আমি আজ জেনারেল ব্লগার হলাম । ধন্যবাদ মডারেটরদের । যেহেতু এখন থেকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ পাবো । সো একটা লেখা রি পোস্ট করলাম । কেমন লাগলো জানাবেন । সবার শুভ কামনা চাই
বিয়ে আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থায় একটি অনস্বীকার্য বিষয় । যুগ যুগ ধরে চলে আসছে আমাদের দেশে নিয়ে ব্যবস্থা । শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বেকার, ধনী, গরিব, শ্রমিক, রাজনীতিবিদ মোটামুটি সবাই বিয়ের স্বাদ গ্রহন করে । কিন্তু এই বিয়ে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু ভাবনা আছে যা শেয়ার না করলেই নয় ।
১। আপনি ভাল ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডার, বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর উচু পদের কর্মকর্তা বা দেশী বিদেশী ব্যাংকের কর্মকর্তা যাই হোক না কেন, যতক্ষণ আপনাকে আপনার বাবা মা বিয়ে করাতে না পারছে ততক্ষণ আপনি তাদের চোখে পুরোপুরি সফল নন । কথাটা ছেলে বা মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে? বিবাহের অনেক গুলো আউটপুটের মাঝে সঙ্গম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । দম্পতির মাঝে আর কিছু হোক বা না হোক, তারা একে অপরকে মানুষ ভাবুক বা না ভাবুক, সঙ্গম তো অবশ্যই ঘটবে । তাই না? সো সঙ্গমেই জীবনের আল্টিমেট সাফল্য নিহিত । ঠিক না হলে ধরায়ে দিবেন আশা করি । উল্লেখ্য সঙ্গম বিয়ে ছাড়াও করা যায়, যদি বিশ্বস্ত কেউ থাকে ।
২। ধরুন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে জব লাইফে গেলেন । অনেক দিন পরে কোন এক রি-ইউনিয়ন এ আসলেন । ছেলেরা একে অপরকে বলে কিরে? বিয়ে করেছিস? তারা একে অপরকে কোন এক মেয়ের নাম ধরে বলে কিরে? অমুকের কি বিয়ে হয়েছে? এমনকি মেয়েরাও একে অপরকে বলে, কিরে তোর বিয়ে হয়েছে? আমার প্রশ্ন কেন? বিয়ে কি ছেলেরা একা করে? বিয়ে তো দ্বিমুখী প্রক্রিয়া । পাত্র কন্যা উভয়কেই কবুল বলতে হয় রেজিস্ট্রি করতে হয় । তাহলে করেছিস আর হয়েছে কথাটা কেন?
৩। বিয়ের পরে মেয়েদের যোগ্যতা হয়ে দাড়ায় সে ঘরের কাজ কেমন করে? গ্রীষ্ম কালে বাপের বাড়ি থেকে ফলমূল কেমন আসে? শাশুড়ির সাথে ফ্রেন্ডলি কিনা ইত্যাদি । আর ছেলেদের যোগ্যতা দেখা হয় বেতন কত পায়, দেনমোহর নগদ শোধ করলো কিনা, করলে টাকাআআ নিয়ে নাকি গয়না দিয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি।
৪। ৩০/৩৫/৪০/৪৫/৫০/৫৫/৬০ বিভিন্ন বয়সে কোন পুরুষ বিপত্নীক হলে সে আবার বিয়ে করে, করবেই । ২/৩ বছরের সংসার, নিঃসন্তান অবস্থায় হঠাৎ স্ত্রী গত বা ২/৩ মাস বা এক বছরের বাচ্চা রেখে স্ত্রী গত হওয়া এই টাইপ সিচুয়েশনে মানা যায় । কিন্তু ছেলেমেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক এমনকি ছেলেমেয়ে সবাই বিবাহিত এমন কন্ডিশনেও পুরুষ বিয়ে করবেই । অনেকেই বলবেন বৃদ্ধ বয়সে নিঃসঙ্গতা বলে একটা বিষয় আছে । তাহলে সেটা নারীদের বেলায় নেই কেন? ৩০/৩৫/৪০/৪৫/৫০/৫৫/৬০ বয়সী কোন নারী বিধবা হয়ে আবার বিয়ে করলে তাকে কেন সমাজের চোখে বাকা দৃষ্টিতে দেখা হয়? যৌন কামনা কি নারীদের নেই? নিঃসঙ্গ কি তাদের লাগে না?
৫। এবার আসি টিপিক্যাল বাঙালি মধ্যবিত্ত নারীদের কথায় । তারা যেটা করে সেটা হল তাদের ভাই যদি বিপত্নীক হয় তাহলে তাকে বিয়ে করানোর ব্যপারে মরিয়া হয়ে ওঠে । তাদের ছেলে বিপত্নীক হলেও একি তাড়না । কিন্তু যেই তাদের মৃত বোনের হাজব্যান্ড আবার বিয়ে করতে চায় তারা তা মেনে নেয় না বা তাদের মৃত কন্যার জামাই পুনরায় বিয়ে করতে চায় সাথে সাথে সম্পর্কচ্ছেদ । সেলুকাস । তালগাছ টা আমার স্টাইল ।
৬। আমাদের মধ্যবিত্ত বাবা মা দের আরেকটা প্রবলেম আছে । ধরুন কোন দুর্ঘটনায় আপনার স্ত্রী গত হয়েছে বা অনাকাঙ্খিত ঘটনায় আপনার সাথে আপনার স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে । আপনি পুনরায় বিয়ে করতে আগ্রহী । আপনার বাবা মা প্রান পণে চেষ্টা করবে আপনাকে বিয়ে দিতে । হয়তো সফল্কাম হবেও ।
এইবার উল্টাটা চিন্তা করেন । আপনি একজন ফ্রেশার । বিয়ের বয়স হইসে । আপনার সাথে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে একজন শিক্ষিতা সুন্দরী বিধবা নারীর বা ডিভোর্সড নারীর । বাসায় এসে বললেন আব্বা, বিয়ে করবো । সব শুনে আপনার বাবা মা আপনাকে ত্যাজ্য করবে বা বাসা থেকে বের করে দিয়ে বলবে অন্য কোথাও সংসার কর । আমার বাসায় না ।
৭। আমি প্রায়ই দেখি অন্যের বিবাহিত স্ত্রী সুন্দরী কিনা নাকি কম সুন্দরী, সাদা নাকি কালো ইত্যাদি নিয়ে কিছু পুরুষ কে মন্তব্য করতে । লাভটা কি রে ভাই? অন্যের স্ত্রী যদি সুন্দরী হয়েও থাকে তাহলেও তো দিনশেষে বিছানায় ওই লোকটাই থাকবে ওই সুন্দরীর সাথে । আপনার কোন লাভ নাই ।
ঠিক তেমনি কিছু মহিলা কে শুনি অন্যের হাজবেন্ড এর টাক আছে কি নাই, ভুঁড়ি বেশি নাকি অল্প, বেতন কেমন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে ।
৮। আমার লাস্ট কথা । শ্বশুর জামাই, শালা দুলাভাই ইত্যাদি সম্পর্ক গুলো বেশ ফ্রেন্ডলি হয় । কিন্তু ভাবী+ দেবর, ননদ, শাশুড়ি পুত্রবধু ইত্যাদি সম্পর্ক গুলোতে ঝামেলা থাকে কেন?
যাই হোক, এই হল আমার বিয়ে বিষয়ক ভাবনা । উপরোক্ত কোন সিচুয়েশনেই আমার পড়ার ইচ্ছে নাই । সবাই ভালো থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

