আমার প্রিয় পোস্ট

অর্ণব (সত্য কাহিনী অবলম্বনে)

১২ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

অর্ণব, কুমিল্লার ছেলে। পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পেয়ে ভর্তি হয় চট্রগ্রাম ডেন্টাল কলেজে। বাবা মার আদরের ছেলে, কখনো তাদের ছারা থাকে নাই। তাই হোস্টেলে যাবার দিন সে কেদে কেটে বুক ভাসিয়েছে। ছেলে চলে যাবার পর মা বাবারও মন খুব খারাপ। বাসাটা খুব নিরব লাগে। ছেলেটা ঠিম মতো খাচ্ছে কি না, কোন প্রব্লেম হচ্ছে কিনা, নতুন বন্ধুরা তার সাথে কিরকম ব্যবহার করছে, ভেবে ভেবে তাদের দিন কাটে। অন্য দিকে অর্ণব আস্তে আস্তে হোস্টেলের পরিবেশের সাথে নিযেকে মানিয়ে নেবার চেস্টা করে। এইতো গতকাল রাতে ফোন করে বলে - মা আজ তেলেপিয়া মাছ দিয়ে ভাই খেয়েছি। অথচ সে তেলাপিয়া কেনো, কোনো মাছই খেতো না।

আম-কাঠালের সময়, অর্ণববের বাবা মার মুখ দিয়ে যেনো আম-কাঠাল ঢুকতেই চায় না। ছেলেটা হোস্টেলে কি খাচ্ছে না খাচ্ছে............সামান্য হাত খরচের টাকা দিয়েকি আর আম কাঠাল কেনা যায়? অর্ণববের মা তাই নিয়েই আম-কাঠাল কিনে ছেলের হোস্টেলে এসে উপস্হিত হলেন। ছেলের খুশি ধরেনা। অর্ণববের অন্যান্য বন্ধুরাও তাকে চাচি-চাচি বলে ঘিরে ধরে। তিনি নিজ হাতে তাদের ফল কেটে দেন। কুমিল্লা থেকে রসমালাই কিনে নিয়ে গেছিলেন, সেটা বিতরনের সময় বিপত্তি দেখা দেয়। ছেলেদের কারও নিজেস্ব থালা বাটি নাই। তাই বইওমের মুখ, পলিথিন ইত্যাদির সাহায্যে তিনি রসমালাই বিতরন করেন। ছেলেদের আনন্দ দেখে তার চোখে জল আসে। সেই আনন্দ অশ্রু মুছতে মুছতে তিনি ফিরতি ট্রেনে কুমিল্লার উদ্যেশ্যে রওন দেন। ঘুর্ণাক্ষরেও তিনি ভাবতে পারেন নাই, তাকে আবার কাদতে হবে, দুঃখের কান্না।

তিনি রওনা দেবার কিছুক্ষ ন পরেই মেডিকেল কলেজে বিএনপি ও জামাত কর্মিদের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়। বহিরাগত ২ ক্যাডার অর্ণবদের হোস্টেলে ঢুকে পরে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে এবং না পেয়ে যথারিতি অর্ণব সহ আরও কিছু সাধারন ছাত্রের উপর ঝাপিয়ে পরে। পুলিশের লাঠির আঘাতে অর্ণবের পিঠ রক্তাক্ত হয়। মাথা বাচাতে গিয়ে সে হাত দিয়ে পুলিশের লাঠির বারি ঠেকেতে চায়। এতে তার হাতের ৩টা আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। হাত ও পায়ে প্লাস্টার নিয়ে সে কুমিল্লায় আসে। ভেজা চোখে তার এখন একটাই প্রশ্ন, কেনো তারা তাকে মারলো? সে তো কোনো দোষ করেনি?

 

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ১১৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০৩
comment by: রাজপথ_থেকে_বলছি বলেছেন: কিছু বলার নাই! এর নাম বাংলাদেশ পুলিশ।
২. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
comment by: মীতু বলেছেন: আমি নির্বাক ।
১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: অর্ণব আমার আপন ছোট কাজিন, আমার মনের অবস্হাটা একবার চিন্তা করুন। আর ঘটন গত পরশুর, টিভি বা সংবাদ পত্রে নিশ্চই পরেছেন।

৩. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৬
comment by: আশিকুর রহমান বলেছেন: চাচা মিঞা, আমরা সাধারনরা সবসময় মাইর খাইয়াই যাই। আর অসাধারনরা থাকে আড়ালে। তার আমাগো মাইর খাওয়ারে পূজি করে। ছাগল পুলিশগুলা ছাত্র পিটানোর সময় ভাবে না তাদের সন্তানগুলাওতো একসময় ভার্সিটি পড়বে।
১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে সহমত।

৪. ১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০২
comment by: মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেছেন: পুলিশের আচরন কবে যে ঠিক হবে আমরা যে অপেক্ষায় থাকলাম।
১২ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: আমাদার দেশের পুলিশি আচরন কি আদৌ ঠিক হবে?

 



 


আমার পরিচয়, আমি মনে প্রানে একজন বাংলাদেশি। আমি আপনাদের মতো সুন্দর সুন্দর লেখা লিখতে পারমু না জানি। কারন এই ব্লগে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৬৫৬৬