ট্যানারির বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সবারই কিছুটা ধারণা হইছেরম্য পোস্ট : ঢাবির হলের কিছু অদ্ভুতুরে মানুষ (পর্ব ১)
।সে এমনই একটা মাল যে এগুলো সম্পর্কে তার কোনও ভাবান্তরই নাই।সে দিব্যি তার মতই আছে।সে তার এই প্রশংসায় খুশি না বেজাড় তা আমি কিছুতেই উদ্ধার করতে পারলাম না। আমাদের মেজর পরীক্ষাগুলো শেষ। মাইনরের আগে বিশ দিন বন্ধ। তো তেরো দিন হইল ট্যানারি গোসল করে না।আমি সিওর আর সাত দিন পর ট্যানারি ঠিকই তার সেই মহামূল্যবান গোসল তার করবে। তো ট্যানারির চরিত্র যাই হোক আজকে আমি ট্যানারির কিছু ঘটনা শেয়ার করবো।
ঘটনা ১ ; তো একদিন ট্যানারি টাকা শেষ। সে আমাকে বললো, দোস্ত চল একটু ভাইয়ের অফিসে যাবো টাকা আনতে। যেই কথা সেই কাজ। ট্যানারির ভাইকে দেখে তো আমি আকাশ থেকে পরলাম। কোথায় ট্যানারি কোথায় ট্যানারির ভাই। কি মার্জিত লোক, কি মার্জিত ব্যবহার। ভাইয়ার সাথে দুজনে টুকটাক আলাপ সেরে সেদিনের মতো এসে পরলাম। মাসখানেক পরের ঘটনা। ট্যানারি বাইরে, আর আমি রুমে। আমাকে হঠাৎ ফোনে মেসেজ পাঠাল যে ও আর ওর ভাইয়া একসাথে আছে। ভাইয়াকে নিয়া রুমে আসবে। ওর ড্রয়ারে নাকি সিগারেটের প্যাকেট ভর্তি, ওগুলো সরাতে হবে। তো ট্যানারির সেই বিখ্যাত চাদর টা সরিয়ে খাটের নিচে রাখলাম। সিগারেটের প্যাকেট সরিয়ে যতটুকু ভদ্রস্থ করা সম্ভব তাই করলাম। অনেক রাত হয়ে গেল তাদের কোনও দেখা নাই। কিছুক্ষন পর ট্যানারি এসে জানালো যে ভাইয়া আসবেনা। সে দেখি বিছানার নিচ থেকে চাদর টা বের করে বিছিয়ে ফেললো। হায়রে ট্যানারি মানুষ হইলি না। ট্যানারির ভাই এই বিশ্ববিখ্যাত রুমে আসে নাই সেই সুবাদে ওই দিন রাতে রুমে সেইরকম মাস্তি চলল। রুমমেটরা সবাই মিলে একটা আস্ত টাকিলার বোতল সাবার করে দিলাম। পরের দিন দুপুর ২ টা। ট্যানারি ঘুমে ব্যস্ত। আমি উঠে ব্রাশ করতে গেলাম। রুমের এক বড় ভাই ফোনালাপে ব্যস্ত। রুমে এসে দেখি ট্যানারির ভাই রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আমি তো পুরাই টাস্কি। সালাম দিলাম কোনও উত্তর নাই। রুমের বড় ভাইরা তো আর ট্যানারির ভাইকে চিনেনা। আমি রুমের বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ওই লোক কি বলল। ভাই বলল, ট্যানারির বেড কোনটা জানতে চাইছিল। তো সে দেখিয়ে দিয়েছে বেড কোনটা, টেবিল কোনটা। ট্যানারির টেবিলের উপর গতরাতের সাবাড় করা টাকিলার বোতল, সিগারেটের প্যাকেট ভর্তি, আর সেই বিখ্যাত ঘুমন্ত ট্যানারি। এই সব দেখেই ভাইয়া রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেছে। এখন কি হবে ট্যানারির। হায়রে টান টিওন।
ঘটনা ২; ভাইয়াকে সেদিন ট্যানারি কিভাবে ম্যানেজ করেছিলো তা জানিনা তবে ওর উপর দিয়ে যে ছোটোখাটো একটা ঝড় বয়ে গেছে তা বুঝতে পারছিলাম। মাস দুই পরে চার- পাঁচ জন বন্ধু মিলে গেছি সাকুরায়। ভদকা খেয়ে বের হইছি। আমরা তাও মোটামুটি ঠিক আছি ট্যানারির অবস্থা পুরাই কাহিল। সোনারগাঁয়ের সামনে এসেই দেখি ট্যানারির বড় ভাই। ভাইয়া তো ট্যানারিকে দেখে হতবাক। ভাইকে দেখেই ট্যানারি চিল্লানো শুরু করলো, "ওই রফিক মোল্লা ক্যামন আছিস।তুই আমারে মাতাল কইছিস কোন সাহসে। তোর কত্ত বড় সাহস। ওই আমি মদ খাই, তুই খাস মদ। তোর চৌদ্দ......... "। আমরা তিনজন শত চেষ্টা করেও ট্যানারিকে আটকাইতে পারতেছি না। তো ট্যানারির ভাই এসে ওর কান ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর ট্যানারি সেই বাংলা সিনেমার ডায়লগ আওড়াচ্ছে, "আমাকে বাঁচাও , আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাও" আশেপাশের লোকজন তো সেইইইই মজা নিচ্ছে। ট্যানারিকে নিয়ে ভাইয়া বাসায় চলে গেলো। তিন দিন পর ট্যানারি এসে সেদিন কি হইছে জানতে চাইলো। কি কমু আমি ওরে কন আপনারে।
ও হো বলতে ভুলে গেছিলাম ট্যানারির ভাইর নাম রফিক আর ওরা মোল্লা বংশ।
ঘটনা ৩; জুন মাস পুরাটাই বন্ধ। তো ট্যানারি দশ দিনের জন্য বাড়ি গেলো। আমার টিউশনির জন্য যেতে পারলাম না। দুই দিন পর ট্যানারি হলে হাজির। আমি তো অবাক। তো কাহিনী হইল কি। একদিন ট্যানারি নাকি হালকা ফাণ্টু খাইয়া বাসায় গেছে। তো আন্টি গন্ধ টের পাইছে। ও যতই কথা ঘুরায় যে ও নাকি স্পীড খাইছে। আন্টি বিস্বাসই করেনা। ভাইয়াও হাজির। একটু পর ট্যানারির চাচাও হাজির। ট্যানারি ভাইয়ার ভয়ে স্যান্ডেল রেখেই দৌড়। একদৌড়ে জামালপুর থেকে ঢাকা......। হায়রে ট্যানারির যে কি হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



