somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই পড়া

১১ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বানান করে পড়তে শেখার পর থেকেই দৈনিক পত্রিকা পড়া শুরু করেছিলাম। তখন পড়তাম পূর্বদেশ। এরপর ইত্তেফাক। ইত্তেফাক পড়তে যেয়ে নতুন আরেকটা অভ্যাস তৈরী হলো। আর সেটা হলো বিজ্ঞাপন পড়া। কিছু বুঝি আর না বুঝি, সবই পড়া চাই। সেই চর্চাটা অবশ্য এখনও বজায় আছে। প্রথম আলোর বিজ্ঞাপনের চেয়ে অবশ্য ইদানিং আমার দেশ পত্রিকার বিজ্ঞাপন পড়ে বেশী আনন্দ পাই বিশেষ করে পাত্র-পাত্রী চাই আর আবশ্যক বিজ্ঞাপনগুলি মারাত্মক। জোশ !!!

গল্পের বই ঠিক কবে থেকে পড়া শুরু করেছিলাম, ঠিক মনে নেই। তবে ঠাকুরমার ঝুলি আর অলিভার টুইষ্টের কথা এখনও বেশ মনে আছে। আজকের এই লেখা বই পড়া নিয়ে মজার কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে।

পড়ি তখন ক্লাস ফাইভে। হাতের কাছে যাই পাই তাই পড়ি। আম্মার তখন কিছু পেপারব্যাক বই এর কালেকশন ছিল। এই যেমন শরৎচন্দ্র, আশুতোষ ইত্যাদি লেখকের। এরমধ্যে বেশ কিছু ছিল গোয়েন্দা গল্প, সেই কিরিটি রায়ের কাহিনী। আমি পড়তে নিলে আম্মা কিছু বলে না। এরমধ্যে হাতে এলো মাসুদ রানা। বইটা খূব সম্ভবত ধ্বংস পাহাড়। মাসুদ রানা ফিলিস্তিন যোদ্ধাদের নিয়ে গোপন মিশনে ইসরায়েল গেছে। বইটা অনেকখানি পড়ে ফেলেছি। দারুন উত্তেজনা। একটা জায়গায় পেলাম রানা বৈরুতের একটা হোটেল রুমে, তার সাথে ফায়জা। ফায়জার গায়ে শুধূ অন্তর্বাস। ঠিক এসময় আম্মা ছোঁ মেরে বইটা নিয়ে বললো এটা তোমার পড়ার বয়স হয়নি। পড়ার বয়স ? এটা কি ক্লাসের বই নাকি যে নতুন ক্লাসে উঠবো তারপর পড়বো। কিন্তু এখন কি করি। এমন একটা সময়ে বইটা নিয়ে নিল।

আমার অভ্যাস হলো কোন কিছু করতে মানা করলে আমি আগে সেই কাজটা করে বুঝতে চেষ্টা করি কেন মানা করেছিল। বলাবাহুল্য কাজগুলি করতে হতো গোপনে এবং মাঝে-মধ্যে সেগুলি বুমেরাং হয়ে যেতো। এরপর কি হতো সেটা আর বললাম না, সংগত কারণেই। যাই হোক, বইটা নিয়ে যাবার পর চিন্তা করছি কিভাবে সেটা আবার হস্তগত করা যায়। পড়তেই হবে। বয়সের খ্যাতা পূরি। কিন্তু বই কোথায় !!! আমি তন্ন তন্ন করে খূজেও বইটা পেলাম না। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খূজলাম। কিন্তু নাই তো নাই। হঠাৎ একদিন দেখি আম্মা বইটা পড়ছে। আমি দেখলাম এই চান্স। আমি একটু পর পর মাষ্টার বেডে উকি দেই। দেখি পড়ছে আবার ফিরে আসি পা টিপে টিপে। আবার যাই। আবার ফিরি। কতক্ষণ পর দেখি আম্মা ঘুমিয়ে পড়েছে। পা টিপে টিপে গিয়ে দেখি বইটা আম্মার মাথার কাছেই আছে। এখন নেয়া যাবে না। তাহলে আমাকেই সন্দেহ করতে পারে। আম্মার ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষায় থাকলাম। একসময় টের পেলাম আম্মা উঠে বাথরুমে গেছে। আমি এক দৌড়ে গিয়ে দেখি বইটা নাই, কিন্তু বিছানার একটা অংশ একটু উচু হয়ে আছে মনে হলো। তোষোকটা উচু করতেই ... । কি বোকা আমি। এতো এতো জায়গা খূজেছি তোষোকের নিচটা খূজে দেখার কথা মনেও আসেনি। দেখলাম এটার সাথে মাসুদ রানার আরো কয়েকটা আছে। তবে এখন নেয়া যাবে না। চান্স মতো, যাতে সন্দেহ করতে না পারে।

দু'দিন পর স্কুল থেকে ফিরেছি। গোসল করে বের হয়ে দেখি আম্মা রান্নাঘরে। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে বইটা নিয়ে এলাম। এরপর একটা বই আর বড় একটা খাতার মাঝখানে রেখে বইটা পড়া শুরু করলাম। আম্মা খেতে ডাকতে এসে হাতে বই দেখে জিজ্ঞাসা করলো কি ব্যাপার। আমি বললাম কাল একটা ক্লাস টেষ্ট আছে। ব্যস।

এক সময় বইটা শেষ হলো। আমি তখন ঘামছি। একে তো চুরি করে বই পড়া, তার উপর অবোধ্য অন্যরকম কিছুর স্বাদ। রাত্রে ফায়জাকে স্বপ্নে দেখলাম। শুধূ ব্রা পড়া।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাষ্টার বেডে গেলাম। আম্মা রান্না ঘরে। আব্বা বাথরুমে। আমি বইটা হাফপ্যান্টের মধ্যে গুজে নিয়ে এসেছিলাম। ত্রস্তে সেটা যথাস্থানে রেখে দিলাম।

এইভাবে আরো প্রায় গোটা তিনেক মাসুদ রানা শেষ করেছিলাম। এরপর অবশ্য ক্লাস সেভেন বা এইট থেকে নিয়মিত মাসুদ রানা পড়ি। সবার সামনেই।

ক্রমশ ...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×