somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষন্ন ট্রাক ড্রাইভার আর মন্ত্রীর মাথা ( রম্য প্রচেষ্টা ঃ কমনের সম্ভাবনা )

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষণ্ন


হোটেলে বসে এক লোক তার সামনে রাখা গ্লাসভর্তি পানীয়’র দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অনেক্ষণ ধরে এভাবে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ আলগা উৎপাতের মত ট্রাক ড্রাইভার এসে হাজির হলো। বলা নেই কওয়া নেই, সে লোকটার সামনে রাখা গ্লাসটা নিয়ে সুড়ুৎ করে সবটুক গিলে ফেললো।
লোকটা বিষণ্ণ দৃষ্টিতে ট্রাক ড্রাইভারের দিকে তাকালো। ট্রাক ড্রাইভার একটা জোশিলা হাসি দিয়ে বললো, “আরে দোসতো, আসলে অ্যামনে একটু জাউরামি করলাম তোমার লগে। তুমি চাওতো আমি তোমার লাইগ্যা আরেক গেলাস অডার দিমু, এক্ষণ।”
লোকটা হড়হড়িয়ে কাঁদা শুরু করলো।
“আরে কী যন্ত্রণা!” বলার সময় ট্রাকড্রাইভারের কণ্ঠটা কেমন জানি ধরে এলো। “কানবার লাগছো ক্যালা? পুরুস মাইনসেরে অ্যামনে কানবার দ্যাখলে দিলে দুখ লাগে তো।”
লোকটা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, “আইজকার দিনডা আমার জীবনের সবথেইকা কুফা দিন। আইজ পথে জামে পইরা কামে সময় মতো যাইবার পারি নাই বইল্যা মালিকে কাম থেইকা খ্যাদাইয়া দিলো। বাসার উঠানে আয়া দেখি মুরগী দুইডা চুরি হইয়া গ্যাসে। রাস্তায় রাস্তায় মুরগী খুঁজতে যাইয়া, বেখেয়ালে একডা গারির তলে যাইয়া পরলাম, একটা হাত গ্যালো মসকাইয়া। মসকাইন্যা হাত লইয়া ঘরে আইয়া দেহি আমার বউয়ে মাকসুইদ্যা খানকির পোলার লগে ক্যাঁথাত্তলে হুইত্যা দুইলম্বরি করতাসে। হাত ভাঙ্গা না থাকলে হ্যার ডান্ডি ফাটাইয়া দিতাম, কিন্তু কিসু করবার না পাইরা। দিলে দুকখু লইয়া ঘর থেইকাই চইল্যা আইলাম।
রাগে, দুকখে একডা ইন্দুরের বিষ কিইন্যা এই গেলাসে গুইল্যা খাইবার লাগসিলাম, হেইডাও আপনে খায়া ফালাইলেন…?”


মন্ত্রীর মাথা

স্বর্গের দেবতার এক রাতে ইচ্ছে হল,নানা দেশের মন্ত্রীদের মাথায় কি আছে, কিরকম চিন্তা এটা দেখার জন্য। তাই সে তখনি এক দেবদূতকে পাঠাল দেখার জন্য|
প্রথমে দেবদূত গেলো চীনের মন্ত্রীর মাথায়।
মাথার ভিতর গিয়ে সে সাথে সাথে বের হয়ে আসলো।
দেবতা জিজ্ঞেস করলো কি ব্যাপার?
দেবদূত “মাথার ভিতর শুধু বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আর প্রযুক্তি;আমি ভয়ে বের হয়ে গেছি”
… এরপর সে গেলো ভারতের মন্ত্রীর মাথায়।
সেখানে গিয়ে ১ ঘণ্টার মাঝে সে বের হয়ে গেলো।
দেবদূত বলল “এখানে নানারকমের প্ল্যান আর দূর্নীতির চিন্তা আর কোন ব্যাংকে কত টাকা রাখা আছে এই হিসাব,আমি মিলাতে চেষ্টা করলাম; কিন্তু কিছু না পেরে বের হয়ে আসলাম”
শেষে সে গেলো বাংলাদেশের মন্ত্রীর মাথায়। সেখানে ঢুকে সে আর বের হয় না,বের হয় না।সারারাত পার হয়ে গেলো।পরেরদিন সকালবেলা সে ঘুম ঘুম চোখে বের হল।
দেবতা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,”কি হয়েছে? কি ব্যাপার?
দেবদূত বলল “ক্ষমা করবেন প্রভু,এই মাথায় পুরো ফাঁকা। কিছুই নাই।এতো বড় ফাঁকা জায়গায় গিয়ে আরামে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,তাই দেরি হল”


মাতাল ডিটেক্টর

এক ‍ভদ্রলোক তার বাচ্চাটিকে নিয়ে পার্টিতে গেছেন।
আড্ডায় আড্ডায় তিনি অনেকক্ষণ ধরেই মদ্যপান করছেন|
হঠাৎ তার বাচ্চার কথা মনে হতেই পাশে তাকিয়ে দেখলেন তার বাচ্চাও খানিকটা মদ্যপান করে ফেলেছে।
তিনি ঐ মদ্যপ অবস্থায় নিজেই গাড়ি চালিয়ে পার্টি থেকে বাসায় ফিরছেন আর একটু পর পর বাচ্চাকে বকছেন।
হঠাৎ একজন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তার গাড়ি থামিয়ে প্রশ্ন করছেন,
ট্রাফিক পুলিশঃ আপনার গাড়ি চালানো দেখে আমার সন্…দেহ হচ্ছে, আপনি নিশ্চয় মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছেন !
লোকটিঃ না, আমি মাতাল নই।
ট্রাফিক পুলিশঃ আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি হা করুন আমার কাছে ডিটেক্টর মেশিন আছে আমি চেক করছি আপনি মাতাল কি-না?
লোকটি হা করলো এবং মেশিনে ”মাতাল“সিগনাল দিল।
ট্রাফিক পুলিশঃ মেশিন বলছে, আপনি মাতাল।
লোকটিঃ আপনার মেশিন নষ্ট।
ট্রাফিক পুলিশঃে অসম্ভব !
লোকটিঃ ঠিক আছে, আপনি আমার এই ছোট বাচ্চার মুখে মেশিনটি ধরুন, দেখি কি সিগনাল দেয়? এতটুকু বাচ্চাতো আর মদ পান করে না !
ট্রাফিক পুলিশঃ ঠিক আছে, বাবু মুখ হা করো তো…।
বাচ্চাটি মুখ হা করলো। এবং মেশিনে যথারীতি “মাতাল” সিগনালই দিল।
সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশটি লজ্জিত হয়ে বলল,
ট্রাফিক পুলিশঃ আপনার সময় নষ্ট করার জন্য স্যরি। অনেক দিন আগের মেশিন তো তাই মাঝে মধ্যেই ডিস্টার্ব দেয় !!!
;)

বিঃদ্রঃ সংগ্রীহিত
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×