যেমন- ইএসপিএন গ্রুপ (ইএসপিএন, স্টার স্পোর্টস ও স্টার ক্রিকেট) দক্ষিণ এশিয়ায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সম্প্রচারের স্বত্ব কিনেছে। তারা ওই দুই দেশে অনুষ্ঠিত সব আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেট এবং অস্ট্রেলিয়ার উল্লেখযোগ্য ঘরোয়া ম্যাচও সম্প্রচার করে।
এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে দুর্বল দল জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দক্ষিণ এশিয়ায় সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারি টেন স্পোর্টস জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটের উল্লেখযোগ্য খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে।
এবার প্রশ্ন-
বাংলাদেশ দল কী জিম্বাবুয়ের চেয়েও পঁচা টিমে পরিণত হলো? তা না হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্প্রচারের দায়িত্ব পাওয়া ইন্ডিয়ান প্রতিষ্ঠান নিম্বাস কর্পোরেশন (নিউ ক্রিকেট ও নিও স্পোর্টস) কোন্ সাহসে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্প্রচার করে না? সম্প্রতি শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের একটি ম্যাচও ওই দু'টি চ্যানেলের কোনোটি সম্প্রচার করেনি। বাংলাদেশের দর্শকরা বিটিভির কল্যানে দেখেছেন। নিম্বাস কর্পোরেশন একটি নিম্নমানের দায়সারা লাইভ ফিড তৈরি করে বিটিভিকে দিয়েছে সম্প্রচারের জন্য।
আসন্ন পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজেরও যে একই হাল হবে তা বোঝা যাচ্ছে নিও স্পোর্টসের ওয়েবসাইট দেখে। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান একমাত্র টি২০ খেলা। নিও ক্রিকেট বা নিও স্পোর্টস এর কোন একটির শিডিউলেও খেলাটি নেই। ওডিআই সিরিজ শুরু হওয়ার পর কী হবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, নিও ক্রিকেট তখন ব্যস্ত থাকবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দেখাতে। আর নিও স্পোর্টস ১-৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিডিউলের ঘর ফাঁকা রেখেছে।
আমার মনে হচ্ছে, তারা এবারও মেরুদণ্ডহীন বিসিবি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছে। আগের সিরিজের মতো এবারও যদি লোটাস কামালরা লোটা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজও তারা সরাসরি সম্প্রচার করবে না।
অথচ কথা ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঘরোয়া লীগও তারা দেখাবে।
এই হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্ডিয়ার আচরণ এবং আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বশীলতা। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, নিও স্পোর্টস লাইভ সম্প্রচার না করলে ক্ষতি কি? বিটিভির কল্যাণে দেশের দর্শকরা তো দেখতে পাচ্ছে?
ভাই রে, এটি আমাদের ক্রিকেটের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন। আমাদের মান সম্মানের প্রশ্ন। আমাদের ছেলেরা খারাপ খেলুক। কিন্তু সেটি কোন আন্তর্জাতিক স্পোর্টস চ্যানেলে সম্প্রচার না হলে আমাদের টেস্ট মর্যাদাকেই অবজ্ঞা করা হয়। এ ছাড়া, প্রবাসি দর্শকরা দেখতে পারে না।
আর বিসিবি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, আপনারা এরপর ২০১২ সালে বর্তমান সম্প্রচার চুক্তির মেয়াদ শেষে কোন ইন্ডিয়ান চ্যানেলের কাছে স্বত্ব বিক্রি করবেন না। টেন্ডারে পরিস্কার করে বলবেন কোন ইন্ডিয়ান চ্যানেল আবেদন করতে পারবে না। আর যদি টেন্ডার না ডেকে সরাসরি দেয়া যায়, তবে দুবাইভিত্তিক টেন স্পোর্টসকে স্বত্ব দিন।
এই নিও ক্রিকেটের সঙ্গে চুক্তির পর বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো হৈ হৈ রব ফেলে দিয়েছিল, আমরা ৪০০ কোটি টাকা আয় করতে যাচ্ছি ... ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এই মিডিয়ার কল্যাণেই জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকাও পায়নি। এমনকি ওই চুক্তিতে কোন গ্যারান্টি ক্লজও নেই যা নিয়ে বিসিবি আন্তর্জাতিক কোন আদালতের স্মরণাপন্ন হবে। ঠিক বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া গঙ্গার পানি চুক্তির মতো। দাদারা দয়া করে পানি দিলে ভালো। না দিলে করার কিছুই নেই।
খতম করার আগে বিসিবির কাছে আবেদন জানাতে চাই, যতক্ষণ আমাদের টেস্ট মর্যাদা আছে, ততক্ষণ আমাদের ক্রিকেটের মান মর্যাদার স্বার্থে নিম্বাস কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করুন আমাদের সবগুলো ম্যাচ লাইভ সম্প্রচার করতে। সম্প্রচারের ফিডও যেন মানসম্মত হয়। তা না হলে আমাদের টেস্ট মর্যাদা কেড়ে নেয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হবে এই লাইভ সম্প্রচার না হওয়া। এখনই সাবধান হোন। নতুবা দায়িত্ব ছেড়ে দিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


