মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করতে করতেই মহাবিজ্ঞান গ্যালিলিও গ্যালিলি শেষ বয়সে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছিলেন, একথা প্রচলিত।
বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণ দেখতে গিয়ে অনেকের চোখ খারাপ হয়ে যায় এমনকি অনেকে অন্ধও হতে পারেন।
তবে সূর্যগ্রহণের সময় ক্ষতিকর বিশেষ কোনও রশ্মি নির্গত হয় না বলে আধুনিক বিজ্ঞানীরা বলছেন। তারা বলেন, সূর্যের দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে রঞ্জন রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি এবং অবলোহিত রশ্মি সব সময়ই নির্গত হয়। এ সব রশ্মি চোখের পক্ষে খুব ক্ষতিকর।
গ্রহণের সময় অতি উৎসাহে অনেকক্ষণ ধরে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকিয়ে থাকাই চোখ খারাপ হওয়ার কারণ বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকক্ষণ সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের চোখের লেন্স আতস কাচের মতো সূর্যের আলো রেটিনায় কেন্দ্রীভূত করে রেটিনার আলোকসংবেদী কোষের ক্ষতি করে।
তীব্র আলোয় কর্নিয়া (চোখের বাইরের সাদা অংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও চোখ খারাপ হতে পারে। আবার আলোর তীব্রতা বাড়লে তারারন্ধ্র ছোট হয়ে চোখে আলো প্রবেশের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। পক্ষান্তরে অন্ধকারে তারারন্ধ্র বড় হয়। গ্রহণের সশয় আলো-আঁধারির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে চোখের এই ব্যবস্থার ওপরও চাপ পড়ে।
তাই গ্রহণের সময় সরাসরি খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিৎ নয়। সূর্যকে দেখতে হলে উপযুক্ত ফিল্টার ব্যবহার করা উচিৎ। ফিল্টারটি এমন হতে হবে যাতে দৃশ্য আলোর পরিমাণ এক লক্ষ ভাগ কমে যায়।
শুধু ফিল্টারই নয়, সূর্যের প্রতিবিম্ব তৈরি করে ঘরের মধ্যে বসেই অনেকে মিলে একসঙ্গে গ্রহণ দেখার পদ্ধতিও খুব সহজ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর জানিয়েছে, সোলার ফিল্টার হিসেবে সিডি, ফ্লপি, কালো সানগ্লাস, ছবির নেগেটিভ বা এক্সরে ফিল্মের ব্যবহৃত অংশ দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়। দুরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। এসবের সামনে ফিল্টার লাগিয়ে ছবি তোলা যাবে। তবে ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে সরাসরি তাকানো যাবে না। ওয়েল্ডিং গ্লাসকে সোলার ফিল্টার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে কোনও মাধ্যম দিয়েই একটানা ৫ সেকেন্ডের বেশি না তাকানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিরতি দিয়ে আবার দেখা যেতে পারে।
বড় গামলা বা পাত্রে পানি নিয়ে তাতে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে সূর্যের প্রতিবিম্ব তৈরি করে গ্রহণ দেখা যেতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


