সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি ১ : কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'মে-দিনের কবিতা'
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:০২
সে এক সময় ছিল। শীতলক্ষ্যাপাড়ের শহর নারায়ণগঞ্জে প্রতি শুক্রবার সকালে 'ধাবমান'এর সাহিত্য আড্ডা বসত (এখনও বসে; আগের মতো জমে না)। প্রায়ই যেতাম। আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন রনজিত কুমার। আমাদের সবার প্রিয় 'রনজিতদা'। একসময় বামরাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই মানুষটি আড্ডার প্রতিটি সদস্যকে ছায়ার মতো আগলে রাখতেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চাকরিতে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর আগের মতো সময় দিতে পারেন না 'ধাবমান'এ। কর্মজীবনের ধাক্কায় আমরাও ছিটকে পড়েছি রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে। ছিটকে পড়লেও 'ধাবমান'এর আড্ডার কথা কোনওদিনই ভোলার নয়। সকালের আড্ডা 'শ্রুতি'র হারমোনিয়াম-তবলা ছুঁয়ে কোনও-কোনও দিন শীতলক্ষ্যায় গড়াত। নৌকা নিয়ে ওপারের পাটগুদাম মাঠেও গেছি দল বেঁধে। সঙ্গে প্রিয় কোনও কবির কবিতার বই থাকলে তা থেকে পাঠ করেছি কেউ একজন। শুনেছি সবাই। অভ্যাসটি এখনও রয়ে গেছে। সঙ্গী পেলে তো ভালো, না-পেলেও নিজের সঙ্গে নিজেই আড্ডা দিতে কবিতার জুড়ি নেই। সবার নয়, কারও-কারও কবিতার সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত কথাটি প্রযোজ্য-- 'সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি'।
নিজের এবং 'সামহোয়ার ইন'এর কবিতাপ্রিয় পাঠকদের জন্য আমার নতুন সিরিজ পোস্ট : 'সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি'। প্রথম পোস্টের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়।
মে-দিনের কবিতা/সুভাষ মুখোপাধ্যায়
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।
চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ,
গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে--
তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য
জীবনকে চায় ভালবাসতে।
প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতিবন্ধে
মারণের পণ নখদন্তে;
বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে,
উজ্জ্বল দিন দিক্-অন্তে।
শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না
প্রতি নিশ্বাসে আনে লজ্জা।
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না--
পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।
প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,
দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য
চিনে নেবে যৌবন-আত্মা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ;
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: চাক্ষিক বলেছেন: ব্যক্তিগত খোঁজখবর নিয়ে কী হবে? কবিতাপ্রেমী হলে কবিতা পড়ুন। ভালো না-লাগলে মাইনাস দিন। এখন মাইনাসের যুগ।
ভাঙাকুলো বলেছেন:
আপনার লেখাটা সুন্দর।
লেখক বলেছেন: আমার লেখা কোথায়? সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার কথা বললে ঠিক আছে।
ধন্যবাদ।
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
"সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি'। জীবনান্দের এ বিষয়টা আমার ভালো লাগেনাই।কারণ কবিরা কি জন্মগতভাবেই কবি নাকি?এ বিষয়টা বিতর্কিত।তাহলে কবির মতো ঔপন্যাসিক,গল্পকার,গায়ক সবই জন্মগত হতো।আমার মনে হয় প্রতিভাকে এভাবে ভাববাদী মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।কেননা প্রতিভা বিকাশ হয় তার অনুশীলনে।অনুশীলনের অভাবে অনেক কিছুই,অনেক কবিকে,গায়ককে আমি হারিয়ে যেতে দেখেছি।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জীবনানন্দের এ উক্তির বিরোধিতা করে কবিতার ক্লাস বইতে বলেছিলেন "কেউ কেউ কবি নয়,সকলেই কবি"
সুভাষের কবিতাখানি ভালো লাগলো,ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সুস্থ তর্ক। ধন্যবাদ আপনাকে মুয়ীয মাহফুজ।
পারভীন রহমান বলেছেন:
আমিও এক সময় ছিলাম ওখানে তাই জিজ্ঞাসা করে ছি লামএতো রাগের কি হলো বুঝলাম না
ই চ্ছা না হলে উত্তর দিবেন না
লেখক বলেছেন: রাগ করলাম কই? ভুল বুঝবেন না। আপনি খেলনা, পান্নার বোন 'পারভীন আপা' হলে লাল সালাম। না হলে শুধু সালাম।
লেখক বলেছেন: তাতে ক্ষতি নেই। আজ থেকে আপনি আমার বোন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কবিতাপ্রেমী চিটি (হামিদা আখতার)কেও।
এহসান হাবীব বলেছেন:
ধন্যবাদ। নতুন সিরিজ পোস্ট : 'সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি'-এর পরবর্তী কবিতাগুলোর জন্য অপেক্ষা করছি।
লেখক বলেছেন: অপেক্ষা করা ভলো। না-করে বই পড়া আরো ভালো। ব্লগে আমি মনের খেয়ালে প্রিয় কবিতার স্মৃতিচারণ করি। আপনার মতো দু-একজন সত্যিকার কবিতাপ্রেমী ভুলে-ভালে আমার ব্লগে ঢুইক্যা পড়েন। আজিজের বারান্দায় ঘোরাঘুরি-করা অনেক ফালতু কবি ব্লগের পরিবেশ দূষিত করতাছে দেইখ্যা এই সিরিজ পোস্ট। কবিতার পরিবেশ ক্লাব আমার ব্লগ। ঢুকলে পাইলেও পাইতে পারেন জীবনানন্দ দাশের সবুজ বাতাস।
অবজারভার বলেছেন:
আপনার এই উদ্যোগটা বেশ ভালো লাগল। কতদিন চলবে এই সিরিজ? সিরিজটি সামহোয়্যারইন ব্লগকে সমৃদ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।কিন্তু আপনি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে দিয়ে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ হয়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ে এলেন দেখে আমি খানিকটা এলোমেলোমির আশংকা করছি। কালধারাটাও যদি ফলো করা যেত তাহলে ভালো হতো আমার বিবেচনায়।
আরেকটা কথা, আজিজের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করা ফালতু কবি কারা এখানে, যারা ব্লগের পরিবেশ দূষিত করতেছে? ওদের নাম ধরে চিনিয়ে দিলে হতো না! আপনি কি বিশ্বকবি আবু হাসান শাহরিয়ারের এক নম্বরের সাগরেদ রহমান হেনরীর কথা বলছেন, মাত্র ১৫ বছর কাব্যচর্চা করেই যার শ্রেষ্ঠ কবিতার বই বেরিয়ে গেছে, এবং যার এ যাবৎ লেখা সমস্ত খাস্তা কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতার খেতাবপ্রাপ্ত ?
লেখক বলেছেন: কতদিন চলবে এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত আমার কাছে নেই। সামহোয়ার ইনকে সমৃদ্ধ করবে কি করবে না, সেই আগাম ভাবনা আপনার কাছেই থাকুক। কাকে দিয়ে শুরু, কাকে দিয়ে শেষ-- এ নিয়েও বিশেষ মাথাব্যথা নেই। প্রিয় কবিদের প্রিয় কবিতা নিজের ব্লগে সংরক্ষণ করছি মাত্র। ভালো লাগলে পড়বেন, না-লাগলে মাইনাস দিয়ে চলে যাবেন।
আপনার প্রশ্নের উত্তরে আরও জানাই, রহমান হেনরীও আমার প্রিয় কবি। যাঁর সাগরেদ বলে তাঁর নামোল্লেখ করেছেন, তিনিও প্রিয় কবি।
আপনি নিজেই আজিজের বারান্দায় ঘোরাঘুরিকারী 'কবি'দের একজন কিনা, সেই প্রশ্ন আর করলাম না।
অবজারভার বলেছেন:
তাহলে তো দেখছি আমার আশংকাটা একেবারেই অমূলক নয়। এখানেই ছিল আমার যত আপত্তি। ফাঁকফোকরে ঢুকে যাওয়ারাই পরিবেশটা নষ্ট করে দেয় কি না!বাংলাভাষায় 'চর্যাপদ' থেকে শুরু করে 'বৈষ্ণব পদাবলী' পর্যন্ত বেছে বেছে কবিতা পোস্ট করলে ছয়মাস অবিরাম পোস্ট করা যাবে। ভালো কবিতার খামতি হবে না। আর সেখানে বিংশ শতকের ত্রিশ, চল্লিশ ও পঞ্চাশের তিনটা পোস্টের পরেই যদি আবু হাসান শাহরিয়ার, রহমান হেনরী ও কাজী নাসির মামুন পোস্ট হয়ে যায়, তাহলে বাংলা কবিতার প্রায় দেড় হাজার বছরের ইতিহাস কলংকিত হয় না তো কী!
'আপনি নিজেই আজিজের বারান্দায় ঘোরাঘুরিকারী 'কবি'দের একজন কিনা, সেই প্রশ্ন আর করলাম না।'
মহাশয় চাক্ষিক, আপনি প্রশ্ন করলে করতেও পারতেন। আমার অত বোরকা পরার শখ নেই। তবু জবাব দেই। আমি আজিজে প্রায়ই যাই, কিন্তু কবিতা টবিতা লিখি না। আমি ওখানকার বখাটে, কে কখন এল-গেল, কী উদ্দেশ্যে এল, কার কয়জন সাগরেদ-মোসাহেব আছে, তাদের লিঙ্গভেদ কী, এইসব লক্ষ করি আরকি! এজন্য কারো কাছ থেকে আমি কোনো বেতন পাই না, ওখানকার আড্ডারুরাই ভালোবেসে আমাকে চা-সিগারেট দেয়-টেয়। চামে খাই, আর দূরভিসন্ধিকারীদের দেখে হাসি।
আপনিও আমার চোখে দূরভিসন্ধিকারী কি না সে কথা আর বললাম না।
লেখক বলেছেন: চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না। দূষণ। মাইনাস হন।
কার কবিতা পোস্টে নেব, কারটা নেব না-- ব্লগ আমার-- ভাবনাটাও আমাকেই ভাবতে দেন। দূষণ ছড়ানোর মধ্যেও কিছু খাঁটি কবির নাম যে মুখে আনছেন, সেই জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
আমি মাইনাস করার আগে নিজেই মাইনাস হন।
চাক্ষিক বলেছেন:
ব্লগটিতে কীট-পতঙ্গের উৎপাত শুরু হইয়াছে। সম্প্রতি যারা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন, সেইখানে তাদের নামও ভাসিতেছে। অতএব মর্টিন স্প্রে করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখিতেছি না।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
মজার ব্যাপার তো!আমিও তো শাহবাগে যাই, গালিটা তো আমার গায়েও লাগল।
কিন্তু আপনি কোথাকার রবীন্দ্রনাথ মহাশয়?
তানভীর রাতুল বলেছেন:
এইগুলার ইতিহাস জানা আছে
এহসান হাবীব বলেছেন:
শাহবাগে আমিও যাই। গালিটা আমার গায়ে লাগছে বলে মনে করছি না। আজিজের বারান্দায় যারা ঘুরেন তাদের সবাইকে কি চাক্ষিক ফালতু বলেছেন? আবু হাসান শাহরিয়ার তো আমারও প্রিয় কবি। তেমনি ভালো লাগে রহমান হেনরী, মুজিব মেহদী, কাজী নাসির মামুনসহ অনেককেই। কিন্তু অবজারভার মহাশয় যেভাবে মন্তব্য করলেন তাতে কী সুস্থ তর্কের লক্ষণ? আর চক্ষিকের একটা ভালো লাগা পোস্ট যদি অবজারভারের কাছে বাংলা কবিতার দেড় হাজার বছরের ইতিহাস হিসেবে গন্য হয় তবে তো বাংলা কবিতা তার পাঠকদের দেখে লজ্জাই পাবে বোধ করি।চাক্ষিক,এসব তে হয়ই। ঘাবড়াবেন না। আপনার পোস্ট এবং মন্তব্যের জবাবের প্রতি সহমত।
লেখক বলেছেন: আপনার গায়ে না-লাগারই কথা। কারণ আপনি 'কেউ কেউ কবি'দের রাস্তায় আছেন। তবে আপনার ভালো লাগা মানুষের তালিকায় একজন `সকলেই কবি নয়'কে পেয়ে একটু খটকা লাগল। আমার একান্ত এই ব্লগটি যাকে এবং যার অনুচরদের ক্ষিপ্ত করেছে। ব্লগারদের বিভ্রান্ত করার জন্য হয়তো নানান অপকৌশল-অপপ্রচারেরও আশ্রয় নেবে তারা। কারণ দূষণ ছড়ানোই তাদের মুখ্য কাজ।
পদ্মার আগে গঙ্গা। গঙ্গার শাখা অলকানন্দা। নদীপুরাণে আছে একবার অলকানন্দাতেও দূষণ ছড়িয়েছিল কোনও এক ভিনরাজ্যের দুর্বৃত্ত। তার প্রেতাত্মা এখনও ঘুরে বেড়ায়। নদী ছাড়াও কবিতায় দূষণ ছড়াতে আসে।
নদীদূষণ ও কবিতাদূষণ নিয়ে কখনও যদি কোনও পোস্ট লিখি, সেখানে সব গল্পই পাবেন। আপাতত, দূষণ মাইনাস করে, প্রিয় কবিদের কবিতায় মগ্ন থাকা যাক।
চাক্ষিক বলেছেন:
ভালো লাগুক, না-লাগুক, যারা মনোযোগ দিয়ে কবিতাটি পড়েছেন, ধন্যবাদ সবাইকে। পরেও যারা একই ভাবে পড়বেন, তাদেরও। কবিতা দূরে সরিয়ে রেখে যারা শুধু দূষণ ছড়াতে এসেছিলেন, তাদের প্রতি 'নো কমেন্ট'।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















আপনার রিয়েল নাম কি?