জেলা সদর হবিগঞ্জে গতকাল এক সাড়াজাগানো বিয়ে সম্পন্ন হলো। বিয়েতে কোন কিছুরই কমতি ছিল না। খানাপিনা থেকে শুরু করে বরেণ্য অতিথিদের আগমন বিয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
হবিগঞ্জ জালাল স্টেডিয়ামে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিয়ে অনুষ্ঠানে ১৫ সহস্রাধিক অতিথিকে আপ্যায়িত করা হয়। শুধু তাই নয়- এ বিয়ে অনুষ্ঠানটি স্থানীয় টিভি চ্যানেল এলারলিংক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরাসরি সমপ্রচার করে। আলোচিত ওই বিয়ে অনুষ্ঠানের কনে আরিফা আক্তার মুক্তি। তিনি হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই) আসনের সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আবু জাহিরের কন্যা। বর মহিবুর রহমান খন্দকার। তিনি ইংল্যান্ড প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার মো. সুফি মিয়ার পুত্র। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এ বিয়ের কাবিন ধার্য করা হয় ১ কোটি ২০ লাখ ১ টাকা। বর আসেন হেলিকপ্টারযোগে। বিয়ে অনুষ্ঠানেকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও আশপাশ এলাকায় গড়ে তোলা হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়। জোরদার করা হয় পুলিশ ও র্যাবের টহল। বিয়েতে কোন ধরনের উপহার গ্রহণ করা হয়নি।
এই মহাআড়ম্বরের বিয়েকে কেন্দ্র করে গত ক’দিন ধরে কনের বাসভবন ও জালাল স্টেডিয়াম এলাকায় ছিল সাজ সাজ রব। পুরো স্টেডিয়াম নিয়ে স্থাপন করা হয় বিশাল প্যান্ডেল। স্টেডিয়ামের উত্তর প্রান্তে নির্মাণ করা হয় বর-কনে বসার বিরাট মঞ্চ। বিশাল প্যান্ডেলকে ৫টি সেকশনে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪টি সেকশনে এক সঙ্গে ১৮শ’ লোকের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অপর সেকশনে অপেক্ষমাণ ১ হাজার লোকের জন্য ওয়েটিং এরিয়া নির্মাণ করা হয়। ৪ সেকশনে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য ৪টি পেভিলিয়নে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
গতকাল সকাল ১১টা থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টেডিয়ামে আসতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানে যাতে কোন নাশকতামূলক কার্যক্রম না হয় সেজন্য অনুষ্ঠান স্থলের প্রবেশ পথ স্টেডিয়ামের পূর্ব ও পশ্চিম গেইটে অবস্থানরত পুলিশ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে লোকজনকে পরীক্ষা করে ভেতরে ঢুকতে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন শুরু করা হয়। খাবারের মেন্যুতে ছিল পোলাও, লটপটি, কাবাব, মুরগির রোস্ট, মাছভাজা, খাসির মাংস, দই ও জর্দা। বেলা ১.৪০ টায় হেলিকপ্টারযোগে বর মহিবুর রহমান খন্দকার হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অবতরণ করেন। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট কারে চড়ে আসেন বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে। এর আগে সিলেট বিমানবন্দর থেকে বরবাহী হেলিকপ্টারটি যাত্রা করে হবিগঞ্জে পৌঁছে শহরের ওপর দু’টি চক্কর দেয়। শতাধিক বরযাত্রী আসেন সড়কপথে।
কাজী মাওলানা নাজমুল হোসেন আলোচিত এ বিয়ের কাবিন সম্পাদন করেন। বিয়ে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, সফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, ইলিয়াছ মোল্লা এমপি, এডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি, সাবেক এমপি সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সৈয়দ মো. ফয়সল, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ জি কে গউছ, সাবেক এমপি আবু লেইছ মো. মুবিন চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির লস্কর, মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসিম, বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির চৌধুরী, বানিয়াচঙ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান, লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন যোগ দেন।
সুত্র : মানব জমিন
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



