আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শত্রুতা, রেষারেষি বা যুদ্ধ যুদ্ধ যে খেলাগুলো হয়, তাতে একটি দেশের এক বা একাধিক শত্রু থাকে। এসব শত্রু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় প্রতিবেশি। যেমন- উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরাইল-ফিলিস্তিন, ইসরাইল-লেবানন, ইসরাইল-সিরিয়া, ভারত-পাকিস্তান, ভারত-চীন, এক সময়কার ইরাক-ইরান, বসনিয়া-সার্বিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। শত্রু যে সব সময় সীমান্তে থাকবে, তারও কোন কারণ নেই। শত শত বা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরেও তার অবস্থান হতে পারে। ইরানের চরম শত্রু ইসরাইল ইরানের সীমান্ত থেকে বহুদূরে অবস্থিত। আমেরিকা সাত সমূদ্র তের নদী পেরিয়ে ইরাক ও আফগানিস্তান দখল করেছে।
এখন সম্ভাব্য যুদ্ধ থেকে আত্মরক্ষার জন্য বহু দেশ এককভাবে কিংবা বন্ধুপ্রতীম কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক মহড়া চালিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার বন্ধু নামক চাকরদের সঙ্গে মহড়া চালায়।
আজকের খবর হলো- বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। খবরটি আঁতকে ওঠার মতো ঠেকেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের মতো দূরপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কোন শত্রু নেই। বরং, উজানের পানি আটকে দিয়ে আমাদের দেশকে মরুভূমিতে পরিণত করা, ভূগর্ভের পানি আশঙ্কাজনকভাবে নীচে নামিয়ে ফেলা, সীমান্তে পাখির মতো বাংলাদেশিদের গুলি করে মারা, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের পানিসীমায় জেগে ওঠা চর দখলসহ ইত্যাদি নানা কারণে দেখা যায়, শত্রু থাকলে আমাদের একটি দেশই আছে। এ ছাড়া, আমাদের অন্য কোন দেশের সঙ্গে সীমান্ত নেই বললেই চলে। তাহলে আমরা ভারতের সঙ্গে মহড়া চালাচ্ছি কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য? নাকি র'য়ের হাজার হাজার চরদের মাধ্যমেও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর নাড়ি নক্ষত্রের খবর জানার পরও ছিটেফোটা যে তথ্যটুকু জানতে নয়াদিল্লির বাকি ছিল, সেটুকুও মহড়ার বাহানায় দাদাদের হাতে তুলে দেয়ার লক্ষ্যে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে?
সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বাঙালিরা ভাবুন, ভাবুন, ভাবুন। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে থাকুন।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

