somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাম জুমেইরাহ- সাগরের বুকে পাম ট্রি (বিস্ময়কর স্থাপনা-১)

২৩ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুবাই, পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এক জায়গা। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এক পর্যটন স্পট। এই দুবাইয়ের আকর্ষণীয়
স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল তাল গাছ সদৃশ কৃত্তিম দ্বীপ, পাম জুমেইরাহ। বিস্ময়কর এই স্থাপনার কথাই আমরা আজ জানব।


আরব আমিরাত আরব সাগরের উপকুলে অবস্থিত তেল সমৃদ্ধ একটি দেশ। সোনার জন্যও বিখ্যাত এটি। আরব আমিরাতের অর্থনীতি
তেলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৬০ এর মধ্যে ফুরিয়ে যাবে তেলের ভাণ্ডার। তাই বাদশাহ শেখ মুহাম্মদ বিন আল মাখতুম অর্থনীতি তিকিয়ে রাখতে নযর দিলেন পর্যটন খাতে। দুবাই আরব আমিরাতের প্রধান পর্যটন শহর। দুবাইতে রয়েছে অসাধারন বীচ, বিলাসবহুল হোটেল, অত্যাধুনিক শপিং মল সহ আকর্ষণীয় সব পর্যটন স্পট। প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন পর্যটক দুবাইয়ের বীচে বেরাতে আসে। এই সংখ্যাকে বারিয়ে ৩ গুন অর্থাৎ ১৫ মিলিয়ন পর্যটককে আকর্ষণ করতে চায় দুবাই। কিন্তু দুবাইয়ের বীচের দৈর্ঘ্য ৭২ কিমি.। যা এই বাড়তি লোকের জন্য যথেষ্ট নয়। সমাধান একটিই, বীচের দৈর্ঘ্য বাড়ানো। কিন্তু কিভাবে?

এই প্রস্নের সমাধান করলেন বাদশাহ কৃত্বিম দ্বীপের পরিকল্পনার মাধ্যমে। এই দ্বীপের ডিজাইন বের করার দায়িত্ব দেয়া হল নিখিল
গ্রুপের চেয়ারম্যান সুলতান আহমদ বিন সুলেইম কে। সুলতান আহমদ বিন সুলেইম একটি কাগজে একটি বৃত্ত একে হিসেব করে দেখলেন বীচের দৈর্ঘ্য ৭ কিমি. বেরে গেছে। তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হলেন। কিন্তু বাদশাহর জন্য এটি যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি নিজেই কাগজ-কলম নিয়ে বসে পরলেন ডিজাইন করতে। বিভিন্ন আকার-আকৃতি নিয়ে চিন্তা করতে করতে অবশেষে তাল গাছের ডিজাইন তার মাথায় আসলো। হিসেব করে দেখা গেল এর ফলে বীচের দৈর্ঘ্য ৫৬ কিমি. বেরে গেল। অবশেষে এই ডিজাইনে তৈরি হল পাম জুমেইরাহ।


পাম জুমেইরাহ ৫.৫ বর্গ কিমি. জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এর চারিদিকে ১১.৫ কিমি. এর দেয়াল এবং ২.৫ মিটার উঁচু দেয়াল আছে যা বালি ও পাথর দিয়ে তৈরি।মুল দ্বীপ খণ্ডটিও শুধু বালু দিয়ে তৈরি। মোট ৯৪ মিলিয়ন ঘন মিটার বালু ও ৫.৫ মিলিয়ন পাথর ব্যবহৃত হয়েছে। দুবাই তে মরুভূমি থাকলেও মরুভূমির বালু এই স্থাপনার জন্য সঠিক উপাদান নয়। কারন মরুভুমির বালু অতি সুক্ষ যা সহজেই পানিতে ধুয়ে যাবে। সমাধান সাগরের পানির নিচের বালি যা জমাট বাধতে সক্ষম। তাই দ্বীপ গঠনে সমুদ্র তলের বালুই ব্যবহার করা হল।

এধরনের একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ১৫ বছর। কিন্তু বাদশাহ সময় দিলেন মাত্র ৫ বছর। অগাস্ট ২০০১ শুরু হয় এর নির্মাণ। মোট ৯ টি বারজার, ১৫ টি ট্যাঙ্কবোট, ৪ টি ড্রেজার, ৩০ টি ভারি হ্যান্ড বেইস মেশিন এবং ১০ টি ভাসমান ক্রেইন। ২.৫ বছর ধরে ৪০০০০ কর্মীর রাত দিন ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রমের ফলে অস্তিত্ব পায় পাম জুমেইরাহ।


পাম জুমেইরাহ এর বাইরে ১১.৫ কিমি. ব্যাপি ২.৫ উচু দেয়াল ছিল খুব কঠিন একটি কাজ। প্রথমে ৭.৪ মিলি. পুরু বালির স্তর তৈরি করে এরপর পাথর দিয়ে তা পানির উপরে প্রায় ৩ মিটার উঁচু করা হয়েছে। মোত ৫.৫ মিলিয়ন ঘন মিটার পাথর ব্যবহৃত হয়েছে যা দিয়ে দুইটি মিশরিও পিরামিড বানান সম্ভব। প্রতিটি পাথরের ওজন ৬ টন। দেয়াল তৈরির সময় প্রতি ২৭ মিটার অন্তর অন্তর একজন ডুবুরি পরিক্ষা করে দেখতেন প্রতিটি পাথর ঠিক জায়গায় বসেছে কিনা।সামান্য ভুল ভণ্ডুল করে দিতে পারে ১২.৩ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প।


পাম জুমেইরাহতে মোট ৪৫০০ বাড়ি, এপার্টমেন্ট আছে এবং এতে মোট ৭০ হাজারেরও বেশি লোক থাকতে পারে। সবচেয়ে ব্য্যবহুল বাড়ির দাম ১.২ মিলিয়ন ডলার। পাম জুমেরাহ জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত বাড়ি বিক্রি হয়ে যায়।

২০০৮ সালে সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয় পাম জুমেইরাহ এর নির্মাণ কাজ। প্রযুক্তির অগ্রগতির এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে এই পাম জুমেইরাহ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৯
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×