তার সাথে আমার খুব একটা অমিল নেই।সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিভাগে পড়ে আমিও সেই বিভাগে পড়ি।সে যে হলে থাকে আমিও সেই হলে থাকি। সবচেয়ে বড় কথা আমরা একই রুমের বাসিন্দা। এত কিছুর পরেও তার সাথে আমার পারিপার্শ্বিক কিছু অমিল রয়েছে। যেগুলো কোন সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা সম্ভব কিনা আমার জানা নেই। তার এই অতি অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো আপনাদের সামনে মেলে ধরার জন্যই আমার এই সামান্য প্রয়াস।
তার নাম যাই হোক,আমরা সবাই তাকে ট্যানারি নামেই চিনি।
১.প্রথমেই বলতে হয় তার বিছানার চাদরের কথা। সে যখন পৃথিবীতে পদার্পণ করলো তখন তার মামা তার অতি আদরের ভাগ্নেকে একটি বিছানার চাদর উপহার দিয়েছিলো।এর কিছুদিন পরেই তার সেই মামা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলো। সেই ভালোবাসার নিদর্শন আজও ট্যানারি বয়ে চলছে। সেই বিছানার চাদর থেকে মামার হাতের স্পর্শ মুছে যাবে বলে সে চাদর কখনও ধোয় না।
২.তারপরেই বলতে হয় তার আদি ও অকৃত্রিম কম্বলের কথা। তার পরদাদার কোন বন্ধু সিরাজউদ্দৌলার দেহরক্ষী ছিল।পলাশীর প্রান্তরে সিরাজউদ্দৌলা যখন ইংরেজদের হাতে নাস্তানাবুদ তখনও সেই দেহরক্ষী পাহারায় ব্যস্ত। তখন নবাব হাতের কাছে কিছু না পেয়ে তাকে একটি কম্বল উপহার দিলো। যখন সেই দেহরক্ষী মারা যায় তখন ট্যানারির পরদাদাকে কম্বলটি দিয়ে বলেছিল, "যত্ন নিয়ো " সেই যত্ন আজও ট্যানারি নিয়ে যাচ্ছে। এবং অতি অবশ্যই ধোঁয়া ছাড়া।
৩.এখন যেটা না বললেই নয় সেটা হচ্ছে তার কাপড় চোপড়। সে তার শার্ট প্যান্ট কখনোই ধোয় না, বরং তা রোদে রিসাইকেল করে। একটি প্যান্ট তার একটানা ১২৬ দিন পরার রেকর্ড আছে। যা গিনেস বুকের পরবর্তী সংখ্যায় স্থান পাওয়ার জোর দাবিদার। একদিন সে তার একটি প্যান্ট রোদে রিসাইকেল করছিলো তখন একটি বেরসিক কাক তার রস্মিস্রিত বজ্রসমূহ তার প্যান্টে উদ্গিরন করলো। হায়রে কাক! সেও চিনল ট্যানারিকে!
৪. সামনে আমাদের ডেমোগ্রাফি পরীক্ষা। আমাদের বয়সটাই এমন যে লিভ টুগেদার,বিবাহ,ডিভোর্স এগুলো শুনলে শরীরে একটু কাপন অনুভব করি আর ডেমোগ্রাফি এমনি একটি সাবজেক্ট যা পড়তে গেলে শরীরে জ্বর আসে। তো পড়াশুনা বাদ দিয়ে ট্যানারিকে নিয়ে চিন্তা করছিলাম। আমাদের পরীক্ষা সাতদিন পরপর। তো ট্যানারি তার গুরুদায়িত্ব মনে করে সাতদিন পর পর গোছল করে।চিন্তা করছিলাম ট্যানারির যদি বিয়ে হয় আর ছেলেমেয়ে হয় তাহলে কি হবে। বউয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম,সেইটা একটু ১৮+ এর দিকে চলে যায়। কিন্তু ট্যানারির ছেলে ট্যানারি জুনিয়র পিএসসির সময় একবার,জেএসসির সময় একবার,এসএসসি, এইচ এস সি,অনার্স ফাইনাল, মাস্টার্স ফাইনালের সময় একবার করে গোছল করবে।
আজ থাক, হলগেট থেকে ট্যানারির জুতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রুম থেকে এখন পালাতে হবে। টা টা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



