত্রাপুর থানার এএসআই সাইফুর রহমান। জগন্নাথ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুদ রানার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুর রহমানকে টেনেহিঁচড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমের মধ্যে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

গত ১৭ জুলাই কামরাঙ্গীরচর থানার লোহার ব্রিজের কাছে চেকপোস্টে দায়িত্বপালনকালে এসআই এবারত হোসেন কাগজপত্রবিহীন একটি মোটরসাইকেল আটক করেন। ওই মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য ঘটনাস্খলে আসেন স্খানীয় ছাত্রলীগ নেতা জুম্মন ও মোহাম্মদ আলী পলাশ। এর আগে জুম্মন মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে এসআই এবারতকে নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অমান্য করায় ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ১০-১৫ জন ঘটনাস্খলে গিয়ে এবারতকে মারধর করেন। এসআই এবারত মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ‘তার ডান গালে থাপ্পড় দিয়ে বলে কুত্তার বাচ্চা চোখ তুলে কথা বলিস নিচের দিকে তাকা।’ পুলিশকে মারধর করে তারা অবৈধ মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়।

গত ৩০ জুন আশুলিয়া ব্রিজের কাছে সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা রাস্তায় যানজটের অজুহাতে ওই এলাকার দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট শরিফুল ইসলামকে বেদম মারধর করেন। এই ঘটনায় ইলিয়াস মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার এমন অসৌজন্যসূলক আচারণকে অনাকাঙখিত, অনভিপ্রেত ও দু:খজনক বলে মন্তব্য করে। ইলিয়াস মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও কোনো অ্যাকশন হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা কলেজের সামনে এক সার্জেন্টকে বেদম প্রহার করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ওই ঘটনার সাথে জড়িতরাও গ্রেফতার হয়নি। সম্প্রতি রাজধানীতে এক সংসদ সদস্যের পিএস’র হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। বিদ্যুৎ বিভাগের দুই কর্মচারীকে সরকারি দলের লোকজন আটকে রাখলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ওই পুলিশ সদস্য মারধরের শিকার হন।

পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে বসুন্ধরা গ্র"পের দুই নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে ময়মনসিংহ ৮ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা এমপি আবদুস সাত্তার রিকশায় যাওয়ার সময় জাতীয় ঈদগাহ কদম ফোয়ারার সামনে ট্রাফিক সিগনাল পড়লে তিনি চালককে যেতে বলেন। এ সময় ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ লিয়াকত আলী রিকশাচালককে বাধা দিলে আবদুস সাত্তার ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বির্তকের এক পর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশকে চড় মারেন। এ অবস্থা দেখে কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট এগিয়ে আসেন। আবদুস সাত্তার তার ওপরও ক্ষিপ্ত হয়ে লাঞ্ছিত করেন। যদিও পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।

সর্বশেষ গত ১৮ আগদ্ব রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ইভটিজিংয়ে বাঁধা দেয়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালায় এলাকার ছাত্র লীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। তারা পুলিশের অস্রও লুট করে। যদিও এঘটনায় পরে ৪০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল।

শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরাই নয়। সম্প্রতি বসুন্ধরা গ্রুপের লোকজন চার পুলিশকে বাড্ডা এলাকায় মারধর করে। বাড্ডা থানার এসআই শেখ সসহ চারজনের একটি টিম নিয়ে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করার সময় গাড়িতে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বসুন্ধরার নিরাপত্তা কর্মীরা পুলিশকে মারধর করে।

একটি কেস স্টাডি : সংসদ সদস্য জনাব ইলিয়াস মোল্লা দায়িত্বপালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরীফুল ইসলামকে গত ৩০ জুন আশুলিয়া থানার আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন সেতুর পাশে অনেক লোকজনের সামনে মারধর করেছেন। ট্রাফিক সার্জেন্ট শরীফুল ইসলামের 'অপরাধ' ছিল, সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা কেন সেদিন এত লম্বা ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে থাকলেন এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট কেন এই 'সম্মানিত' সংসদ সদস্যকে ট্রাফিক জ্যাম থেকে ত্বরিত গতিতে উদ্ধার করে তার প্রতি যথাযথ ইজ্জত এবং সম্মান দেখালেন না।

ট্রাফিক সার্জেন্ট শরীফুল ইসলাম দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাঁকে মারধর করার অভিযোগ এনে ৮ জুলাই রাতে আশুলিয়া থানায় এই ইলিয়াস মোল্লা বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তার পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং অন্যান্য কর্তা ব্যক্তিদের টনক নড়ে; মামলাটি দায়ের করার পরই তারা জানতে পারেন যে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার খবর তারা গর্জনও করেছেন ট্রাফিক সার্জেন্টের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় মন্ত্রী সাহারা খাতুন এবং প্রতিমন্ত্রী টুকুরা সিদ্ধান্ত দেন যে কোন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি লাগবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি হলো, ‘কাজ করতে গেলে যে কারোরই ভুলত্র“টি হতে পারে। সংসদ সদস্যদের ছোটখাটো ভুলের বিষয় মামলা করার আগে থানার ওসিকে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং অনুমতি নিতে হবে’।

মন্ত্রীদ্বয়ের এই যুক্তিতে একটি অবিশ্বাস্য বিষয় লক্ষণীয়। ট্রাফিক সার্জেন্ট তার ওপর অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করছিলেন সেদিন সে জায়গায়; আর তখন তাকে মারধর করা হয়। মাননীয় মন্ত্রীরা মনে করেন এটি ‘একটি ছোটখাটো ভুল’। এমন ভুল যে কারোরই হতে পারে। সুতরাং সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমনসব ছোটখাটো ভুলত্র“টির প্রতিকার চয়ে মামলা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানে সাহারা খাতুনের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে।
সাহারা খাতুনদের আরও যুক্তি, সংসদ সদস্যরা হচ্ছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁদের বিরুদেধ হুট করে মামলা করার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। এখানে আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো, ঘটনা ঘটেছে ৩০ জুন, আর মামলা করা হয়েছে ৮ জুলাই; মানে ৮ দিন পর। তারপরও 'হুট' করে মামলা করা হলো? এই ৮দিন, মন্ত্রীরা ঘটনাটি জানতেও পারেননি?

মন্ত্রীরা বলেছেন, সংসদ সদস্যরা হলেন ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি’ ও 'সম্মানিত ব্যক্তি'। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেই তিনি সম্মানিত হবেন? গত ২৭ জুন বিএনপির হরতালের দিন বিএনপির সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরীকে যখন শাহবাগ মোড়ে গ্রেফতার করা হয়, সেখানেও কি দায়িত্ব পালনরত পুলিশকে গ্রেফতারের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি নেয়ার দরকার, বাধ্যবাধকতা ছিল? থাকলে সেটা কেন নেয়া হয়নি। নাকি আমরা বলবো আইন সরকারি দলের জন্য একরকম বিরোধী দলের জন্য ভিন্ন রকম।

পর্যবেক্ষন মহল মনে করেন, নির্বাচিত, ‘সম্মানিত’ সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রফেসর, সচিব, ডাক্তার, পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক, সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক এমপি, রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা কেন এই সম্মান পাবেন না? এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চিনি আমদানিকারক সমিতি, ভোজ্যতেল আমদানিকারক সমিতি, দোকান মালিক সমিতির নির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি লাগবে না কেন? তাঁরাও তো নির্বাচিত প্রতিনিধি।

আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকই যদি সমান হয়ে থাকেন, তাহলে যারা আইন প্রণয়ণের জন্য এমপি হয়েছেন তাদেরকে কেন এমন দায়মুক্তি দিতে হবে? এমপিদের কেউ খুন করলেও তার বিরুদ্ধে মামলা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি লাগবে কী? এক্ষেত্রে অবশ্য ভোলার এমপি শাওনের কথাও বলা যায়। তার বিরুদ্ধে প্রমাণসহ যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম হত্যামামলার অভিযোগ আসলেও বুধবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলা হয়নি।

পর্যবেক্ষক মহল আরো মনে করেন, নিজ দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রী হওয়ার শপথটিও ভঙ্গ করেছেন। কোন রাগ বা অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে মন্ত্রীদের দায়িত্ব পালন করার কথা। এই মর্মেও তাঁরা শপথ নিয়ে থাকেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, সংসদ সদস্য ইলিয়াস মেল্লার প্রতি তিনি অনুরাগের বশবর্তী হয়ে ১৩ জুলাই তারিখের সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। যার কারনে ইলিয়াস মোল্লাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হয়নি, তাকে বরং প্রোটেকশন দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কোন সভ্য দেশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশে ক্ষোভ : যশোরের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে শীর্ষ কর্মকর্তাদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশ সদর দফতর থেকে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ না নেয়া হলে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের চেইন-অব কমান্ড ভেঙে পড়বে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ বিভাগে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

একের পর এক পুলিশ লাঞ্ছিতের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে পুলিশ প্রশাসনে। ইত:পূর্বে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অনেকে বলেছেন, এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এভাবে মারধর করার ঘটনা পুরো বিভাগের মর্যাদাহানিকর।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×