ঘটনা চার
শাহেদ আর নাতাশা। দীর্ঘ দিনের প্রেম ওদের, প্রায় ৮ বছর। শাহেদ এর পরিবার খূব একটা রাজি ছিল না (কারণ অজ্ঞাত), তবুও শাহেদ একদিন সবার মতামত উপেক্ষা করে নাতাশাকে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসলো। বিয়ে যখন করেই ফেলেছে, তার উপর বাড়ীর ছোট ছেলে - বলা যায় মেনেই নিল সবাই বিয়েটা। শুরু হলো শাহেদ-নাতাশার একসাথে পথ চলা।
দিন যায়, মাস যায়। এভাবে একদিন বছরও গেল। সূখে-দূঃখে কেটে গেল কয়েকটি বছর। এরমধ্যে তাদের কোন সন্তানাদি হয় নাই। শাহেদের একসময় মনে হলো নাতাশা তার সাথে প্রতারণা করছে। দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ খূব খারাপ জিনিস। একবার মনের মধ্যে ঢুকলে প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সব শান্তি নষ্ট। শাহেদের একই অবস্থা। একসময় প্রমাণ মিললো, নাতাশা দ্বিচারিণী। আর তার সঙ্গী শাহেদেরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
শাহেদ মূখোমূখি হলো নাতাশার। বললো এভাবে জীবন-যাপন সম্ভব নয়। নাতাশাও মেনে নিল। ভেঙ্গে গেল ১০ বছরের বিবাহিত জীবন। ৮+১০=১৮ বছরের সম্পর্কটা হারিয়ে গেল এক নিমেষেই।
[শাহেদের কাছ থেকেই শোনা কাহিনীটা। তাই ডিটেইলস কখনই জানা হয়নি। নাতাশা কেন এতোটা বেপরোয়া হয়ে উঠলো ? জানা নেই। একেতো সবার অমতে বিয়ে করা, তারপর বাচ্চাকাচ্চা নেই। আমাদের দেশে যা হয়। বাচ্চা না হওয়ার দায়টা বর্তায় বউদের উপরই। হয়তো সে কারণেই একটা বাচ্চার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল নাতাশা। আর আমাদের সমাজে শাহেদের সেই বন্ধুদের সংখ্যাও কিন্তু কম না, যারা পরম হিতৈষী সেজে মেয়েদের চরম সর্বনাশটা করে থাকে।]
ঘটনা পাঁচ
রিয়াজ আর পূর্নিমা। স্বামী-স্ত্রী'র ছোট্ট সংসার। বছর সাতেক বিয়ে হলেও তাদের সংসারে আসেনি কোন নতুন অতিথি। এ নিয়ে রিয়াজের মা মাঝে-মধ্যে অবশ্য হা-হুতাশ করেন এবং সেটা প্রকাশ্যেই। ছোট ছেলের বাড়ীতে বেড়াতে এলেই যেন সেটা বেড়ে যায়। কখনও কখনও বউমাকে শুনিয়েই ছেলেকে বলেন আরেকটা বিয়ে করতে। ছেলে অবশ্য মাকে হেসেই বলেন - না হলে কি করবো বলো। বাচ্চাকাচ্চা হলে হবে না হলে নাই। মা ছেলের কথা শুনে নিজের মনেই গজগজ করেন।
এতোসব দেখেশুনে একদিন প্রতিবেশী এক মহিলা দু'জনকে নিয়ে গেলেন এক প্রখ্যাত গাইনোকলজিষ্টের কাছে। নানারকম পরীক্ষা হলো। রিপোর্ট নিয়ে আসতে বললেন সপ্তাহখানেক পর। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানালেন পূর্নিমার কোন সমস্যা নেই। সমস্যা আছে রিয়াজের।
এরপর ? এরপর অবশ্য তারা সূখ-দূখে একসাথেই কাটাতে থাকলেন। শ্বাশুড়ী আর আগের মতো করে বলেন না। কেবল নিরবে চোখের পানি ফেলেন।
[রিয়াজ-পূর্নিমার সাথে আমার কোন আলাপ ছিল না, শুধূ চেহারায় চিনতাম। তার এক প্রতিবেশী ছিল আমার পরিচিত। আর তার কাছ থেকেই শোনা। আমার খূব জানতে ইচ্ছা করে সবকিছু জানার পরও পূর্নিমা কেন রিয়াজকে ছেড়ে চলে গেল না। হয়তো ভেবেছিলো রিয়াজকে ছেড়ে অন্য সংসারে গেলে হয়তো বাচ্চা একটা পাবে, কিন্তু রিয়াজের মতো স্বামী কি পাবে। ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


