বাংলাদেশে এত ভারত-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা ?
বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভারত আসলে একটা ইন্টারেস্টিং ইস্যু৷ দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠি, অনুমান করি হয়তো অর্ধেকের চেয়ে বেশী, ভারতকে বন্ধুভাবাপন্ন দেশের চেয়ে বরং সন্দেহজনক প্রতিবেশী হিসেবে দেখে থাকে৷ না আমি জামাত পন্থি ৩/৪% লোকের কথা বলছি না, তাদের ক্যালকুলেশন আলাদা৷ গত কয়েকদিন ব্লগে বেশ কয়েকজন ব্লগার ভারতের ব্যাপারটা সামনে আনতে চাচ্ছেন, তা আনাই উচিত৷ গত এক বছরে ব্লগের একটা গুনগত পরিবর্তন হয়েছে৷ বলতে গেলে অনেক বড় পরিবর্তন, যারা আমার মতো গত বছর এই ব্লগে ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ব্লগটা ছিল পুরোপুরো জামাত শিবিরদের আখড়া৷ এদেরকে ঠিক কারা খবর দিয়েছে জানি না, তবে এরা শুরু থেকেই আছে, আবার সবাই সবার সাথে লিংক্ড৷ মানে সবাই এক নেটওয়ার্কের, ওদের জালের বাইরের জামাতি কম৷ তো পরিবর্তনটা হচ্ছে জামাতি আস্ফালন আর নেই বললেই চলে, ওরা স্থায়ীভাবে সাইডলাইন্ড হয়েছে, যেমনটা হওয়ার কথা৷ এটা সম্ভব হতো না, যদি না আমরা সমস্যাটা সরাসরি মোকাবেলা না করতাম৷
ভারতের প্রসঙ্গটাও এরকম খোলামেলা আলোচনা করা উচিত৷ কারন এখানে ইনফরমেশনের সহজলভ্যতা এবং স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক কুট কৌশল বেশ কঠিন৷ যেটা সত্য সেটা লুকিয়ে ধানাই পানাই করে পার পাওয়া অসম্ভব৷ তবে ভারতের ইস্যুটা বেশ জটিল, কারন ভারতের সব কাজকর্ম একজন বাংলাদেশীর কাছে বন্ধুসুলভ বলে মেনে নেয়া কঠিন৷ মুক্তিযুদ্ধের ইস্যুর মতো সাদাকালোতে ভাগ করা যায় না৷ যেমন ফারাক্কা বা হালের টিপাই বাধ সন্দেহ নাই বাংলাদেশের জন্য হুমকি, এবং একদম কিছু না করলে সেটাও ভুল হবে৷
তবে কি করা উচিত সে আলোচনার আগে, ভারত বিরোধিতা নিয়ে কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করা যেতে পারে৷ যেমন ভারত যদি একটা মুসলিম প্রধান দেশ হতো তাহলেও কি ভারতের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম থাকতো? মনে হয় না৷ আবার যদি এমন হতো ভারত মুসলিম দেশ কিন্তু আমরা হিন্দুপ্রধান দেশ হতাম, তাহলে? ভারত বিরোধিতার সুত্রপাত পাকিস্তান আমলে, ভারতের জন্য যতটা না ভারত বিরোধিতা তার চেয়ে বেশী বিরোধিতা ভারত হিন্দু প্রধান দেশ বলে৷ এখনকার পাকিস্তান নিয়ে একটা মন্তব্য দেখেছিলাম (সম্ভবত টাইম ম্যাগাজিনে) নানা জাতি উপজাতিতে বিভক্ত সমস্যাসঙ্কুল পাকিস্তানের একমাত্র ইউনিফায়িং উপাদান হচ্ছে ভারত বিরোধিতা অথবা হিন্দু বিরোধিতা৷ হতেও পারে৷ এটা ঐ দেশের এবং আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটা ভীষন গুরুত্বপুর্ন উপাদান, কারন এদুদেশের মানুষ আসলেই ভারতকে অপছন্দ করে৷ এর পেছনে কারনও আছে, ৪৭ এ স্বাধীন হওয়ার আগে বেশ রক্তারক্তি হয়েছিল, তখন যে একটা তিক্ততা তৈরী হয়েছিল সেটা কখনই কাটেনি, আবার সাময়িক পলিটিকাল গেইনের জন্য রাজনৈতিক/সামাজিক নেতারাও তিক্ততা/বিতৃষ্ঞা ধরে রাখতে চেয়েছেন৷ ভারতেও মুসলিম বিরোধিতা কাজে দেয়, বিজেপির এই মুলধন এতই কাজে দেয় যে, গত কয়েকবছর ধরে ওরা ক্রমাগত প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে৷ পশ্চিম বঙ্গের চেয়েও এই প্রচারগুলো বেশী চলে মহারাস্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে৷ ভোটের রাজনীতিতে কংগ্রেস বা বামপন্থিদের ঘায়েল করার জন্য এটা একটা দরকারী ইস্যু হিন্দু জাতিয়তাবাদী দলগুলোর, ঠিক যেমন ভারত ইস্যু জামাত-বিএনপি (আগে মুসলিম লীগ) কাজে লাগায়৷
রাজানীতিবিদরা ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করবেন এজন্য তাদের দোষ দেই না, কারন এটা তাদের পেশা৷ কিন্তু জনগনের জন্য সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে সম্ভব? যেমন ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে আমরা যদি ভীষন আন্দোলন লংমার্চ করি, তাতে ওরা ফারাক্কা বাধ ভেঙ্গে ফেলবে? ওদের দেশে যে বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে এত তুলকালাম কান্ড হচ্ছে, প্রায়ই পত্রিকার শিরোনামে আসছে, সেই খবর আমরা কয়জন পাই৷ সত্যিকার অর্থে এটা যে একটা ইস্যু হওয়ার যোগ্যতা রাখতে পারে, আমি দেশের বাইরে না আসলে বিশ্বাস করতাম না৷ কারন এমনিতে হাস্যকর একটা ব্যপার যে বাংলাদেশ থেকে লাখে লাখে মুসলিম ভারতে অনুপ্রবেশ করছে, যেটা ওদের দাবী, বাংলাদেশ থেকে লোকে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়শিয়া যায় কামলা দিতে, তাই বলে কাতারে কাতারে ভারতে যাচ্ছে, এমন রিপোর্ট কোনদিন বাংলাদেশী পত্রিকায়ও দেখিনি৷ অথচ আমার পরিচিত অনেক দক্ষিন ভারতীয়রা এটাকে সত্য বলেই বিশ্বাস করে৷ সুতরাং মিডিয়াতে ভারত বিরোধি আস্ফালন করলেই যদি সমাধান হয়ে যেত তাহলে পরিস্থিতি এতদুর গড়াতো না৷
সমাধান কিভাবে করা যেতে পারে? ধরা যাক ত্রিপুরা একটা স্বাধীন দেশ আর আমাদের সিলেট জেলা থেকে কয়েকটা নদী ত্রিপুরাতে গিয়েছে৷ আমরা সিলেটে বাধ দিয়ে ওদের বারোটা বাজিয়ে দিলাম৷ তো এখন কি করলে ত্রিপুরাবাসি এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে পারে?
- প্রথমে বলে রাখি আমাদের বাধের জন্য ত্রিপুরায় যে এত সমস্যা হচ্ছে এটা আমাদের জানার সম্ভাবনা বেশ কম৷ কোন রাজনৈতিক দল এটা জানানোর দ্বায়িত্ব নেবে না ভোট হারানোর ভয়ে৷ যেমন বাস্তবে কাপ্তাই বাধ দিয়ে যে আমরা চাকমাদের অসংখ্য জমি জমা, চাকমা রাজার প্রাসাদ, আরও অন্যান্য পুরাকীর্তি ধ্বংস করেছি এটা আমরা কয়জনে জানি? আমি জানতাম না, কারো মুখে কখনও শুনিও নাই৷ এইজন্য বাংলাদেশের মুলভুখন্ডের কেউ সরব প্রতিবাদ করেছে বা এখন করছে তাও কানে আসে নি৷ দেশের ভেতরেই যদি এই অবস্থা হয়, অন্য দেশে হলে কি হতে পারে বলাই বাহুল্য৷
- এখন ত্রিপুরায় এই নিয়ে যদি আন্দোলন, মিডিয়াতে বাংলাদেশ ব্যাশিং হয় তাতে আমাদের সহানুভুতি বাড়বে?
- পাল্টা আন্দোলন আমাদের দেশেও চলতে পারে৷ এবং পাল্টা-পাল্টির এই খেলায় সমাধানের সম্ভাবনা কম৷
যেটা করা যেতে পারে তা হলো অন্যদেশটাতে জনমত তৈরী করা৷ যেমন ফারাক্কা, টিপাই, বিএসএফ এসব সমস্যাগুলো ভারতের জনগনের কাছে আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে প্রকাশ করা৷ ওখানকার সাধারন মানুষ, বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক মহলে এগুলোর গুরুত্ব নিয়ে জনমত তৈরী করা৷ বেশীরভাগ ভারতীয় এমনকি পশ্চিম বঙ্গের লোকজন জানেই না যে ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশে কি রকম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে৷ আমরা অনেকে হয়তো জানি না কলকাতার বুদ্ধিজীবি সমাজ সচরাচর বাংলাদেশের পক্ষে থাকে৷ সেই একাত্তর থেকে শুরু৷ অল্প কিছু বিজেপির লোকজন ছাড়া বেশীরভাগকে বাংলাদেশের পাশে পাওয়ার কথা৷ কিন্তু আমরা কি কখনও নদী সমস্যার ভয়াবহতা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করেছি? বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক নেতাদেরকে বাংলাদেশে ডেকে এনে সরেজমিনে দেখিয়ে দেয়া যায় রাজশাহী, পাবনা বা কুষ্টিয়া এলাকায় কিভাবে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে৷ ভারতীয় মিডিয়াতে এই নিয়ে কলাম লেখা যেতে পারে৷ ভারতে গিয়ে ডকুমেন্টারি দেখানো যেতে পারে, সংবাদ সম্মেলন করে জনসাধারনকে জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে৷ মোদ্দা কথা হচ্ছে বাধ-ফাদে যে আমাদের ভীষন সমস্যা হচ্ছে এটা ঐ দেশের আমজনতাকে জানানো দরকার, বাংলাদেশের সমস্যাটার গুরুত্ব বুঝিয়ে সিম্প্যাথি তৈরী করা দরকার৷
ঘরে বসে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে বোকামি করার মানে হয় না৷ তাও যদি ভারতের সাথে যুদ্ধ করে পোষাতো৷ একটা চড় মারতে গেলে দুটো লাথি খেয়ে আসার সম্ভাবনা আছে৷ দুদেশের শুধু রাজনৈতিক নেতা নয় বরং জনসাধারনের মধ্যে বোঝাপড়া দরকার৷ একটা সুবিধা হচ্ছে ভারত গনতান্ত্রিক দেশ, রাজনীতিবিদরা যতই কৌশলি হোক ওখানে, বাংলাদেশের পক্ষে সেন্টিমেন্ট তৈরী করতে পারলে সমস্যার সমাধান না করে উপায় নেই৷ দুঃখজনক হচ্ছে সেই চেষ্টাটা না করে আমরা ঢিল ছোড়া ছুড়ির পন্থাটা নিতে চাই৷
অবশ্য ভারতের সাথে সমস্যাগুলো না থাকলে বিএনপি জামাতের একটু অসুবিধা হবে৷ এজন্য গত ৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা না ফারাক্কা না টিপাই নিয়ে কোন আলোচনা করেছে৷ আওয়ামী লীগ আমলে একবার সাময়িক কিছু সমাধান পাওয়া গিয়েছিল, তাও পরে আওয়ামী লীগের আগ্রহের অভাবে বা ইচ্ছা করেই হয়তো পুরোটা সমাধান হয় নি৷ তবে যেটা লক্ষ্যনীয় তা হলো, একবার যতটুকু সমাধান পেয়েছিলাম সেটাও আলোচনার মাধ্যমে ঘরে বসে লংমার্চ আন্দোলন করে নয়৷
বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা আওয়ামি লিগ অফিসের নামে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি চিঠি পাঠিয়েছে । সেই চিঠির অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে । পত্রলেখকরা লিখেছে-শেখ হাসিনাকে অবশেষে ধরা হয়েছে । এখন আইয়ামি লিগ রাখা হবে না । অফিসের তালা খুললেই অফিস উড়িয়ে দেওয়া হবে । সাবধান ! এদেশে ভারতীয় শাসন চলতে দেওয়া হবে না । সব ধরা হবে । জামায়াতে ইসলামি ছাড়া আর কোনও দলমত এদেশে চলবে না ইনশাল্লাহ । হাসিনার দল যে করে সে জারজ সন্তান .....ইত্যাদি ।
চিঠির অংশবিশেষই বক্তব্যের গভীরতা বোঝাতে যথেষ্ট । যে দেশটির স্বাধীনতায় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের বিশাল অবদান , যে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে মুক্তিযুদ্ধ পর্বে কোটিরও বেশি বাংলাদেশী শরণার্থীকে দীর্ঘদিন খাইয়ে-পরিয়ে রেখেছিল ভারত ,স্বাধীনতা পাওয়ার পর যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যে বাংলাদেশকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল ভারত , সেই বাংলাদেশে এত ভারত - বিদ্বেষ কী করে পুঞ্জীভূত হতে পারে ! এ বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা ? ভাবলে অবাক হতে হয় ।
এটা ঠিক স্বাধীনতা পাওয়ার পর ওদেশে রাজাকার,আলবদর,জামায়াত ও অন্যান্য পাকিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । সেই সুযোগে এরা ফুলে-ফেঁপে উঠতে পেরেছে । মুক্তিযুদ্ধ পর্বে লুটপাট চালিয়েছে , স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা সুবিধা ভোগ করছে । আর এই সমস্ত সুযোগ সুবিধার মধ্যে বাস করে তারা কেবল ভারত-বিদ্বেষকেই বাড়িয়ে তুলেছে । হাসিনা বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেই কি তিনি ভারতের আজ্ঞাবহ ?
একটি সংবাদপত্রে পড়লাম , যাতে উল্লেখ আছে আইয়ুব খানের পথে পা ফেলছেন বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল মঈন । হাসিনাকে নাকি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী হত্যা করতে দ্বিধা করবে না । কারণ সম্ভবত একটাই - বাংলাদেশকে পাকিস্তান করে তোলার পথে যাবতীয় কাঁটা দূর করা । হাসিনা থাকলে তা সম্ভব নয় । এদিকে জানা গেছে হাসিনার দূত এসেছেন দিল্লিতে । তাঁরা চাইছেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যবস্থা নিক ভারত , হাসিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হোক । এ চাওয়া অন্যায্য নয় । যে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল ভারত সে দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভালোবাসাকে যদি কেউ হত্যা করতে চায় প্রতিবেশী হিসাবে ভারত পদক্ষেপ নিতেই পারে । নেওয়া উচিতও । ভারতের মানুষ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চায় , এ দেশ পাকিস্তান বনে যাক এটা ভারতবাসী চায় না । জেনারেল মঈন অথবা বর্তমান তদারকী সরকারের বোঝা উচিত পাক সেনা নায়কদের পথই প্রকৃষ্ট পথ নয় , সে পথে হাঁটলে বিপদ । একদিন আমেরিকার দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা জেগে উঠতে পারে । এখন সেরকম শঙ্কাই তো পাক জনগণের মনে ।
বাংলাদেশে এত ভারত-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা ?[/sb
এক অংশে ধর্মের ছুঁতো এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত অহেতুক ভারতবিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত বাঙালীকে বাংলাদেশি করে তোলার আপ্রান চেষ্টা চলছে অন্য অংশে একই রকম ধর্মের ঠুনকো মৌলবাদ এবং রাজনৈতিক-সামাজিক মিথ্যাচার দিয়ে বাঙালীকে শুধুই ইন্ডিয়ান বানানো হচ্ছে। আজ আমার ওপারের বন্ধু মজন্তালি সরকার যখন বলেন, “এপারে একটা বাজে ধারনা লোকের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বাংলাদেশী মানেই ধর্মান্ধ হিন্দু বিদ্বেষী মুসলিম মৌলবাদী। এবং ঠিক এর উল্টোটা করা হয়েছে পূর্ববঙ্গে। আমি এই সব বিষাক্ত ধারনার অবসান চাই। এই ধারনাকেই অস্ত্র করে বাংলার জমি ছিঁড়ে দুটুকরো করে আজ বাইরের লোকেরা তাদের পুতুলদের ক্ষমতায় বসিয়ে আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। পূব-পশ্চিম দুদিকেই।”, আমি মর্মাহত হই!
পৃথিবীর বুকে বাঙালী জাতির একমাত্র স্বাধীন ভূখন্ড বাংলাদেশ’ অর্জনের গর্ব একমাত্র বাঙালীর। ভাষা আন্দোলনের অকুন্ঠ সমর্থন থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন দুই কোটি বাঙালীর নিরাপদ আশ্রয় পর্যন্ত কাটাতারের ওপারের বাঙালিরা যে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছে এর জন্য শুধু ধন্যবাদ জ্ঞাপনই যথার্থ নয় প্রয়োজন ভাতৃত্ববোধ।মুক্তিযুদ্ধে ওপারের সাধারন মানুষের সমস্ত প্রকার সহযোগীতাকে পাশ কাটিয়ে কেন ইন্ডিয়ান আর্মির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশগ্রহনকেই বড় করে দেখা হচ্ছে! কেন ওপারের মানুষদের ভাবতে শেখানো হচ্ছে যে বাংলাদেশ ধর্মান্ধ এক ব্যর্থ রাষ্ট্র!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

