কোন ধর্ম বিবাহপূর্ব কিংবা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মেনে নেয়নি। ইসলাম ব্যাভিচারের ধারে কাছে যেতে নিষেধ করেছে। অথচ আমাদের সমাজে পরকীয়াকে 'পরকীয়া-প্রেম' নামে চালানোর চেষ্টা চলছে।
গত বছর এই পরকীয়ার বলি হয়েছে সাত বছরের এক শিশুসন্তান। তার মায়ের কথিত প্রেমিক তাকে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। শিশুটির নাম এই মুহুর্তে আমার মনে পড়ছে না।
কথিত ওই প্রেমিকের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ধিক্কার উঠেছিল এ কারণে যে, সে একটি শিশুকে হত্যা করেছে। শিশুটির মাকে সবাই ঘৃণা করছিল এ কারণে যে নিজের সন্তান হত্যায় সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কোন পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পরকীয়ার বিরুদ্ধে কঠোর কোন কথা বলতে শোনা যায়নি। তারা এ কথা বলেননি যে, পরকীয়া করেই ওই নারী তার শিশুহত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ করেছিল। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাধি রোধ করার ব্যাপারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কোন তাড়নাও গণমাধ্যমগুলোতে দেখা যায়নি।
এবার সেই পরকীয়া কেড়ে নিল আমাদের সংবাদ জগতের দুই প্রখ্যাত কর্মীকে। রুনির পরকীয়ার সূত্র ধরে রুনি-সাগর দম্পতি খুন হয়েছে বলে কোন কোন টিভি চ্যানেলের নিউজে আভাস দেয়া হয়েছে। রুনির কথিত প্রেমিককে আটক করারও খবর এসেছে।
খবরটিতে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশের সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই টিভি সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, মেহেরুন রুনি যে টিভি চ্যানেলে কাজ করতেন ওই টিভি চ্যানেলেরই নিউজ বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্তকর্তার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সাগর রাত ২টায় বাসায় ফিরে আপত্তিকর অবস্থায় রুনি এবং ওই সাংবাদিককে বাসায় দেখতে পায়। এনিয়ে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ সাংবাদিক রান্না ঘর থেকে বটি নিয়ে সরওয়ারের ওপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে সরওয়ারের হত্যা নিশ্চিত হবার পর ঘটনার যেন কোন স্বাক্ষী না থাকে সে জন্য সে রুনিকেও হত্যা করে।"
সংবাদকর্মীদের আঘাত করার কোন ইচ্ছে আমার নেই, কিন্তু এটিই বাস্তবতা। দয়া করে দয়া করে দয়া করে, আমরা নিজেরা এই ব্যাধি থেকে বাঁচি, গোটা জাতিকে বাঁচার জন্য উদ্বুদ্ধ করি।
দেখুন ফুলের বাগানে ফুলের মতো এই পরিবারটি পরকীয়ার কারণে ধ্বংস হয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





