somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেঁড়া পাতা (৫)

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা চার
শাহেদ আর নাতাশা। দীর্ঘ দিনের প্রেম ওদের, প্রায় ৮ বছর। শাহেদ এর পরিবার খূব একটা রাজি ছিল না (কারণ অজ্ঞাত), তবুও শাহেদ একদিন সবার মতামত উপেক্ষা করে নাতাশাকে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসলো। বিয়ে যখন করেই ফেলেছে, তার উপর বাড়ীর ছোট ছেলে - বলা যায় মেনেই নিল সবাই বিয়েটা। শুরু হলো শাহেদ-নাতাশার একসাথে পথ চলা।

দিন যায়, মাস যায়। এভাবে একদিন বছরও গেল। সূখে-দূঃখে কেটে গেল কয়েকটি বছর। এরমধ্যে তাদের কোন সন্তানাদি হয় নাই। শাহেদের একসময় মনে হলো নাতাশা তার সাথে প্রতারণা করছে। দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ খূব খারাপ জিনিস। একবার মনের মধ্যে ঢুকলে প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সব শান্তি নষ্ট। শাহেদের একই অবস্থা। একসময় প্রমাণ মিললো, নাতাশা দ্বিচারিণী। আর তার সঙ্গী শাহেদেরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

শাহেদ মূখোমূখি হলো নাতাশার। বললো এভাবে জীবন-যাপন সম্ভব নয়। নাতাশাও মেনে নিল। ভেঙ্গে গেল ১০ বছরের বিবাহিত জীবন। ৮+১০=১৮ বছরের সম্পর্কটা হারিয়ে গেল এক নিমেষেই।

[শাহেদের কাছ থেকেই শোনা কাহিনীটা। তাই ডিটেইলস কখনই জানা হয়নি। নাতাশা কেন এতোটা বেপরোয়া হয়ে উঠলো ? জানা নেই। একেতো সবার অমতে বিয়ে করা, তারপর বাচ্চাকাচ্চা নেই। আমাদের দেশে যা হয়। বাচ্চা না হওয়ার দায়টা বর্তায় বউদের উপরই। হয়তো সে কারণেই একটা বাচ্চার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল নাতাশা। আর আমাদের সমাজে শাহেদের সেই বন্ধুদের সংখ্যাও কিন্তু কম না, যারা পরম হিতৈষী সেজে মেয়েদের চরম সর্বনাশটা করে থাকে।]

ঘটনা পাঁচ
রিয়াজ আর পূর্নিমা। স্বামী-স্ত্রী'র ছোট্ট সংসার। বছর সাতেক বিয়ে হলেও তাদের সংসারে আসেনি কোন নতুন অতিথি। এ নিয়ে রিয়াজের মা মাঝে-মধ্যে অবশ্য হা-হুতাশ করেন এবং সেটা প্রকাশ্যেই। ছোট ছেলের বাড়ীতে বেড়াতে এলেই যেন সেটা বেড়ে যায়। কখনও কখনও বউমাকে শুনিয়েই ছেলেকে বলেন আরেকটা বিয়ে করতে। ছেলে অবশ্য মাকে হেসেই বলেন - না হলে কি করবো বলো। বাচ্চাকাচ্চা হলে হবে না হলে নাই। মা ছেলের কথা শুনে নিজের মনেই গজগজ করেন।

এতোসব দেখেশুনে একদিন প্রতিবেশী এক মহিলা দু'জনকে নিয়ে গেলেন এক প্রখ্যাত গাইনোকলজিষ্টের কাছে। নানারকম পরীক্ষা হলো। রিপোর্ট নিয়ে আসতে বললেন সপ্তাহখানেক পর। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানালেন পূর্নিমার কোন সমস্যা নেই। সমস্যা আছে রিয়াজের।

এরপর ? এরপর অবশ্য তারা সূখ-দূখে একসাথেই কাটাতে থাকলেন। শ্বাশুড়ী আর আগের মতো করে বলেন না। কেবল নিরবে চোখের পানি ফেলেন।

[রিয়াজ-পূর্নিমার সাথে আমার কোন আলাপ ছিল না, শুধূ চেহারায় চিনতাম। তার এক প্রতিবেশী ছিল আমার পরিচিত। আর তার কাছ থেকেই শোনা। আমার খূব জানতে ইচ্ছা করে সবকিছু জানার পরও পূর্নিমা কেন রিয়াজকে ছেড়ে চলে গেল না। হয়তো ভেবেছিলো রিয়াজকে ছেড়ে অন্য সংসারে গেলে হয়তো বাচ্চা একটা পাবে, কিন্তু রিয়াজের মতো স্বামী কি পাবে। ]
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×