আব্বা এরপর আমাকে নিয়ে বের হন স্বাধীন আর মুক্ত ঢাকা শহর দেখতে। বুয়েট কোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে আমরা মেডিকেল কলেজ আর শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে হেটে সামনের দিকে যাচ্ছি। শহীদ মিনারের বেদী ছাড়া আর কিছুই ছিল না তখন। স্তম্ভগুলোর কয়েকটা অংশ এদিক সেদিক পড়ে আছে। আব্বা বললো পাকিস্থানিরা গোলা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে।
রাস্তায় লোকজন আস্তে আস্তে বাড়ছিলো আর সৈন্য ভর্তি জিপ দেখা যাচ্ছিলো। আব্বা বলছিলো ওরা এসেছে ইন্ডিয়া থেকে। আমরা হাটতে হাটতে চলে এসেছিলাম শাহবাগ মোড় পর্যন্ত। রেসকোর্স ময়দানের কথা এখন আর মনে করতে পারছি না তেমন করে। তবে শাহবাগে প্রচুর লোকজন ছিল আর মাঝে মধ্যে কেউ একজন "জয় বাংলা" বলে শ্লোগান তুললেই সবাই মিলে তার সাথে গলা মেলাচ্ছিল। ইন্ডিয়ান আর্মিদের জিপ আর পিক আপ দেখা যাচ্ছিলো প্রচুর। স্বতস্ফূর্ত জনগন তাদের সাথে হাত মেলাচ্ছিল আর কথা বলছিলো। আর্ট কলেজের সামনে এরকমই একটা পিকআপে বসা সৈনিকদের সাথে আব্বা কথা বলেছিলেন। আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কোন ভাষা। উত্তরে আব্বা বলেছিলেন ওরা হিন্দিতে কথা বলছে আর আব্বা বলছে উর্দূ হিন্দি মিশিয়ে। তাদের কারো কারো সাথে হ্যান্ডশেক করেছিলাম। এখনও মনে আছে সবাই ওরা হাতে দস্তানা পড়া ছিল। তবে আমার আকর্ষণ ছিল ওদের বন্দুকগুলো।
আবারও একই পথে বাসায় ফিরছিলাম। এবার শহীদ মিনারের সামনে ছিল একটা জটলা। কাছে যেতেই দেখি কেউ একজন পড়ে আছে মাটিতে, একদম শোয়া। কেউ একজন গায়ে হাত দিয়ে বললো মরে গেছে আগেই। গায়ে শুধূ আন্ডারওয়্যার। পেটে লম্বা করে একটা কাটার দাগ আর শহীদ মিনারের বেদীর সামনে একজায়গায় বেশ কিছুটা তাজা রক্ত। লোকজন বলাবলি করছিলো লোকটা মনে হয় পাকি। হয়তো পালানোর সময় কেউ মেরে ফেলেছে।
এরপর বাসায় ফেরা আর ঘুমানোর আগে পর্যন্ত কি কি দেখলাম সবাইকে ধরে ধরে সেটা শোনানো।
(অমি রহমান পিয়ালের লেখা ১৬ ডিসেম্বর ‘৭১- একটি অন্যরকম গল্প পোষ্টটিতে এটা কমেন্ট হিসেবে ছিল। আজ বিজয়ের দিনে সেটাই স্মরণ করলাম।)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



