আমার প্রিয় পোস্ট

কক্সবাজার থেকে ফিরে! (প্রথম দিন......)

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

আজকে ঠিক ইফতারের সময় এস, আলমের বাসটি আমাকে চিটাগাং নামিয়ে দিলো। গত ১৮ তারিখ থেকে ২১ তারিখ দুফুর ২টা পর্যন্ত কক্সবাজারেই ছিলাম........ওখান থেকেও নিয়মিত ব্লগিয়েছি। কিন্তু কোনো ছবি ব্লগে দিতে পারছিলাম না, কারন ক্যামেরার ডেটা ক্যাবল নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আজকে সকালে কক্সবাজারের স্হানীয় ছেলে (আমার বন্ধু) জাফর আমাকে ছবি গুলো ক্যামেরা থেকে নামাতে সাহায্য করে। জাফর সম্পর্কে ইতি মধ্যে ২/১ টা লেখা ব্লগেও ছাপা হয়েছে......তার সম্পর্কে আরএকদিন বলবো।

ঢাকা থেকে যেনে গেছি কক্সবাজারে আবহওয়া বিভাগ ৩ নম্বর সংকেত ঝুলিয়েছে, কিন্তু করার কিছুই ছিলোনা,বাসের টিকেট কাটা হয়ে গেছে, ২/১ জন গেস্টও আমার জন্য ওয়েট করছে....তাই আল্লাহর নাম নিয়ে রওনা দিলাম। ১৮ তারিখ সকাল ৮ টায় বাসটি যখন কলাতলী বীচের খুব কাছা কাছি চলে এলো, এতো দিনের পুরানো সমুদ্রটাকে আবার নতুনের মতই লাগছিলো......জোয়ারের সময় ছিলো.........বড় বড় ঢেউ গুলো হোটেল সী ক্রাউনের পাদদেশে আছরে পরছিলো...........তখনই ঠিক করি , এই জায়গা থেকে পরে একটা ছবি তুলতেই হবে।

বাসটা আমাদের সেন্টমার্টিন হোটেলে তাদের নিদ্দিস্ট কাউন্টারে নামিয়ে দিলো। আমিসহ মাত্র গোটা চারেক মানুষ আমরা বাসথেকে নাম লাম.....আর ১০/১৫ টা রিক্সা ওয়ালা ছেকে ধারলো........স্যার, চলেন ....কোন হোটেলে যাবেন? ৫০% ডিস্কাউন্ট চলতাসে.......আমি ওদেরকে ভালো ভাবে চিনি...........তাই চুপচাপ একটু পেছনের দিকে চলে গেলাম এবং একটা রিক্সা ওয়ালাকে বললাম, আমাকে হোটেল লাবনীতে নিয়ে যেতে। রিক্সাওয়ালা আমাকে নিয়ে চললো.......রিক্সা চালাতে চালাতে সে বলছিলো....."লাবনী হোটেল ভালো না......খাওয়া দাওয়া কস্ট পাবেন.....ব্লা..ব্লা...ব্লা.....। কক্সের রিক্সাওয়ালারা এমনই হয়, আপনি যেই হোটেলে যেতে চাইবেন, তাদের চোখে ঠিক সেই হোটেলটা ছারা আর দুনিয়ার সব হোটেল ভালো। কেউ আগে থেকে হোটেল বুকিং দিয়ে গেলে তারা খুবই অপছন্দ করে সেটা......কারন তাদের কমিশনটা মিস হয়.......।

লাবলীতে রেজিস্টারী খাতায় নাম তুলে আমি ২১১ নাম্বার রুমের চাবিটা বুঝে নিলাম........নন এসি, আফ সিজেনে মাত্র ৪০০ টাকা নিলো (লাইট হাউজ রোডে থাকলে ২০০ টাকায় এই রুম পাওয়া যেতো, যদিও ঈদের পরে এই রুমের রেট ১২০০ টাকা) রুমের বারান্দা থেকে আবহাওয়া অফিস আর লাইট হাউজটাকে বেশ ভালো দেখা যাচ্ছিলো......তার উপরে গত রাতে শেষ হয়ে যাওয়া বৃষ্টিধোঁয়া প্রকৃতিকে দেখাচ্ছিলো ছবির মতোই সুন্দর.......।

কোনোমতে আমার ব্যাগটা বিছানায় রেখেই ছুটে যাই বীচে......প্রতিবারই এটা কক্সবাজারে এসে আমার প্রথম কাজ.........হোটেলের গেইট হতে বের হয়েই দেখি কি চমৎকার শাপলা......এমন রোদেলা দিনে ঝানু কোনো ফটোগ্রাফারের হাতে পরলে ঐ শাপলাফুলের ছবিটাই অন্যরকমের হয়ে যেতো........

বীচে গিয়ে মনটা একটু ভার হয়ে গেলো........এতো কম মানুষ বীচে.......আগে কোনোদিন এমনটি দেখি নাই......বীচের পেতে রাখা চেয়ার গুলো কেমন ফাকাঁ পরে আছে..........টুরিস্ট নেই, তাই বীচটা অসম্ভব পরিশ্কার..........কিন্তু কুকুররে জিবনে যেনো নেমে এসেছে হাহাকার.........এই রোজার দিনে কে করাবে তাদের ব্রেক ফাস্ট? লান্চই বা কি খাবে.......
পানিতে বসে থেকে শরীরটাকে ঠান্ডা রাখাটাকেই সে সম্ভবত বুদ্ধীমানের কাজ বলে মনে করছে........

ঐ দিকে ডাবওয়ালা তার জীবনের তাগিদেই ডাব নিয়ে বের হয়েছে.....কোথাও কেউ নেই.............তার চোখে মুখে ক্লান্তি.....হয়তো ভাবছে......কবে রোজা শেষ হবে...........বীচ তার প্রান ফিরে পাবে।

হাটতে হাটতে চলে যাই লাবনী বীচের শেষ প্রান্তে, ওখানে জাফরের সার্ফিং ক্লাবের ২/৩ জন মেম্বার সার্ফিং এর জন্য বড় ঢেউএর অপেক্ষা করছিলো। আমাকে দেখে তারা খুব খুশী........
"কি ভাইয়া, কেমন আছেন? জাফর ভাইএর সাথে দেখা হয়েছে............।??

বীচটা ঘুরে ঘুরে ছবি তুলতে থাকি........আমি হলপ করে বলতে পারি.....বীচের ছবি তোলার জন্য এর চাইতে আদর্শ দিন আর হতে পারে না। যা দেখি, চমৎকার লাগে......মনে হয়......ইস....যদি প্রফেশনাল হাতেখরী থাকতো!
যদি আরো দামী ক্যামেরা থাকতো......ভেবে ভেবে একের পর এক সাটার চাপ তে থাকি....................

সমুদ্রর সাথে সাথে আকাশর ছবি তোলার সময় ছোট একটা প্লেন ফ্রেমের মাঝে ঢুকে পরে......আমি সিওর.....আর মাত্র ১৫ বছর পরে দিনে কমপক্ষে ২০ টা প্লেন প্রতিদিন উঠা নামা করবে।
বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষন করতে কক্সবাজার এয়ারপোর্টকেও আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ঘোষনা করার দাবী ঐ খানকার স্হানী জনগনের কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে হয়....আমাদের দেশের সরকার এই সম্পর্কে কি ভাবছে , কে জানে?
আস্তে আস্তে রোদের তাপ বাড়তে থাকে, ইতি মধ্যে ১০ টা বেজে গেছে.....অফিসে যেতে হবে। কক্সবাজারের ঝিলংজা নামক স্হানে আমাদের অফিসের নতুন ব্রান্চ ............ফোন করতেই ব্রান্চ ইন চার্জ বললেন.......রিক্সা ওয়ালাকে বলেন


"সাবমেরীন অফিসের আগে নামবেন... তার পরে কাজ আর কাজ..............
============================================
আরো পড়ুন:
Click This Link (এ কিসের আলামত!!)
Click This Link (কক্সবাজার ফ্যান্টাসী - ২০১৫)

============================================
(চলবে.........।)

 

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ১৫৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০০
comment by: ফিউশন ফাইভ বলেছেন: এইটা কোন্ জাফর? সাম্বাদিক নাকি?
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: সাম্বাদিক না।

২. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১
comment by: এরশাদ বাদশা বলেছেন: জব্বর চাচা মিঞা!!

তয় ছবিগুলার নিচে নিজের নামটা না লেইখা জায়গার নামগুলা তুইলা ধরলে আরো ভালো হৈতো। কি বলেন?.....

দেশীয় ভরমন কাহিনী কিন্তকু মন ভরায়া দিছে চাচামিঞা...
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: এগুলো প্রতিটাই কক্সবাজার বীচ থেকে তোলা....তাই জায়গার নাম লিখার প্রয়োজনবোধ করি নাই।
লেখাটা পরে আপনার যদি এতটুকুও ভালো লাগে, সেটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্য।
ভালো থাকবেন।

৩. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১২
comment by: আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: ছবিগুলো অসাধারণ লেগেছে......।
২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ব্লগের হো পেইজে যেতে পারছিনা। আপনাদের কি অবস্হা?

৪. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
comment by: নীল লাল সবুজ বলেছেন: পড়ছি আর ছবি মেলাচ্ছিলাম..মনে হচ্ছিল আমিও ওখানে!
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০

লেখক বলেছেন: ঐ সময় আমি প্রথম পাতা দেখতে পারছিলাম না। আপনারা কিভাবে পারলেন মাথায় ঢুকছে না।

৫. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২৯
comment by: সজল বলছি বলেছেন: Darun post dichen... amar kaje lagbe (montobbor ghore bangla lekha jassena... sorry)
ami kichu din age ekti post dichilam. seta pest korlam.... asa kori aponar help pabo... Thanks.

আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো
আমি শুনেছি সেদিন তুমি লোনাবালী তীর ধরে
বহুদুর বহুদুর হেটে এসেছো
আমি কখনো যাইনি জলে কখনো ভাসিনি নীলে
কখনো রাখিনি চোখ ডানামেলা গাঙচিলে.....

অনেক দিনের ইচ্ছে, সাগর দেখতে যাবো। সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে আসবো। কিন্তু বিভিন্ন কারনে সেই স্বপ্ন পুরণ আর হয়ে উঠেনি। তাই এবার নিজের সাথে নিজে বাজি ধরেছি, আমাকে নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে আসতে হবেই হবে। আমাকে যেতেই হবে... সাগর আমাকে ডাকছে।
ইচ্ছে আছে ঈদের পরদিন রওনা দেব। স্থান ককা্ররবাজার সেন্টর্মাটিন। টাকা-পয়সা আর সময় যদি থাকে তাহলে আরো কোথাও..... যারা এখনো ককা্রবাজার সেন্টর্মাটিন যেতে পারেননি তারাও আমার সঙ্গি হতে পারেন।

যাবো ঠিক আছে, কিন্তু সমস্যা হলো কোথায় থাকবো, কোথায় খাবো, খরচ কেমন হবে কিচ্ছু জানি না। অল্প খরচে কোথায় থাকা খাওয়া যায় কেউ বলতে পারেন? আপনারা যারা ককা্রবাজার সেন্টর্মাটিন ঘুরে এসেছেন তাদের কাছে টিপস চাই। একটু বিস্তারিত লিখে যদি জানান তাহলে এই অধমের অনেক উপকার হয়.... আরো উপকার হয় আরো কিছু র্দশনীয় স্থানের ব্যপারে যদি জানান... যে গুলোতে যাওয়া যেতে পারে।



২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০৬

লেখক বলেছেন: আপনার মতো সমুদ্র দেখার জেদ আমারও ছিলো............আপনার ভ্রমন আনন্দ ময় হোক।

ঈদের পরে মোটামুটি ৮ তারিখ পর্যন্ত হোটেল বুকিং শেষ, তবে আমার মনেহয় লাইট হাউজ এবং শহরের ভেতরের হোটেল গুলো এখনো খালি আছে। ০১৮১৪৮৩৩৪৪৮ (সুরত আলী ) নাম্বারটিতে ফোন করে দেখাতে পারেন.....।বেশি দেরি না হলে হয়তো তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।
আপনার যদি শহরের ভেতরে থাকতে অসুভিদা না থাকে তবে হোটেল প্যানোয়াতে ফোন করে দেখতে পারেন.......\ওদের হোটেল ট্যারীফ সারা বছরই সমান থাকে, মানে পীক।অফপীক নাই। এড্রেস:
Hotel Panowa
Al-haj Firoze Ahmed Chowdhury Road

Cox's Bazar , Bangladesh

Tel: (341) 63282

সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসতে পারলে আসলেই ভআলো লাগবে। এজন্য আপনি যদি প্যাগেজ টুরের আোতায় যেতে চান তাহলে কক্সবাজার লাবনী বীচের কাছে "হোটেল মিশুক" এ যোগাযোগ করতে পারেন। আর নিজ উদ্যগে যেতে চাইলে..........বাসে করে কক্সবাজার-টেকনাফ যাবেন, সেখানে কেয়ারী সিন্দাবাদ বা অন্য কোনো লন্ছের আপ/ডাউন টিকেট কেটে চলে যেতে পারেন সেন্টমার্টিন........ওখানে আমাদের ব্লগের টিংকু ভাইএর বীচ ভলিবল খেলার যায়গা আছে, দাখা করে আসবেন নিশ্চই। আর একটা কথা, আপনি ব্যক্তিগত উদ্যেগে গেলে ৩০-৪০% সেভিং পাবেন , তবুও প্যাকেজ ওয়ালাদের কাছ থেকে ওদের টাইমিংটা বুঝে নেবেন......বাস কয়টায় কেকনাফে পৌছে, লন্চ কখন ছারে ইত্যাদি আরকি........এতে আপনার নিজেস্ব টাইমিং এও সবিধা হবে...........।
বেস্ট আব লাক।

৬. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৭
comment by: প্রীটি সোনিয়া বলেছেন: ছবি গুলো দারুন....লেখাও ভাল লাগলো।
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৯
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: ছবি ও লেখা দুইটা ভালো লাগলো।
শুভেচ্ছা থাকলো
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৫
comment by: পারভেজ বলেছেন: অনেক কিসু মনে পইরা গেলো....:(
গত নভেম্বরে গেসিলাম........
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭

লেখক বলেছেন: হম......ওখানে বার বার যেতে মনে চায়।

৯. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০৭
comment by: সজল বলছি বলেছেন: কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব। আপনার পরামর্শ আমার অনেক কাজে লাগবে। আপনি যে মোবাইল নং দিয়েছেন তাতে আমি কালই ফোন করবো। ভাল থাকুন।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ........হ্যাব এ সেইফ জার্নি।

১০. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৭
comment by: তুষ।র বলেছেন: বেশ সুন্দর ছবি।
২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার প্রোফাই ছবি গেলো কৈ?

১১. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৬
comment by: রাজপথ_থেকে_বলছি বলেছেন: ki cmettkar dekha gelo.
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 



 


আমার পরিচয়, আমি মনে প্রানে একজন বাংলাদেশি। আমি আপনাদের মতো সুন্দর সুন্দর লেখা লিখতে পারমু না জানি। কারন এই ব্লগে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৬৫৬১