বিষণ্ন
হোটেলে বসে এক লোক তার সামনে রাখা গ্লাসভর্তি পানীয়’র দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অনেক্ষণ ধরে এভাবে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ আলগা উৎপাতের মত ট্রাক ড্রাইভার এসে হাজির হলো। বলা নেই কওয়া নেই, সে লোকটার সামনে রাখা গ্লাসটা নিয়ে সুড়ুৎ করে সবটুক গিলে ফেললো।
লোকটা বিষণ্ণ দৃষ্টিতে ট্রাক ড্রাইভারের দিকে তাকালো। ট্রাক ড্রাইভার একটা জোশিলা হাসি দিয়ে বললো, “আরে দোসতো, আসলে অ্যামনে একটু জাউরামি করলাম তোমার লগে। তুমি চাওতো আমি তোমার লাইগ্যা আরেক গেলাস অডার দিমু, এক্ষণ।”
লোকটা হড়হড়িয়ে কাঁদা শুরু করলো।
“আরে কী যন্ত্রণা!” বলার সময় ট্রাকড্রাইভারের কণ্ঠটা কেমন জানি ধরে এলো। “কানবার লাগছো ক্যালা? পুরুস মাইনসেরে অ্যামনে কানবার দ্যাখলে দিলে দুখ লাগে তো।”
লোকটা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, “আইজকার দিনডা আমার জীবনের সবথেইকা কুফা দিন। আইজ পথে জামে পইরা কামে সময় মতো যাইবার পারি নাই বইল্যা মালিকে কাম থেইকা খ্যাদাইয়া দিলো। বাসার উঠানে আয়া দেখি মুরগী দুইডা চুরি হইয়া গ্যাসে। রাস্তায় রাস্তায় মুরগী খুঁজতে যাইয়া, বেখেয়ালে একডা গারির তলে যাইয়া পরলাম, একটা হাত গ্যালো মসকাইয়া। মসকাইন্যা হাত লইয়া ঘরে আইয়া দেহি আমার বউয়ে মাকসুইদ্যা খানকির পোলার লগে ক্যাঁথাত্তলে হুইত্যা দুইলম্বরি করতাসে। হাত ভাঙ্গা না থাকলে হ্যার ডান্ডি ফাটাইয়া দিতাম, কিন্তু কিসু করবার না পাইরা। দিলে দুকখু লইয়া ঘর থেইকাই চইল্যা আইলাম।
রাগে, দুকখে একডা ইন্দুরের বিষ কিইন্যা এই গেলাসে গুইল্যা খাইবার লাগসিলাম, হেইডাও আপনে খায়া ফালাইলেন…?”
মন্ত্রীর মাথা
স্বর্গের দেবতার এক রাতে ইচ্ছে হল,নানা দেশের মন্ত্রীদের মাথায় কি আছে, কিরকম চিন্তা এটা দেখার জন্য। তাই সে তখনি এক দেবদূতকে পাঠাল দেখার জন্য|
প্রথমে দেবদূত গেলো চীনের মন্ত্রীর মাথায়।
মাথার ভিতর গিয়ে সে সাথে সাথে বের হয়ে আসলো।
দেবতা জিজ্ঞেস করলো কি ব্যাপার?
দেবদূত “মাথার ভিতর শুধু বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আর প্রযুক্তি;আমি ভয়ে বের হয়ে গেছি”
… এরপর সে গেলো ভারতের মন্ত্রীর মাথায়।
সেখানে গিয়ে ১ ঘণ্টার মাঝে সে বের হয়ে গেলো।
দেবদূত বলল “এখানে নানারকমের প্ল্যান আর দূর্নীতির চিন্তা আর কোন ব্যাংকে কত টাকা রাখা আছে এই হিসাব,আমি মিলাতে চেষ্টা করলাম; কিন্তু কিছু না পেরে বের হয়ে আসলাম”
শেষে সে গেলো বাংলাদেশের মন্ত্রীর মাথায়। সেখানে ঢুকে সে আর বের হয় না,বের হয় না।সারারাত পার হয়ে গেলো।পরেরদিন সকালবেলা সে ঘুম ঘুম চোখে বের হল।
দেবতা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,”কি হয়েছে? কি ব্যাপার?
দেবদূত বলল “ক্ষমা করবেন প্রভু,এই মাথায় পুরো ফাঁকা। কিছুই নাই।এতো বড় ফাঁকা জায়গায় গিয়ে আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,তাই দেরি হল”
মাতাল ডিটেক্টর
এক ভদ্রলোক তার বাচ্চাটিকে নিয়ে পার্টিতে গেছেন।
আড্ডায় আড্ডায় তিনি অনেকক্ষণ ধরেই মদ্যপান করছেন|
হঠাৎ তার বাচ্চার কথা মনে হতেই পাশে তাকিয়ে দেখলেন তার বাচ্চাও খানিকটা মদ্যপান করে ফেলেছে।
তিনি ঐ মদ্যপ অবস্থায় নিজেই গাড়ি চালিয়ে পার্টি থেকে বাসায় ফিরছেন আর একটু পর পর বাচ্চাকে বকছেন।
হঠাৎ একজন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তার গাড়ি থামিয়ে প্রশ্ন করছেন,
ট্রাফিক পুলিশঃ আপনার গাড়ি চালানো দেখে আমার সন্…দেহ হচ্ছে, আপনি নিশ্চয় মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন !
লোকটিঃ না, আমি মাতাল নই।
ট্রাফিক পুলিশঃ আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি হা করুন আমার কাছে ডিটেক্টর মেশিন আছে আমি চেক করছি আপনি মাতাল কি-না?
লোকটি হা করলো এবং মেশিনে ”মাতাল“সিগনাল দিল।
ট্রাফিক পুলিশঃ মেশিন বলছে, আপনি মাতাল।
লোকটিঃ আপনার মেশিন নষ্ট।
ট্রাফিক পুলিশঃে অসম্ভব !
লোকটিঃ ঠিক আছে, আপনি আমার এই ছোট বাচ্চার মুখে মেশিনটি ধরুন, দেখি কি সিগনাল দেয়? এতটুকু বাচ্চাতো আর মদ পান করে না !
ট্রাফিক পুলিশঃ ঠিক আছে, বাবু মুখ হা করো তো…।
বাচ্চাটি মুখ হা করলো। এবং মেশিনে যথারীতি “মাতাল” সিগনালই দিল।
সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশটি লজ্জিত হয়ে বলল,
ট্রাফিক পুলিশঃ আপনার সময় নষ্ট করার জন্য স্যরি। অনেক দিন আগের মেশিন তো তাই মাঝে মধ্যেই ডিস্টার্ব দেয় !!!
বিঃদ্রঃ সংগ্রীহিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



