somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আজ

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, রাজাকার এবং তস্য রাজাকারদের মূখে ছাই দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বহু কাংখিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। আজ সকালে প্রথম আলোর প্রথম পাতাটা দেখেই মনটা খূশী হয়ে উঠলো। আসুন ভাল খবরটা সবাই মিলে পড়ি।
===========================================
যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আজ
প্রথম আলো ৮ই নভেম্বর, ২০০৯ ইং।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি আজ রোববার শুরু হচ্ছে। আজই নির্ধারণ হবে ট্রাইব্যুনালের জায়গা, তদন্ত কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশনের দপ্তর। আবদুল গণি সড়কের বর্তমান প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়কে ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল’ ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। আর প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল দপ্তর হচ্ছে কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, তিন প্রতিমন্ত্রী আজ রোববার ট্রাইব্যুনালের দপ্তর পরিদর্শনে যাবেন। তাঁরা হলেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান।
আইনমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থানান্তরে পূর্ত মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছে। তদন্ত কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নাম) চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাসহ কিছু কারণে এখনই নাম প্রকাশ করা হবে না। মন্ত্রী আশা করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের রায় কার্যকর হলেই যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার-প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
আইনমন্ত্রী জানান, শিগগিরই তদন্ত কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করে তদন্তকাজ শুরু হয়ে যাবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করবে সরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের দায়ের করা মামলা সরকার বিবেচনায় নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে বড়মাপের সর্বোচ্চ ২০ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে একসঙ্গে সব ধরনের যুদ্ধাপরাধের বিচারে হাত দেবে না সরকার।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম এর আগে একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধের সময় সরাসরি খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন—এমন ২০ জনের মতো অপরাধীর বিচার দিয়ে শুরু হবে।
সরকারের প্রতিশ্রুতি: আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও নির্বাচনের আগে থেকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ’৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও মহাজোটের শরিক বাম দলগুলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিল।
সরকারের প্রস্তুতি: গত ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতিসভা করে। মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজে সম্পৃক্ত হয়।
যাঁদের বিচার হবে: জানা যায়, সরকার ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সরাসরি যেসব ব্যক্তি খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় জড়িত, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার হবে। পাশাপাশি যাঁরা এসব কাজের পরিকল্পনাকারী ও মদদদানকারী, তাঁদেরও বিচার হবে। পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্টে ১৯৭১ সালে যাঁদের অক্সিলিয়ারি ফোর্স (সহযোগী শক্তি) হিসেবে ঘোষণা দেওয়া আছে, তাঁদের মধ্য থেকে যাঁরা ওই সব কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে।
পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্টে আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী শক্তি হিসেবে ঘোষণা করা আছে। জানা গেছে, রুয়ান্ডার যুদ্ধাপরাধীদের যে প্রক্রিয়ায় বিচার হয়েছে, বাংলাদেশেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহায়তা দেবে আইসিটিজে: ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রানজিশনাল জাস্টিস (আইসিটিজে) বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা দেবে। সংস্থাটি গত জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে।
সংগঠনের এশিয়া শাখার প্রধান প্যাট্রিক বার্গিজ বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এ সহায়তার আশ্বাস দেন।
কম্বোডিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং এর বিচার-প্রক্রিয়ায় এ সংগঠনটি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ যেকোনো ক্ষেত্র থেকে কারিগরি সহায়তা নেবে।

লিংক Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×