দেশবাসী যাদের উপর ভরসা করতে পারে সেই পুলিশ ও বিচার বিভাগের যে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এবং এই দু’টি বিভাগকেই যে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করছে তাতে আর কোন রাখঢাক নেই। নির্ভরতার সর্বশেষ এই দুটি স্থলের প্রতি মানুষের আস্থা এখন হিমাঙ্কের অনেক নিচে। তা না হলে সাবেক একজন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে কি করে পুলিশের
পক্ষে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই, ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছিনতাই এবং গরু চুরিসহ এমন অবিশ্বাস্য ২৪টি মামলায় ৪৪৭ দিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়? সরকার কতোটা প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে একজন সাবেক মন্ত্রী, এলাকায় জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে জামিনযোগ্য মামলায় কারান্তরালে রাখা সম্ভব হয়?
অবশেষে এহসানুল হক মুক্তি পেলেন। উচ্চতর আদালতে সকল মামলায় জামিন নিশ্চিত করেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে তাকে আবার নতুন মামলায় মুক্তির পরপরই আটকে আবার জেলে নেয়া হবে না। আদালত আদেশ দিয়েছিল যে তাকে যাতে পুনরায় জেলগেটে আটক না করা হয়। যেদিন জামিনে মুক্তি দেয়ার কথা আসলে মুক্তি দেয়া হয় তার দু’দিন পর। কুমিল্লা কারা কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখান কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখার এবং উর্ধতন মহলের নির্দেশের। মিলনের স্ত্রী ও কন্যা এবং দলীয় নেতা কর্মীরা দু’দিন পর্যন্ত জামিনের আদেশ নিয়ে অপেক্ষা করেন এবং অবশেষে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ মুক্তি দেন।
২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একটি মামলায় জামিন পেলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি মামলায় তাকে দেখানো হতো শ্যোন অ্যারেস্ট। সঙ্গে সঙ্গে জামিন নামঞ্জুর। মামলার বিষয়গুলো রীতিমতো হাস্যকর, কিন্তু আওয়ামী সরকারের কাছে গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আদালত মামলাগুলোকে হাস্যকর বিবেচনা করে তাকে জামিন দেয়নি, সরকারের অঙ্গুলি হেলনে তারা কাজ করেছে। অভিযোগগুলোকে আদালত আমলে নিয়েছে এবং প্রতিটি মামলায় তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে। মিলনের শারীরিক, মানসিক অবস্থা কি হয়েছে তা সহজে অনুমেয়। তার অনুপস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে বিপন্ন, বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে মিলনের পরিবার। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষীণকণ্ঠ কখনও কখনও শোনা যায় বটে; কিন্তু মিলনের ওপর প্রতিহিংসায় উন্মত্ত ও বর্বর আঘাতগুলোর ব্যাপারে তারা ছিলেন রহস্যজনকভাবে নিঃশ্চুপ। এখনো শোনা যাচ্ছে, কচুয়া থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় অতি ক্ষমতাধর এমপি সাহেব নাকি আরও দুটি মামলা লাগিয়ে দিয়েছেন মিলনের বিরুদ্ধে। যে কারণে মিলন নিজেকে শঙ্কামুক্ত মনে করতে পারছেন না।
এখানে ওখানে যেখানে যখনই কিছু লোক জমে, সাধারণ যে প্রশ্নটা ওঠে সবার আগে তা হলো, দেশে হচ্ছেটা কি? আমাদের রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তারা কেন সামরিক শাসকদের মতো আচরণ করছেন? তারা মুখে গণতন্ত্র বলে, গণতন্ত্রকে ১৯৭৫ সালের ৪র্থ সংশোধনীর ধারায় একটু ভিন্নভাবে এবার গণতন্ত্রকে দাফন করার উদ্যোগ নিয়েছেন কেন? যেসব এজেন্ডা সামনে এনে তারা সরকারে এসেছেন্ সেসব প্রতিশ্রুতি এখন বিস্মৃত হয়ে অপ্রয়োজনীয়, জাতির জন্য ক্ষতিকর বিষয় অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ্, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সারের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। কিন্তু রক্তকরবীর আত্মবিমোহিত রাজার মতো বর্তমান সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিরোধী দলকে আচ্ছামত ঠেঙ্গানি দিয়ে, সম্পূর্ণ গায়ের জোরে তত্ত¦াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে, নিজেদের আখের ও গদির গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে।View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

