somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কথা বলছি..!

২০ শে জুন, ২০১১ দুপুর ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশবাসী যাদের উপর ভরসা করতে পারে সেই পুলিশ ও বিচার বিভাগের যে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এবং এই দু’টি বিভাগকেই যে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করছে তাতে আর কোন রাখঢাক নেই। নির্ভরতার সর্বশেষ এই দুটি স্থলের প্রতি মানুষের আস্থা এখন হিমাঙ্কের অনেক নিচে। তা না হলে সাবেক একজন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে কি করে পুলিশের

পক্ষে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই, ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছিনতাই এবং গরু চুরিসহ এমন অবিশ্বাস্য ২৪টি মামলায় ৪৪৭ দিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয়? সরকার কতোটা প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে একজন সাবেক মন্ত্রী, এলাকায় জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে জামিনযোগ্য মামলায় কারান্তরালে রাখা সম্ভব হয়?

অবশেষে এহসানুল হক মুক্তি পেলেন। উচ্চতর আদালতে সকল মামলায় জামিন নিশ্চিত করেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না যে তাকে আবার নতুন মামলায় মুক্তির পরপরই আটকে আবার জেলে নেয়া হবে না। আদালত আদেশ দিয়েছিল যে তাকে যাতে পুনরায় জেলগেটে আটক না করা হয়। যেদিন জামিনে মুক্তি দেয়ার কথা আসলে মুক্তি দেয়া হয় তার দু’দিন পর। কুমিল্লা কারা কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখান কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখার এবং উর্ধতন মহলের নির্দেশের। মিলনের স্ত্রী ও কন্যা এবং দলীয় নেতা কর্মীরা দু’দিন পর্যন্ত জামিনের আদেশ নিয়ে অপেক্ষা করেন এবং অবশেষে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ মুক্তি দেন।

২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একটি মামলায় জামিন পেলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি মামলায় তাকে দেখানো হতো শ্যোন অ্যারেস্ট। সঙ্গে সঙ্গে জামিন নামঞ্জুর। মামলার বিষয়গুলো রীতিমতো হাস্যকর, কিন্তু আওয়ামী সরকারের কাছে গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আদালত মামলাগুলোকে হাস্যকর বিবেচনা করে তাকে জামিন দেয়নি, সরকারের অঙ্গুলি হেলনে তারা কাজ করেছে। অভিযোগগুলোকে আদালত আমলে নিয়েছে এবং প্রতিটি মামলায় তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে। মিলনের শারীরিক, মানসিক অবস্থা কি হয়েছে তা সহজে অনুমেয়। তার অনুপস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে বিপন্ন, বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে মিলনের পরিবার। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষীণকণ্ঠ কখনও কখনও শোনা যায় বটে; কিন্তু মিলনের ওপর প্রতিহিংসায় উন্মত্ত ও বর্বর আঘাতগুলোর ব্যাপারে তারা ছিলেন রহস্যজনকভাবে নিঃশ্চুপ। এখনো শোনা যাচ্ছে, কচুয়া থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় অতি ক্ষমতাধর এমপি সাহেব নাকি আরও দুটি মামলা লাগিয়ে দিয়েছেন মিলনের বিরুদ্ধে। যে কারণে মিলন নিজেকে শঙ্কামুক্ত মনে করতে পারছেন না।

এখানে ওখানে যেখানে যখনই কিছু লোক জমে, সাধারণ যে প্রশ্নটা ওঠে সবার আগে তা হলো, দেশে হচ্ছেটা কি? আমাদের রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তারা কেন সামরিক শাসকদের মতো আচরণ করছেন? তারা মুখে গণতন্ত্র বলে, গণতন্ত্রকে ১৯৭৫ সালের ৪র্থ সংশোধনীর ধারায় একটু ভিন্নভাবে এবার গণতন্ত্রকে দাফন করার উদ্যোগ নিয়েছেন কেন? যেসব এজেন্ডা সামনে এনে তারা সরকারে এসেছেন্ সেসব প্রতিশ্রুতি এখন বিস্মৃত হয়ে অপ্রয়োজনীয়, জাতির জন্য ক্ষতিকর বিষয় অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ্, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সারের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা। কিন্তু রক্তকরবীর আত্মবিমোহিত রাজার মতো বর্তমান সরকার ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিরোধী দলকে আচ্ছামত ঠেঙ্গানি দিয়ে, সম্পূর্ণ গায়ের জোরে তত্ত¦াবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে, নিজেদের আখের ও গদির গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে।View this link
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×