somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাইকে অবাক করে দিয়ে সোনিয়া.......!!

২৮ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না, সরল সাদাসিধা জীবনযাপনে অভ্যস্ত কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সোনারগাঁও হোটেলের ভিভিআইপি’র সুবিধা নেননি। চাও রেস্টুরেন্টে বিশেষ খাবারের আয়োজন ছিল তার জন্য, কিন্তু তিনি তা খাননি। খেলেন হোটেলের সাধারণ অতিথিদের জন্য রান্না করা বুফের খাবার। প্রটোকল ভেঙে খেতে ঢোকেন সোনারগাঁও হোটেলের নিচ তলায় ঝরনার পাশে অবস্থিত ঝরনা রেস্টুরেন্টে। সেখানে হঠাৎ তার প্রবেশে অবাক হয়ে যান হোটেলের স্টাফরা। তার জন্য হোটেলের দোতলায় চাও রেস্টুরেন্টে ইটালিয়ান, চাইনিজ, থাই খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশী খাবারের আইটেম ছিল। বিশেষ করে তার পছন্দের স্যামন ফিস ও ভেজিটেবল ক্যানালোনি ছিল মেন্যুতে। তা জানা সত্ত্বেও যাননি। সোনারগাঁও হোটেল সূত্র জানায়, ২৪শে জুলাই রাতে সোনিয়া ভারি খাবার খাননি। লাঞ্চ করেছেন কেবল ২৫শে জুলাই দুপুরে। ২টা ২০ মিনিটে ঝরনা রেস্টুরেন্টে প্রবেশদ্বারে আসেন। এ সময় নিরাপত্তা রক্ষীরা তার সঙ্গেই ছিলেন। তারাও জানতেন না তিনি দোতলায় যাবেন না। তাদেরও অবাক করে দেন সোনিয়া। তবে নিরাপত্তা রক্ষীদের কাউকে ঝরনা রেস্টুরেন্টের ভেতরে নেননি। অন্য গেস্টের সমস্যা হতে পারে এ চিন্তা করেই সবাইকে বাইরে থাকতে বলেন। তারা হোটেলের রেস্টুরেন্টের বাইরেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে লাঞ্চ সারেন তিনি। এর আগে সফরসঙ্গী এক মন্ত্রীকে নিয়ে ঝরনা রেস্টুরেন্টের গেটে যেতেই তাকে দেখে ফেলেন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার লিউ ডি সিলভা। তিনি এগিয়ে গিয়ে নমস্কার জানিয়ে ভেতরে নিয়ে যান তাকে। সোনিয়া ঝরনা রেস্টুরেন্টের সাত নম্বর টেবিলটি পছন্দ করে সেখানেই বসেন। ওই সময় রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাচ্ছিলেন হোটেলের বিদেশী গেস্টরা। সোনিয়া ঝরনায় ঢুকে নিজেই বুফে খাবার আনতে চান। তখন ম্যানেজার জানান, তিনিই তাকে সেবা দিতে চান। সোনিয়া জানতে চান কি কি মেন্যু আছে। তাকে বাংলাদেশী, চাইনিজ, থাইল্যান্ড ও ইন্ডিয়ান খাবারের বিভিন্ন আইটেমের কথা জানান। তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। একটু চুপ থেকে বলেন, আমি ডাব খেতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেজার ডাবের পানির ব্যবস্থা করেন। হোটেলের ডাব গাছ থেকেই ডাব আনানো হয়। দু’টি ডাব কেটে দু’জনকে গ্লাসে দেয়া হয়। সোনিয়া বাংলাদেশী ডাবের পানির প্রশংসা করেন। এরপর কি খাবেন জানতে চাইলে ম্যানেজারকে বলেন, একটু ঘন ডাল, সেই সঙ্গে নান রুটি, আর মাছ। তিনি ব্রেক করা ভেটকি মাছের একটি পিস খান। এরপর ওই মাছের স্বাদ বর্ণনা করে ম্যানেজারের কাছে আরও একটু মাছ নিতে চান। বলেন, মাছটি খুব মজা হয়েছে। আমি কি আর একটু নিতে পারি? এরপর ম্যানেজার তাকে আরও এক পিস মাছ দেন। সেটিও খান। এছাড়া তিনি খান নানরুটি, ঘন ডাল ও সবজি। ডাবের পানি ও সাদা পানি ছাড়া কোন ধরনের কোমল পানীয় বা জুস খাননি। এব্যাপারে ম্যানেজার জিজ্ঞেস করলে জানিয়েছেন কোমল পানীয় খান না। খাবারের শেষ দিকে সামান্য একটু সাদা ভাত নিয়েছিলেন। তবে সবটুকু ভাত খাননি। প্রায় বিশ মিনিট তিনি রেস্টুরেন্টে ছিলেন। শেষ দিকে খান ডেজার্ট। কেক, পুডিং পেস্ট্রি থাকলেও খাননি। খেয়েছেন আম ও পেঁপে। আনারস, কাঁঠাল, অন্যান্য ফল দিলেও খাননি। খাবারের শেষে ঝরনা রেস্টুরেন্টের খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সব কথা ইংরেজিতেই বলছিলেন। ম্যানেজারকে বলেন, আপনার হোটেলের সার্ভিস খুব ভাল। আমার কাছে খাবারও ভীষণ ভাল লেগেছে। আপনাকে ধন্যবাদ। ম্যানেজারও তাকে ধন্যবাদ দেন। এরপর সোনিয়া চলে যান। সোনিয়ার রেস্টুরেন্টে খাবারের বিল আসে ৩০৬০ টাকা। ওখানে প্রতিজনের খাবারের বিল ১৫৩০ টাকা। দু’জনে খান। ওই টাকা তার রুমের বিলের সঙ্গে যোগ করে দেয়া হয়। সোনিয়াকে রেস্টুরেন্টে সার্ভিস দেন সেখানকার ম্যানেজার লিউ ডি সিলভা ও তার সহকারী ইলোরা। তাকে আপ্যায়ন করতে পেরে তারা ভীষণ আনন্দিত। সিলভা আগেও এ ধরনের ভিভিআইপিদের সেবা করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি, স্পেনের রানী সোফিয়ারও সেবা করতে পেরেছিলেন তিনি। ঝরনা রেস্টুরেন্টে আছেন প্রায় তিন বছর। এর আগে চাও রেস্টুরেন্টে ছিলেন। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধীকে আপ্যায়ন করতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছে। তিনি আমাদের আপ্যায়নে ভীষণ খুশি। খাবারের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন খাবার খুব ভাল হয়েছে। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধীকে কাছে থেকে দেখে মনে হয়েছে একেবারেই সাদামাটা মানুষ। তবে দারুণ স্মার্ট। সব মিলিয়ে অসাধারণ।
এদিকে সোনিয়া গান্ধী সোনারগাঁও হোটেলে থাকলেও দুই দিনের অবস্থানকালে খুব বেশি খাবার খাননি। তিনি খুব সাধারণ খাবার খান। রুটি, সবজি, ডালই তার পছন্দ। এছাড়াও সাধারণ রুটি খেতে পছন্দ করেন নাস্তায়। ২৫শে জুলাই সকালে রুমেই হাল্কা নাস্তা করেছেন। তিনি ছিলেন হোটেলের আটতলায় প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে। যারা তার সেবা দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনি তাদের কাছে এটা ওটা চাননি। হোটেলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক আওয়াল হোসেন বলেন, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আমাদের এখানে অতিথি হয়েছিলেন। এটা হোটেলের জন্য বড় ব্যাপার। আমরা বাংলাদেশে আসা বিশ্বের প্রায় সব অতিথিকেই আপ্যায়নের সুযোগ পাই। তারপরও তিনি এবারই প্রথম আমাদের এখানে এলেন।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×