সুর্যাস্তের আগেই আমি ফিরে আসি
সুর্যাস্তের আগেই আমার ফেরার কথা ছিল
দুচোখে সদ্য পাওয়া আঁধার নিয়ে মা বসে আছেন,
ন্যাপথালিনের গরীব ঘ্রান মাখা সাদা শাড়ি।
শাড়ীর শরীরে দু একটা হলুদাভ আয়রনের দাগ; দাঁত বিকিয়ে বসে আছে।
উদ্দাম দম্পতির রুগ্ন খাটের মতন কিরমিড় করা
টিনের জং পরা ট্রাংক থেকে তেলাপোকা, কয়েকটা শোলই ইঁদুরের বসবাসে ব্যাঘাত করেই তা আজ বের করা হয়েছে।
বাবার শোক দিবসে জনাদশেক কুটুম, দু-একজন অনাহারী ও এতিমকে খাইয়েছেন, নিজে খেয়েছেন!
অনেকদিন পর উত্তম ভোজের দিনে মুরগী, হাঁস, রুগ্ন খাসি, গরুটার সাথে কাক-কুকুরেরও কপাল ভাল আজ।
সন্ধ্যা লেগে এলেই কি আকাশে মেঘ করতে হয়!!
নদীর ঐ পাড়ে গরুর সুন্দর ঘাসই নয়, আছে এক বিন্নি নারীর নরম আঁচল, ঘর্মাক্ত কপাল, রাগী তেজি চোখের আহবান। প্রতিদিনের মতই আমার ব্যস্ততা দেখে, নদীর পড়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কিশোরী আমার গাল ফোলায়, অভিমানে কুটিকুটি হয়ে যায় তার সবুজ হৃদয়। আকাশের সাথে সমানুপাতিক হারে জল নামে, চোখে, মনে।
হায়! এমন বৃষ্টিও অফলা হয়ে যায়।
সুর্যাস্তের আগেই আমার ফেরার কথা ছিল।
সন্ধ্যায় তবু আমি ফিরে এলাম, ফিরে আমাকে আসতেই হয়।
বৃষ্টি-মুখর কালোসন্ধ্যায় ফুঁটোটিনের ঘরে পথ চেয়ে মা বসে আসেন।
ঘরে ফিরে আমি দ্বি-খন্ডিত হয়ে যাই, নিজেই বৃষ্টি নামাই।
আমার তখন কিছুই ভাল লাগেনা।
প্রভু,
কিশোরীরা কেন বার বার নদীর ঐ পাড়ে থাকে - এই পাড়ে আমার মা!
আমার হিসাব তো মেলেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



