somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ আগরতলায় হাসিনা : মুছে যাবে তিস্তার তিক্ততা, আশায় দু’দেশই

১১ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার আগরতলা যাচ্ছেন ডি লিট ডিগ্রি আনতে। ঢাকার পত্রিকাগুলো মোটামুটি এরকম খবরই দিয়েছে। কিন্তু কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ভিন্ন কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছে এবং ডি লিট ডিগ্রির প্রসঙ্গটিই আনেনি। নীচে আনন্দবাজারের খবরটি তুলে ধরছি লিঙ্কসহ

আগরতলায় আসার ইচ্ছা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাংলাদেশের, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একটিবার । কিন্তু ঘাতকের বুলেট সেই ইচ্ছেপূরণ করতে দেয়নি।
পিতার সেই অসমাপ্ত ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই নতুন করে সেজে ওঠা আগরতলা বিমানবন্দরের টারম্যাক ছুঁতে চলেছে কন্যা শেখ হাসিনার বিশেষ বিমান। তাতে হাসিনা ছাড়াও থাকবে বাংলাদেশের পাঁচ মন্ত্রী-সহ একটি বড় রাজনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দল।
কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের তাৎপর্য নিছক একটি ভারতীয় রাজ্যে আসার মধ্যেই সীমিত থাকছে না। বরং, এই সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে এক কূটনৈতিক সন্ধিক্ষণ। বিদেশ মন্ত্রকের আশা, গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঢাকা সফরে তিস্তা চুক্তি না-হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে কূটনৈতিক শৈত্য তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই কাটিয়ে দিতে পারবে আগরতলা। পরিণামে উজ্জ্বল হতে পারে তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ। পাশাপাশি হাসিনার আসন্ন সফরে ত্রিপুরা-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক আশা-আকাঙ্ক্ষাও পূর্ণতা পাবে বলেই আশা।

ত্রিপুরার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে (ট্রানজিট) উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহণের বিষয়টি চুড়ান্ত হোক। কিন্তু দিল্লি-ঢাকা আলোচনা তিস্তা (এবং ফেনি) প্রশ্নে ধাক্কা খাওয়ায় খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়, অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে। তিন দিক বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরার দক্ষিণতম বিন্দু থেকে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম বন্দর। আগরতলার দীর্ঘ দিনের দাবি, এই বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিক ঢাকা। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আগরতলা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেল প্রকল্পের জন্য ২৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা এবং ত্রিপুরা রাজ্য নেতৃত্বের আসন্ন বৈঠকের একটি ইতিবাচক মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও যে এ ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, তা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করছেন কেন্দ্রীয়নেতৃত্বও। এটা ঘটনা যে, প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরে তিস্তা প্রকল্প আটকে গিয়েছিল মমতারই আপত্তিতে। তারপর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী দীপু মণি কলকাতায় মমতার সঙ্গে বৈঠক করেন, কিন্তু জট কাটেনি। তবে তিস্তার বিষয়টিকে পৃথক রেখেই মমতা ত্রিপুরা-বাংলাদেশ যোগাযোগের প্রশ্নে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন।

মমতা রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, হাসিনার ত্রিপুরা সফরের আগেই যাতে আগরতলা-আখাউড়ার রেল যোগাযোগে আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া সম্ভব হয়। মমতার বক্তব্য, “আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতিই চাই। কিন্তু তিস্তা চুক্তি নিয়ে রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ফলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, আসন্ন ভবিষ্যতে তিস্তার জল গড়াবে না। তাই ত্রিপুরা সফরটি ঘিরে হাসিনার প্রত্যাশা রয়েছে যথেষ্ট। একই সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ বাতিল করে তিনি আসছেন আগরতলায়। রাজনৈতিক সূত্রের কথায়, ভারত সম্পর্কে প্রতিটি পদক্ষেপের আগে নিজের দেশের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে।

কলকাতার ক্ষত যাতে আগরতলা মেরামত করতে পারে তার জন্য হাসিনার আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ, বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। হাসিনা সরকারের তিন বছর অতিক্রান্ত। বিভিন্ন বিষয়ে প্রবল বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে বিএনপি এবং জামাত জোট। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি পিছিয়ে যাওয়ায় হাসিনা-বিরোধী প্রচার আরও শানিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিস্তার ‘পানি’ স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের একটি বড় আবেগের জায়গা।

ঘরোয়া রাজনীতিতে সেই বিরোধিতা কমাতে আগরতলা-আখাউড়া রেললাইনটি দ্রুত তৈরি হওয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি। এটি হয়ে গেলে বাংলাদেশ আগরতলার মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজার ধরতে সক্ষম হবে। পণ্য রফতানির প্রশ্নে কলকাতার তুলনায় সামগ্রিক ভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনেকটাই বেশি আকর্ষণীয় ঢাকার কাছে। ব্রিটিশ আমলে আখাউড়া ছিল রেলের অন্যতম মুখ্য দফতর। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরায় পণ্য পৌঁছতে ওই লাইন ব্যবহার করা হত। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। তা আবার চালু করার বিষয়টি ঘরোয়া রাজনীতিতে হাসিনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।

http://www.anandabazar.com/11desh2.html

ত্রিপুরার এই সরকারি অতিথিশালাতেই থাকার কথা মুজিবকন্যার।
মঙ্গলবার সেখানে টহল নিরাপত্তারক্ষীদের
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×